বাংলা নিউজ > ময়দান > মণিকার করা গড়াপেটা মামলায় দোষী সাব্যস্ত সৌম্যদীপ, পেতে পারেন বড় শাস্তি
মনিকা বাত্রা এবং সৌম্যদীপ রায়ের সঙ্গে সুতীর্থা মুখোপাধ্যায়।

মণিকার করা গড়াপেটা মামলায় দোষী সাব্যস্ত সৌম্যদীপ, পেতে পারেন বড় শাস্তি

  • গত বছর সেপ্টেম্বরে মণিকা একটি মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, জাতীয় দলের তৎকালীন কোচ সৌম্যদীপ রায় তাঁকে অলিম্পিক্সের যোগ্যতা অর্জন পর্বের একটি ম্যাচ ছেড়ে দিতে বলেছিলেন। ম্যাচটি মণিকা হারলে টোকিও অলিম্পিক্সে সুতীর্থার যোগ্যতা অর্জন করা সহজ হত। উল্লেখ্য, সৌম্যদীপের কাছেই প্রশিক্ষণ নিতেন সুতীর্থা।

দিল্লি হাইকোর্টের রায়ে মারাত্মক চাপে পড়ে গেল জাতীয় টেবিল টেনিস দলের কোচ সৌম্যদীপ রায়। ম্যাচ গড়াপেটার দায়ে অভিযুক্ত হলেন সৌম্যদীপ। টেবিল টেনিসের তারকা প্লেয়ার মণিকা বাত্রার করা মামলার রায়ে দিল্লি হাইকোর্ট দোষী সাব্যস্ত করেছে সৌম্যদীপকে। যার ফলে আরও কড়া শাস্তি হতে পারে বাংলার টেবিল টেনিস তারকা। টেবিল টেনিস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার এক্সিকিউটিভ কমিটিকেও ছ’মাসের জন্য নির্বাসিত করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, সংস্থার কাজ পরিচালনার জন্য এক সপ্তাহের মধ্যে নিয়োগ করা হবে প্রশাসক।

টোকিও অলিম্পিক্সের সময় থেকেই সৌম্যদীপের সঙ্গে তীব্র ঝামেলা চলছিল মণিকার। গত বছর সেপ্টেম্বরে মণিকা একটি মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, জাতীয় দলের তৎকালীন কোচ সৌম্যদীপ রায় তাঁকে অলিম্পিক্সের যোগ্যতা অর্জন পর্বের একটি ম্যাচ ছেড়ে দিতে বলেছিলেন। ম্যাচটি মণিকা হারলে টোকিও অলিম্পিক্সে সুতীর্থা মুখোপাধ্যায়ের যোগ্যতা অর্জন করা সহজ হত। উল্লেখ্য, সৌম্যদীপ রায়ের কাছেই প্রশিক্ষণ নিতেন সুতীর্থা।

যে কারণে মণিকা অলিম্পিক্স সিঙ্গলসে সৌম্যদীপের কোচিংয়ে খেলতে রাজি হননি। মণিকার বক্তব্য ছিল, কয়েক মাস আগে ম্যাচ গড়াপেটায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন সৌম্যদীপ, ফলে তাঁর কোচিংয়ে খেললে মনোসংযোগে সমস্যা হবে। জাতীয় দলের কোচের অধীনে খেলতে অস্বীকার করায় মণিকাকে শোকজ করে টেবিল টেনিস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া। তার পরও অবশ্য মণিকার ব্যক্তিগত কোচ সন্ময় পরাঞ্জাপেকে অলিম্পিক্সে ট্রেনিং করানোর অনুমতি দেওয়া হয়। যদিও ম্যাচে তাঁর প্রবেশাধিকার ছিল না। 

দেশে ফিরে আসার পর টিটিএফআই আবার শো কজ করেছিল মনিকাকে। অলিম্পিক্স চলাকালীন জাতীয় কোচের নির্দেশ অমান্য কেন করেছিলেন, তাও জানতে চাওয়া হয়। জবাবে মনিকা গড়াপেটার অভিযোগ করলেও তা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। উল্টে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের আগে তাঁকে টিম থেকে বাদও দেওয়া হয়।

প্রাক্তন জাতীয় প্লেয়ারের বিরুদ্ধে ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগ এনেই দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মণিকা। অভিযোগের ভিত্তিতেই একটা কমিটি গঠন করেছিল আদালত। তিন সদস্যের ওই কমিটি পুরো ব্যাপারটা খতিয়ে দেখার পর রিপোর্ট দিয়েছিল। তারই ভিত্তিতে সৌম্যদীপ ও টিটএফআই— উভয় পক্ষই রীতিমতো চাপে। শুক্রবার দিল্লির উচ্চ আদালতের রায়ে সৌম্যদীপ দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। পাশাপাশি সর্বভারতীয় টেবল টেনিস ফেডারেশনও ব্যাপক চাপে পড়ে গিয়েছে। মনিকা গড়াপেটার অভিযোগ জানালেও, তা কেন গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়নি, এই অভিযোগও উঠছে টিটিএফআইয়ের বিরুদ্ধে। আর তাই ফেডারেশনের কার্যকরী সমিতিকে ছ’মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। আদালত দ্রুত অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিযুক্ত করবে। সৌম্যদীপকেও সাসপেন্ড করা হয় কিনা, সেটাই এখন দেখার।

বন্ধ করুন