বাংলা নিউজ > ময়দান > আফগানিস্তানের মহিলা ফুটবলারদের ভয় দেখাচ্ছে তালিবানরা, দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে দলের প্রাক্তন ক্যাপ্টেনের
আফগানিস্তানের তারকা মহিলা ফুটবারর খালিদা পোপাল (ছবি:ইনস্টাগ্রাম)
আফগানিস্তানের তারকা মহিলা ফুটবারর খালিদা পোপাল (ছবি:ইনস্টাগ্রাম)

আফগানিস্তানের মহিলা ফুটবলারদের ভয় দেখাচ্ছে তালিবানরা, দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে দলের প্রাক্তন ক্যাপ্টেনের

  • আফগানিস্তানের সতীর্থর মহিলা ফুটবলারদের সোশ্যাল মিডিয়ার সমস্ত রকম তথ্য মুছে ফেলার উপদেশ দিলেন আফগানিস্তানের তারকা মহিলা ফুটবারর খালিদা পোপাল।

আফগানিস্তানের সতীর্থ মহিলা ফুটবলারদের সোশ্যাল মিডিয়ার সমস্ত রকম তথ্য মুছে ফেলার উপদেশ দিলেন আফগানিস্তানের তারকা মহিলা ফুটবারর খালিদা পোপাল। বর্তমানে আফগানিস্তান দখল করেছে তালিবানরা। এরফলে বিপন্ন হতে পারে আফগানিস্তানের মেয়েদের ফুটবল। এমনটাই মনে করছেন আফগানিস্তান মহিলা ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক পোপাল। তার মতে, তালিবানিরা ফুটবল তো পছ্ন্দ করেননা, তার উপর মহিলা ফুটবল তো তাদের নজরে এক প্রকার অন্যায়। সেই কারণে যদি তারা জানে যে কোনও মহিলা ফুটবল খেলার সঙ্গে জড়িত তাহলে তাঁকে শাস্তি দিতে সময় নেবে না তালিবানরা।

এই কারণেই দু’দশক আগে এ রকম ভাবে যখন তালিবান দখলে চলে গিয়েছিল আফগানিস্তান, তখন ছোট্ট পোপালকে নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে এসেছিলেন তাঁর বাবা-মা। ১৯৯৬ সালে নিজের দেশ থেকে পালিয়ে যান পোপাল। দু’ দশক পর দেশে ফিরে শরণার্থী শিবিরে থেকে ফুটবল খেলা শুরু করেছিলেন তিনি। আফগানিস্তানের প্রথম মহিলা ফুটবল দলের সদস্য ছিলেন পোপাল। মহিলা ফুটবলাদের একজোট করে খেলার জন্য উৎসাহিত করতেন পোপাল। এই কাজের জন্য তাঁকে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছিল তালিবান। ২০১৬ সালেই ডেনমার্কে চলে আসতে বাধ্য হন তিনি।

নিজে দেশে না থাকলেও আফগানিস্তানে থাকা মহিলা ফুটবলারদের কথা ভেবে আতঙ্কে রয়েছেন প্রাক্তন আফগান ফুটবলার খালিদা পোপাল। পোপাল বলেন, ‘নিজেদের লুকিয়ে ফেলুক দেশের মহিলা ফুটবলাররা। এটা সহজ নয়, তবে নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে আগে বাঁচতে হবে। নেটমাধ্যমে দেওয়া ছবি-সহ সমস্ত কিছু মুছে ফেলা উচিত।’ পোপাল বলেন, ‘আমি টেলিভিশন চ্যানেলে বলেছিলাম তালিবান দেশের শত্রু। তার পর থেকেই খুনের হুমকি আসতে থাকে। আমি এরপর প্রচুর মেসেজ পেতে থাকি। মেয়েরা কাঁদতে কাঁদতে আমায় বলেছে, এ ভাবে আমাদের ছেড়ে কেন চলে গেলে? ’

পোপাল আরও বলেন, ‘মেয়েদের মনে অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যেটা হচ্ছে সেটা ঠিক নয়। ওরা পালিয়ে গিয়েছে। কারণ ওদের বাড়ির আশেপাশের সকলেই জানত ওরা খেলে। তালিবান চারিদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে, ভয় দেখাচ্ছে। আমাদের প্রজন্ম স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল। নতুন স্তরে ফুটবলকে পৌঁছে দিতে চেয়েছিল ওই প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা। আমার কাছে এটা শুধু খেলা নয়, এটা মহিলাদের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার ছিল। আমি দেশের জার্সি পরলে গর্বিত হতাম।’

বন্ধ করুন