শুক্রবার ভেজা চোখেই অধিনায়ক মাশরফিকে বিদায় জানালো গোটা বাংলাদেশ দল (ছবি-বিসিবি)
শুক্রবার ভেজা চোখেই অধিনায়ক মাশরফিকে বিদায় জানালো গোটা বাংলাদেশ দল (ছবি-বিসিবি)

বিদায় অধিনায়ক! তামিমের কাঁধে চড়ে যাত্রা শেষ করলেন বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন মাশরফি

  • দেশকে ৩-০ সিরিজ জিতিয়ে অধিনায়ক মাশরফি শেষ করলেন বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন হিসাবে নিজের সুদীর্ঘ সফর। এদিন কান্না ভেজায় চোখে অধিনায়ককে বিদায় জানাল টাইগাররা।

একটা সুদীর্ঘ সময় বাংলাদেশ ক্রিকেটের গুরুদায়িত্বটা নিজের কাঁধে বয়ে বেরিয়েছেন তিনি। শুক্রবার সেই মাশরফি বিন মোর্তাজা শেষ করলেন অধিনায়ক হিসাবে নিজের সফর। এদিন সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে একটাই রব ধ্বনিত হল ‘ধন্যবাদ অধিনায়ক’। তামিম ইকবালের কাঁধে চড়ে যখন দর্শকদের উদ্দেশে হাত নাড়ছেন মাশরফি তখন সবার চোখের কোণে জল। যে জলের মধ্যে জয়ের আনন্দ আছে, রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল, সব অনুপ্রেরণাদায়ী অধিনায়ককে হারানোর বিষন্নতা। ম্যাচ শেষে সারাক্ষণ তাঁদের অধিনায়ককে আগলে রাখল তাইজুল, সৌম্য, মোস্তাফিজরা। জয় দিয়েই অধিনায়ক হিসাবে নিজের সফর শেষ করলেন মাশরফি। জিম্বাবয়কে ৩-০ হারিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসাবে ৫০তম জয়টা নিজের নামের পাশে লিখিয়ে ফেললেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’। দেশকে দু দফায় মোট ৮৮ একদিবসীয় ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাশরফি। এদিন সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের এই দৃশ্যগুলো আজীবন বাংলাদেশি ক্রিকেট ফ্যানেদের মনের মণিকোঠায় ঘর করে থাকবে।


কীভাবে দলের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে উঠতে হয়। ভালো-খারাপ সবসময়ে সতীর্থদের সমর্থন করতে হয়, তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হয়-তার আদর্শ উদাহরণ মাশরফি মুর্তাজা। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে টাইগারের নেৃতৃত্ব দিয়েছেন মাশরফি। জয় উপহার দিয়েই অধিনায়ককে বিদায় জানাল বাংলাদেশ। অধিনায়ক মাশরফির শেষ ম্যাচের নায়ক দুই ওপেনার লিটন দাস ও তামিম ইকবাল। তাঁদের জোড়া শতরানের সুবাদেই ১২৩ রানে (ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মে) ম্যাচ জেতে বাংলাদেশ।

এদিন ম্যাচ শেষে মাশরফির হাতে সাইন করা জার্সি তুলে দেয় টিম বাংলাদেশ। সবাইর মুখে একটাই কথা, 'থ্যাঙ্ক ইউ ক্যাপ্টেন'।



এদিন ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে মাশরাফি বললেন, ‘অসম্ভব ভালো একটা সফর। কারণ অনেক বড় দায়িত্ব ছিল। যেটা কমে গেল। সাধারণত এই সময়ে কারও ভালো লাগে, কারও আবার খারাপ লাগে। আমার দুটো মনে হচ্ছে। নিজের কাছে ভালো লাগার কারণ অধিনায়ক হিসেবে একটি ভালো জায়গায় শেষ করতে পেরেছি। আর জয় দিয়ে শেষ হয়েছে, এটাও ভালো লাগছে’।

এদিন নিজের দীর্ঘ সময়ের সহযোদ্ধা সাবিক উল হাসানকেও মনে করলেন মাশরফি। কত সুখ-দুঃখ একসঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তাঁরা। কান্নাভেজা গলায় তিনি বলে চললেন, ‘আমার খেলোয়াড়রা অসাধারণ। দলের জন্য সব নিংড়ে দিয়েছে। সবাইকে আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিশেষ করে সাবিককে। সে যদি এখানে থাকত, পরিবেশটা অন্য রকম হতো’।

আপতত নির্বাসনে রয়েছেন মাশরফির সেনানী। তবে অধিনায়ককে এদিনও ভুলে থাকেননি সাবিক। নিজের ফেসবুকের দেওয়ালে তাই লিখলেন, 'সত্যিকারের নেতা এবং যোদ্ধা বলতে যা বোঝায় আপনি আমাদের কাছে তার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন সব সময়। বহু প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও, আপনি উৎসাহ যুগিয়েছেন আমাদের। শিখিয়েছেন নিজেদের প্রতি বিশ্বাস রাখতে। আপনার থেকেই শিখেছি গৌরব আর সম্মানের সাথে দেশের জার্সি পরে কিভাবে মাঠে লড়তে হয়। নিঃসন্দেহে আমরা দারুণ কিছু সময় কাটিয়েছি মাঠে, কাটাবো সামনের দিনগুলোতেও। নিজের উদ্যমে যেভাবে আমাদের প্রেরণা দিয়েছেন আর প্রতিটা মুহূর্ত পাশে থেকে দল হিসেবে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করার ব্যাপারটা ভুলবোনা কখনোই। বিনয় আর সম্মানের সাথে টিম টাইগার্স আর প্রিয় জাতীয় পতাকাকে বিশ্বের বুকে উঁচিয়ে ধরার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। হয়তো আমাদের নেতৃত্বের দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন কিন্তু আমাদের সবার প্রিয় 'মাশরাফি ভাই' হয়ে সারাটা জীবন থাকবেন আমাদেরই মাঝে। সব সময়ই যেন আমাদের জন্য আপনার সেরাটা দিতে পারেন এই শুভকামনা জানাচ্ছি'।

একদিবসীয় ম্যাচে বাংলাদেশের পরবর্তী অধিনায়ক কে? বিদায়ী অধিনায়ক চান দলের কোনও সিনিয়র প্লেয়ারের হাতেই থাকুক দায়িত্ব।

বন্ধ করুন