বাড়ি > ময়দান > 'বাগান সমর্থক জ্যাঠা-কাকার বঞ্চনা, তাই ইস্টবেঙ্গলের সদস্য বাবা', লালু-হলুদ প্রেমে হাবুডুবু শ্রেণিক শেঠ
ইস্টবেঙ্গলের প্রথম আজীবন সদস্য ছিলেন শ্রেণিক শেঠের বাবা লক্ষ্মীচাঁদ শেঠ (ছবি সৌজন্য ফেসবুক)
ইস্টবেঙ্গলের প্রথম আজীবন সদস্য ছিলেন শ্রেণিক শেঠের বাবা লক্ষ্মীচাঁদ শেঠ (ছবি সৌজন্য ফেসবুক)

'বাগান সমর্থক জ্যাঠা-কাকার বঞ্চনা, তাই ইস্টবেঙ্গলের সদস্য বাবা', লালু-হলুদ প্রেমে হাবুডুবু শ্রেণিক শেঠ

  • ইস্টবেঙ্গলের প্রথম আজীবন সদস্য শ্রেণিক শেঠের বাবা লক্ষ্মীচাঁদ শেঠ।

মোহনবাগান সমর্থক জ্যাঠা-কাকার কাছে বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছিল। তার জবাব দিতে বাবা লক্ষ্মীচাঁদ শেঠ ইস্টবেঙ্গলের সদস্যপদ গ্রহণ করেছিলেন। বাবার হাত ধরেই ইস্টবেঙ্গল প্রেমের শুরু। আর সেই ছেলে শ্রেণিক শেঠের হাত ধরেই নতুন আইএসএল অভিযানে সামিল হয়েছে লাল-হলুদ শিবির। 

‘আজকাল’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শ্রেণিক জানিয়েছেন, বছর ৩০০ আগে রাজস্থান থেকে তাঁর পূর্বপুরুষরা কলকাতায় এসেছিলেন। শুরু করেছিলেন ব্যবসা। গয়নার ব্যবসা শুরু হয়েছিল তাঁর দাদুর আমলে। সেই সময় মাঝেমধ্যেই খেলা দেখতে যেতেন পরিবারের সন্তানরা। লক্ষ্মীচাঁদেরও ফুটবলের প্রতি টান ছিল। তখন ইস্টবেঙ্গলের কিংবদন্তি কর্তা জ্যোতিষ গুহ, নলিনবিহারী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল। সেভাবেই সব চলছিল। স্পোর্টিং ইউনিয়ন ক্লাবের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছিলেন। এরইমধ্যে লক্ষ্মীচাঁদের বাবার মৃত্যু হয়। সেই সময় লক্ষ্মীচাঁদের বয়স ছিল ১৯।

লগ্নিকারী সংস্থা ও লাল-হলুদের অ্যাডভাইজার জানান, তাঁর দাদুর মৃত্যুর পর জ্যাঠা-কাকাদের ভাগে বেশিরভাগ সম্পত্তি গিয়েছিল। লক্ষ্মীচাঁদের কপালে তেমন কিছু জোটেনি। সেই বঞ্চনা নিয়েই কোনওক্রমে ব্যবসা শুরু করেছিলেন লক্ষ্মীচাঁদ। তাতে অবশ্য খেলার প্রতি ভালোবাসার ভাঁটা পড়েনি। বরং দাদা-ভাইয়ের বঞ্চনার জবাব দিতে বেছে নিয়েছিলেন ফুটবলতেই। ১৯৩৯ সালে গ্রহণ করেছিলেন লক্ষ্মীচাঁদ ইস্টবেঙ্গলের আজীবন সদস্যপদ। শ্রেণিক জানান, সেই সময় আট আনা দিয়ে সাধারণ সদস্যপদ পাওয়া যেত। কিন্তু ৫০০ টাকা দিয়ে সদস্য হয়েছিলেন লক্ষ্মীচাঁদ। যিনি ইস্টবেঙ্গলের প্রথম আজীবন সদস্য। তাঁর হাত ধরেই বছরদুয়েক লাল-হলুদের সদস্যপদ গ্রহণ করেছিলেন জ্যোতিষ গুহ।

বাবার ভালোবাসার প্রেমে পড়েছিলেন শ্রেণিকও। জানান, বিভিন্ন পেশায় যোগ দিলেও বরাবরই লেসলি ক্লডিয়াস সরণির মাঠে তাঁর নিয়মিত যাতায়াত ছিল। ১৯৯৩ সালে লাল-হলুদের সদস্যপদও গ্রহণ করেন। তাঁর কথায়, ‘বাবার ইস্টবেঙ্গল প্রেম আমাদেরও লাল-হলুদের কাছের মানুষ করে তোলে।'

কিন্তু শ্রী সিমেন্টের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত ছিলেন? শ্রেণিক জানান, পারিবারিক সূত্রে আগে থেকেই আলাপ ছিল হরিমমোহন বাঙুরের সঙ্গে। পরে সংস্থার বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত কাজের দায়িত্ব পেয়েছিলেন শ্রেণিক। তাঁর মতো বাঙুর পরিবারের রংও লাল-হলুদ। সেজন্য ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবে দ্বিধা করেননি বাঙুররা। আর শতবর্ষে নিজেদের প্রিয় ক্লাবের সঙ্গে জড়িয়ে সবাই উত্তেজিত বলে জানান শ্রেণিক। 

বন্ধ করুন