বাংলা নিউজ > ময়দান > EURO 2020: একনজরে দেখে নেওয়া যাক গ্রুপ-এ'র খুঁটিনাটি

শুভব্রত মুখার্জি

করোনার কারনে ২০২০ সালে যে ইউরো কাপ প্রতিযোগিতা আয়োজন হওয়ার কথা ছিল তা স্বাভাবিক কারণেই স্থগিত করে দিতে হয়েছিল। ২০২১ সালের জুন মাসেই বসতে চলেছে স্থগিত হয়ে যাওয়া সেই ইউরো কাপের আসর। 

ইউরোপের সেরা ফুটবল খেলিয়ে দেশ হওয়ার 'যুদ্ধ ' দেখার অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব। করোনা বিধ্বস্ত বিশ্বের সামনে এই প্রথম ফুটবলের এত বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হতে চলেছে। একনজরে দেখে নিন গ্রুপ ‘এ’-তে রয়েছে যে চারটি দল-

১) ইতালি

২) তুরস্ক

৩) ওয়েলস

৪) সুইজারল্যান্ড

দেখে নেওয়া যাক এই গ্রুপের বিভিন্ন দেশের দলগুলিকে।

∆ ইতালি:-

বরাবর ইতালির ডিফেন্স বিশ্ববন্দিত। পাওলো মালদিনি, নেস্তাদের হাত ধরে যে ডিফেন্স একদা বিশ্ব জোড়া খ্যাতি কামিয়েছে, সেই ডিফেন্স যে এবারেও তাঁদের ভরসা জোগাবে, তা বলাই বাহুল্য। তাঁদের ডিফেন্সের অন্যতম বড় দুই ভরসা লিওনার্দো বোনুচ্চি ও জর্জিও কিয়েলিনি। ইউরো কাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত তাঁরা ৩৮ টি ম্যাচ খেলেছে যার মধ্যে ১৬টিতে জয় এবং ৬টিতে হারের পাশাপাশি এবং ১৬টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। 

আজুরিদের বিশ্বকাপ ইতিহাস স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকলেও ইউরোর ইতিহাস ততটা বর্ণময় নয়। ১৯৬৮ সালে তাঁরা চ্যাম্পিয়ন হলেও, ২০০০ এবং ২০১২ সালে ফাইনালে পৌছেও হারের মুখ দেখতে হয়েছিল ইতালিকে। কিয়েলিনি ও বোনুচ্চি ইতালি তথা যে কোন দেশের ডিফেন্সের যে গর্ব হতে পারে তা বলাই বাহুল্য। জুভেন্তাসেও একসাথে দীর্ঘদিন খেলছেন এই দুই ডিফেন্ডার।

∆ তুরস্ক:-

হাকান সুকুর, হাসান সাস, উমিত দাভালাদের নিশ্চয় মনে আছে আপনাদের? ২০০২ সালের বিশ্বকাপের মঞ্চে একেবারে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন এই ফুটবলাররা। ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া-জাপানে হওয়া বিশ্বকাপে সেবার তৃতীয় স্থান পেয়েছিল তুরস্ক। আসন্ন ইউরো কাপে তুরস্ককে ভরসা জোগাতে চলেছেন মেরিহ ডেমিরাল, বুরাক ইলমাজরা। 

ইউরোর ইতিহাসে তুরস্কের সাফল্য তেমনকিছু নজরকাড়া নয়। ২০০০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানো এই দেশ ২০০৮ সালে তৃতীয় স্থান অধিকার করে। যা এখনও পর্যন্ত ইউরোতে তাঁদের সেরা পারফরম্যান্স। ইউরোতে তুরস্ক মোট ১৫টি ম্যাচ খেলে ৪টিতে জয় এবং ২টিতে হারের মুখ দেখেছে এবং ৯ টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

ইতালির রেকর্ড চ্যাম্পিয়ন ক্লাব জুভেন্তাসের হয়ে ডিফেন্সে তরুণ ডেমিরাল তুরস্ক দলের অন্যতম বড় তারকা। আসন্ন ইউরোর মঞ্চে বড় তারকা হওয়ার সবগুন রয়েছে তাঁর মধ্যে। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই তুরস্কের ডিফেন্সের অন্যতম বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন তিনি। দলের অধিনায়ক অভিজ্ঞ ইলমাজ খেলেন ফ্রান্সের লিগা ওয়ানের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লিল ক্লাবের হয়ে। তিনি জাতীয় দলের হয়ে ইতিমধ্যেই ২৯টি গোল করে ফেলেছেন।

∆ ওয়েলস:-

ইংল্যান্ডের অন্যতম প্রতিবেশী দেশ ওয়েলস। রায়ান গিগস পরবর্তী তাঁদের ফুটবলে সবথেকে বড় সুপারস্টার গ্যারেথ বেল। মাঝমাঠের ভরসা অ্যারন রামসে। ইউরোর মঞ্চে একেবারে 'তরুণ' দেশ এই ওয়েলস। এর আগে তাঁদের ইতিহাসে তাঁরা ২০১৬ সালে মাত্র ১ বার ইউরোতে খেলেছে।

প্রথমবার খেলার যোগ্যতা অর্জনকারী ওয়েলস সেইবার আলোড়ন ফেলে পৌঁছে গিয়েছিল সেমিফাইনালে। অবশেষে তৃতীয় হয়ে সেই প্রতিযোগিতা শেষ করে তারা। মাত্র ছয়টি ম্যাচ খেলেছে তারা। জয় এসেছে ৪টিতে। হারের মুখ দেখেছে দু'টিতে। কোন ম্যাচ ড্র হয়নি। দলের অন্যতম সেরা অস্ত্র অবশ্য তাদের সুপারস্টার বেল। বেল জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ৩৩টি গোল করেছেন। জুভেন্তাসে রোনাল্ডোর সতীর্থ মিডফিল্ডার রামসেও এই দলের অন্যতম তারকা। রামসে ওয়েলসের হয়ে ইতিমধ্যেই ৬৩টি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন।

∆ সুইজারল্যান্ড:-

গ্রানিট জাকা এবং জার্দান শাকিরি এই মুহূর্তে শুধু তাদের দেশের নন সারা বিশ্বের অন্যতম দুই গুরুত্বপূর্ণ দুই ফুটবলার। ইউরোর মূলপর্বে  পাঁচবার মূলপর্বে যোগ্যতা অর্জন করেছে এই দেশ। ২০১৬ সালে প্রিকোয়ার্টার ফাইনাল অব্দি পৌঁছানোই সুইস বাহিনীর সেরা পারফরম্যান্স।

লিভারপুলে খেলা শাকিরি সুইস দলের মাঝমাঠের বড় ভরসা। জাতীয় দলের হয়ে ৯১টি ম্যাচে ২৩ টি গোল করেছেন তিনি। গানার্স অর্থাৎ আর্সেনালের হয়ে খেলা জাকা ও মাতাতে পারেন ইউরোর মঞ্চ। জাতীয় দলের হয়ে ৯৪টি ম্যাচ খেলা জাকা দলের অধিনায়কও বটে। ইউরোর মঞ্চে ১৩ টি ম্যাচ খেলে দু'টি জয় পাঁচটি হার এবং ছ'টি ম্যাচে ড্রয়ের সম্মুখীন হয়েছেন তাঁরা।

বন্ধ করুন