বাংলা নিউজ > ময়দান > দিল্লি মেরিনার্সের আবেদন, জীবন যুদ্ধে জেতাতেই হবে ফুটবলার বাজুকে
ক্যান্সার আক্রান্ত ফুটবলার সুরজিৎ বসু (ছবি:দিল্লি মেরিনার্স)
ক্যান্সার আক্রান্ত ফুটবলার সুরজিৎ বসু (ছবি:দিল্লি মেরিনার্স)

দিল্লি মেরিনার্সের আবেদন, জীবন যুদ্ধে জেতাতেই হবে ফুটবলার বাজুকে

  • দিল্লি মেরিনার্সের আবেদন, জীবন যুদ্ধে জেতাতেই হবে ফুটবলার বাজুকে, সুস্থ হয়ে উঠছেন, কিন্তু লড়াই শেষ হয়নি। সবার সাহায্যেই এত গুলো মাস চিকিৎসা চলেছিল বাজুর। কিন্তু আবারও অর্থের টান পড়েছে। প্রাণঘাতি অসুখকে হারাতে আরও নটা মাস লড়াই করতে হবে বাজুকে। আপাতত আর নয় মাস কঠিন লড়াই সামনে দাঁড়িয়ে সুরজিৎ বসু।

সুরজিৎ বসু ডাক নাম বাজু। ফুটবল ময়দান তাঁকে এই নামেই বেশি চেনে।  মোহনবাগান,  মাহিন্দ্রার হয়ে মাঠে একসময় ফুল ফুটিয়েছিলেন। বাংলার হয়ে সন্তোষ ট্রফি হোক কিমবা ভারতীয় ফুটবল দলে বাইচুংদের পাশে থেকে মাঠের মধ্যে দেশের আক্রমণ ভাগকে আরও শক্তিশালী করা। সুরজিৎ বসু, কল্যাণির বাজু কলকাতা ময়দান হয়ে বাংলার ফুটবলের শিকর ধরে ভারতীয় ফুটবলে একসময় বড় হয়ে উঠেছিলেন। বাজুর ব্যপ্তিতে বঙ্গ ফুটবল প্রেমীদের মনে এক সময় ফুল ফুটিয়েছিল। নিজের দলের হয়ে বহু ম্যাচ জিতিয়েছিলেন, নায়ক হয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন। আজও আবার জিততে চান বাজু। তবে এবার জীবনের লড়াই জিততে চান তিনি। বাজু হারাতে চান ব্লাড ক্যানসারকে।  

আজ সেই সুরজিৎ বসু ভাল নেই। এই ফুটবলার গতবছর ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন দিল্লির AIIMS হাসপাতালে। আর্থিক দুরবস্থায় একটা সময় তার চিকিৎসা চালানো কষ্টের হয়ে উঠেছিল। যখন চিকিৎসা চালাতে পরিবারের হিমশিম অবস্থা তখন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা আপামর ফুটবল প্রেমীরা বাজুর জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। 

দিল্লি মেরিনার্সের তরফ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বাজুর সেই সময়কার পরিস্থিতি সোশ্যাল মিডিয়াতে তুলে ধরেছিল দিল্লি মেরিনার্স। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে সারা দেশের ভিন্ন শহরের ফুটবলের বহু ফ্যানস ফোরাম এগিয়ে এসেছিল। এগিয়ে আসে অনাবাসী দের সংগঠন মেরিনার্স আব্রোড,  প্রবাসে ইস্টবেঙ্গল ফ্যানস ক্লাব। বাজুর পাশে দাঁড়িয়েছে প্লেয়ার্স ফর হিউম্যানিটি , তার ঘনিষ্ট ফুটবলার সতীর্থরা।  দীপক মন্ডল , সন্দীপ নন্দী , মহেশ গাউলিরা, বাজুর জন্য এগিয়ে এসেছিল। আর্থিক সাহায্য করেছিল রাজ্য ক্রীড়া দফতর , পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও বহু ফুটবল প্রেমী।

সবার সাহায্যেই এত গুলো মাস চিকিৎসা চলেছিল বাজুর। কিন্তু আবারও অর্থের টান পড়েছে। প্রাণঘাতি অসুখকে হারাতে আরও নটা মাস লড়াই করতে হবে বাজুকে। আপাতত আর নয় মাস কঠিন লড়াই সামনে দাঁড়িয়ে সুরজিৎ বসু। ইনজেকশনে করে ছোট ছোট কেমো দেওয়া হচ্ছে কলকাতার প্রাইভেট হাসপাতালে। ইদানিং হোয়াইট ব্লাড সেল কমেছে রক্তে। লড়াই চলছে। প্রতিমাসে প্রচুর খরচ।

তাই বাজুর জন্য আবারও এগিয়ে এল দিল্লি মেরিনার্স। এই লড়াই জেতাতেই হবে। দিল্লি মেরিনার্সের তরফ থেকে বলা হয়েছে, ‘সবার সাহায্যে যে আর্থিক অনুদান উঠেছিল এতদিন ধরে , আজ তা নিঃশেষিত। আগের বছরের মত আসুন আবার নিজেদের সাধ্যমত যতটা পারি বাজুর পাশে আর্থিক ভাবে দাঁড়াই। আজ বাজু আবার আগের মত আর্থিক ভাবে নিঃস্ব। আগামী ন' টা মাসের চিকিৎসার জন্য আপনাদের সাহায্যের মুখাপেক্ষী। ওকে বাঁচাতে এবং আবার মাঠে ফেরৎ নিয়ে আসতে আপনাদের সাহায্য আবার লাগবে.....’

বন্ধ করুন