বাংলা নিউজ > ময়দান > খাওদাওয়া করেননি, পুলিশ লকআপে গোটা রাত ধরেই কেঁদে ভাসিয়েছেন সুশীল কুমার
সুশীল এবং অজয় কুমারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
সুশীল এবং অজয় কুমারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

খাওদাওয়া করেননি, পুলিশ লকআপে গোটা রাত ধরেই কেঁদে ভাসিয়েছেন সুশীল কুমার

  • ছত্রসাল স্টেডিয়ামের হত্যা মামলায় জড়িত দুটি ডাবল-ব্যারেল বন্দুক, সাতটি টাটকা কার্তুজ, দুটি কাঠের মোটা লাঠি এবং পাঁচটি গাড়ি পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে।

অপরাধ করলে তার শাস্তি পেতেই হবে। আর তার জন্য পরে কেঁদেও কোনও লাভ হয় না। যেমন পুলিশ লক আপে বসে নাকি কেঁদেই চলেছেন সুশীল কুমার। সাগর রানা ধনকড়ের হত্যার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছ'দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে তাঁকে। আর তার পর থেকেই নাকি কেঁদে ভাসাচ্ছেন দু'বারের অলিম্পিক্সে পদক জয়ী কুস্তিগীর।

দিল্লির মডেল টাউন পুলিশ স্টেশনে বন্দি রয়েছেন সুশীল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩৭ বছরের সুশীল নাকি  সোমবার রাতে কিছু খেতে চাননি। আর গোটা রাত ধরেই কেঁদে গিয়েছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সুশীল জানিয়েছেন, ছত্রসাল স্টেডিয়ামের ২৩ বছরের কুস্তিগীর সাগরকে তিনি শুধু ভয় দেখাতেই চেয়েছিলেন। মেরে ফেলতে চাননি। কিন্তু ৪ মে সুশীলের মারের জেরেই মারা যান সাগর। আর তার পর থেকেই আত্মগোপন করেছিলেন সুশীল।

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ‘আমরা সুশীল কুমারকে ঠিক কী কী ঘটেছিল, সেই নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। এবং সেই সঙ্গেই জানতে চেয়েছি, এই ঘটনার পর তিনি কোথায় কী ভাবে ছিলেন। এর সঙ্গেই তাঁকে লুকিয়ে থাকতে কারা সাহায্য করেছিল, সেই বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়েছিল। ঠিক কী ভাবে ঘটনাটি সে দিন ঘটেছিল, সেটা নতুন করে সাজানোর জন্য সুশীল কুমারকে স্পটে নিয়ে যাওয়া হবে।’

পুলিশ এর আগে জানিয়েছিল, মডেল টাউন এলাকায় একটি সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণেই এই ঘটনাটি ঘটেছে। তবে এই ঘটনায যে ভিডিয়োটির উল্লেখ করা হয়েছে, যেটা সাগরদের মারধরের সময় সুশীল তাঁর বন্ধুদের দিয়ে করিয়েছিলেন, সেই বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হয়নি পুলিশ। তবে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এই মামলার সঙ্গে জড়িত দুটি ডাবল-ব্যারেল বন্দুক, সাতটি টাটকা কার্তুজ, দুটি কাঠের মোটা লাঠি এবং পাঁচটি গাড়ি তারা বাজেয়াপ্ত করেছে। এ দিকে রেলের চাকরিতেও সুশীল কুমারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

ছত্রসাল স্টেডিয়ামে জুনিয়র জাতীয় চ্যাম্পিয়ন সাগর রানা ধনকড় হত্যা মামালায় মূল অভিযুক্ত সুশীল কুমারই। সাগর ছাড়াও তাঁর আরও দুই বন্ধু সোনু ও অমিত কুমারকেও মারাধর করার অভিযোগ রয়েছে সুশীলের বিরুদ্ধে। প্রসঙ্গত সুশীলের মার খেয়েই মারা যান সাগর। এর পর আত্মগোপন করেন ৩৭ বছরের কুস্তিগীর। তাঁকে হন্যে হয়ে খোঁজার পর শেষ পর্যন্ত শনিবার গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। সঙ্গে তাঁর বন্ধু অজয় কুমারকেও গ্রেফতার করা হয়। এর পরে তাঁদের কোর্টে তোলা হলে ছ'দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বন্ধ করুন