টিভি ক্যামেরায় বহু বার ধরা পড়েছেন গ্যালারির সামনে নিশান হাতে শঙ্খ ফুঁকে ছুটে চলা সুধীর গৌতম।
টিভি ক্যামেরায় বহু বার ধরা পড়েছেন গ্যালারির সামনে নিশান হাতে শঙ্খ ফুঁকে ছুটে চলা সুধীর গৌতম।

‘মাঠে ভিড় না হলে কি একাই পতাকা হাতে ছুটব!’

  • টিম ইন্ডিয়ার স্বঘোষিত চিয়ারলিডারই মুশকিলে পড়েছেন দেশব্যাপী লকডাউনে।

লকডাউনে ক্রিকেট বন্ধ হওয়ায় মুষড়ে পড়েছেন টিম ইন্ডিয়া ‘সুপারফ্যান’ সুধীর কুমার গৌতম। পাশাপাশি, দিল্লি থেকে ফেরার পরে তাঁকে কার্যত একঘরে করেছেন প্রতিবেশীরা।

নামে না চিনলেও ক্রিকেট মাঠে ভারতের খেলা থাকলেই ন্যাড়ামাথা রোগা তরুণকে বিশাল জাতীয় পতাকা নেড়ে শঙ্খ বাজাতে দেখেছেন অগণিত দর্শক। বারতীয় ব্যাটসম্যানদের প্রতিটি বাউন্ডারি, বোলারদের প্রত্যেক উইকেট নেওয়ার পরেই টিভি ক্যামেরার ফোকাসে ধরা পড়েছে গ্যালারির সামনে নিশান হাতে শঙ্খ ফুঁকে ছুটে চলা এই যুবক। টিম ইন্ডিয়ার স্বঘোষিত চিয়ারলিডারই মুশকিলে পড়েছেন দেশব্যাপী লকডাউনে।

লকডাউন ঘোষণার সময় দিল্লিতে এক বন্ধুর বাড়িতে ছিলেন আদতে বিহারের মুজফ্ফরপুর জেলার দামোদরপুর গ্রামের এই বাসিন্দা। ৫৫ দিন বন্ধু বাড়িতে থাকার পরে একটি পুরনো মোটরবাইক ধার করে নিজের গ্রামের উদ্দেশে তিনি যাত্রা করেন। ১,০০-০ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে লখনউ পৌঁছে এক বন্ধুর বাড়ি রাতে আশ্রয় নিতে গেলে বাধা দেন বন্ধুর প্রতিবেশীরা। দিল্লি থেকে আসছেন শোনার পরেই সকলের মনে করোনা সংক্রমণের ভীতি জেগে উঠলে তাঁকে মহল্লা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। 

কোনও মতে পথেই রাত কাটিয়ে সকালে ফের যাত্রা শুরু করেন গৌতম এবং গভীর রাতে ফেরেন দামোদরপুরে। কিন্তু সেখানেও একই সমস্যায় পড়েন তিনি। গ্রামবাসীরা তাঁকে প্রথমে ঢুকতে দিতে না চাইলেও পরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার শর্ত আরোপ করেন। পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ প্রমাণিত হওএয়ার পরে তাঁকে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। আপাতত সেখান থেকেই তিনি হিন্দুস্তান টাইমস-এর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।

ভারতীয় ক্রিকেট দলের একনিষ্ঠ ভক্ত গৌতমকে দেশ-বিদেশের প্রায় সব ম্যাচেই মাঠে হাজির থাকতে দেখা যায়। নিজস্ব রোজগার না থাকলেও তাঁর টিম ইন্ডিয়া উন্মাদনা দেখে যাতায়াতের খরচ জোগাড় করে দেন বন্ধুরা, আবার অনেক সময় জাতীয় দলের খেলোয়াড়রাও। 

ভারতের কিংবদন্তী ক্রিকেটার সচিন তেন্ডুলকরের অন্ধভক্ত গৌতমের জন্য ভিআইপি টিকিট, ভিসা-সহ নানান ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তারকা স্বয়ং। কোনও রোজগার না থাকলেও দাদার সংসারে আশ্রিত তরুণের পায়ে দেখা যায় দামি সংস্থার তৈরি জুতো, গায়ে নামী ব্র্যান্ডের টি-শার্ট। এ সবই তাঁকে উপহার দেন ক্রিকেটাররা।

লকডাউন শিথিল হলে ফের ক্রিকেট মাঠে নামতে দেখা যাবে টিম ইন্ডিয়াকে। গৌতমের ইচ্ছা, মাঠে নামার প্রথম দিনে শঙ্খধ্বনিতে প্রিয় তারকাদের স্বাগত জানাবেন। মাঠে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন যে তাঁকে ‘সচিন স্যার’ ঠিক জোগাড় করে দেবেন, সে বিশ্বাস রয়েছে সুপারফ্যানের। কিন্তু তিনি ঢুকতে পারলেও ক্রিকেট মাঠে কি দর্শকরা থাকবেন?

প্রশ্ন শুনে এই প্রথম নিশ্চুপ হয়ে যান সুধীর কুমার গৌতম। তারপর স্বগতোক্তি করেন, ‘যদি ভিড়ই না থাকে, তাহলে আমি কি একাই পতাকা নিয়ে শূন্য গ্যালারির সামনে ছুটব?’

এই প্রথম বড় সংশয় আর একরাশ হতাশা ফুটে ওঠে সুপারফ্যানের কণ্ঠস্বরে। 

বন্ধ করুন