বাংলা নিউজ > ময়দান > মৃত সাগরদের মারধরের ভিডিয়ো করিয়েছিলেন সুশীল, চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল্লি পুলিশের
সুলীল কুমার।
সুলীল কুমার।

মৃত সাগরদের মারধরের ভিডিয়ো করিয়েছিলেন সুশীল, চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল্লি পুলিশের

  • গত সপ্তাহে সুশীল আগাম জামিনের দরখাস্ত করেছিলেন। সেখানে তিনি নিজেকে নিরপরাধী বলেও দাবি করেন। কিন্তু তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করা হয়।

এ যেন অনেকটা সিনেমায় দেখা গল্প। নিজের প্রভাব, আধিপত্য বজায় রাখার জন্যই সাগর ধনখড়দের মারধর করার ভিডিয়ো সুশীল কুমার করে রাখতে বলেছিলেন ছত্রসাল স্টেডিয়ামের অন্য সদস্যদের। যাতে ভবিষ্যতে কেউ তাঁর বিরোধীতা করার সাহস না পান! ছত্রসাল স্টেডিয়ামের খুনের মামলায় এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। 

দিল্লি পুলিশের তরফে জানা গিয়েছে, সুশীল কুমার তাঁর বন্ধু প্রিন্সকে ভিডিয়োটি করতে বলেছিলেন। বাকিরা কেই এই ঘটনার বিরোধীতাও করেননি। সেই ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, জুনিয়র জাতীয় চ্যাম্পিয়ন সাগর ধনকড় এবং তাঁর দুই বন্ধু সোনু ও অমিত কুমারকে মারছেন সুশীল। সুশীলের মার খেয়েই মারা যান সাগর। এর পর আত্মগোপন করেন ৩৭ বছরের কুস্তিগীর। তাঁকে হন্যে হয়ে খোঁজার পর শেষ পর্যন্ত শনিবার গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। সঙ্গে তাঁর বন্ধু অজয় কুমারকেও গ্রেফতার করা হয়। এর পরে তাঁদের কোর্টে তোলা হলে ছ'দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সুশীল এবং তাঁর বন্ধু অজয় কুমারের গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা স্বীকার করেন দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (স্পেশ্যাল সেল) প্রমোদ কুশওয়া। তিনি বলেন, ‘ওদের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, মারধর, ষড়যন্ত্র, হুমকি, অস্ত্র আইনের অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারার অভিযোগ রয়েছে।’

শুনানি চলাকালীন কোর্টকে পুলিশ জানায়, গ্রেফতারি এড়ানোর জন্য গত ১৮ দিনে সুশীল কুমার মোট ৭টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে গা ঢাকা দিয়েছিলেন। এরই সঙ্গেই নিয়মিত সিমকার্ড পাল্টিয়ে গিয়েছেন। সুশীল কুমার এবং এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

গত সপ্তাহে সুশীল আগাম জামিনের দরখাস্ত করেছিলেন। সেখানে তিনি নিজেকে নিরপরাধী বলেও দাবি করেন। কিন্তু তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করা হয়। ছত্রসাল স্টেডিয়ামের ঘটনায় সাগরের মৃত্যুর পরই দিল্লি পুলিশ সুশীলের বিরুদ্ধে লুক-আউট নোটিশ জারি করেছিল। কিন্তু পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন সুশীল। এমন কী তাঁর খোঁজ দেওয়ার জন্য ১লক্ষ টাকার পুরস্কারও ঘোষণা করে দিল্লি পুলিশ। শেষ পর্যন্ত শনিবার পুলিশের জালে ধরা পড়েন ৩৭ বছরের অলিম্পিক্সে পদকজয়ী কুস্তিগীর।

বন্ধ করুন