বাংলা নিউজ > ময়দান > EURO 2020: একনজরে দেখে নেওয়া যাক গ্রুপ-বি'র খুঁটিনাটি
উয়েফা ইউরো ট্রফি। ছবি- গেটি ইমেজেস।
উয়েফা ইউরো ট্রফি। ছবি- গেটি ইমেজেস।

EURO 2020: একনজরে দেখে নেওয়া যাক গ্রুপ-বি'র খুঁটিনাটি

  • বেলজিয়ামের ‘স্বর্ণযুগ’এর ইউরো খেতাব অর্জন করার এটাই হয়তো শেষ সুযোগ।

শুভব্রত মুখার্জি

হাতে ইউরো ২০২০ শুরু হতে বাকি রয়েছে আর মাত্র কয়েকটা দিন। করোনাকালে হতে চলা এই ইউরোকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উন্মাদনা তুঙ্গে। বলা ভাল ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের আগে ইউরোপের সেরা দেশ হওয়ার লড়াই দেখতে মুখিয়ে রয়েছে সকলে।

কিছুদিন আগেই শেষ হয়েছে ইউরোপের সেরা ক্লাব প্রতিযোগিতা ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আসর। ইংল্যান্ডের ক্লাব চেলসির হাত ধরে ট্রফি গিয়েছে লন্ডনে। এবার ইউরোপের বিভিন্ন দেশের পালা একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করে মহাদেশের শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা জিতে নেওয়ার। একনজরে দেখে নিন গ্রুপ 'বি'-তে রয়েছে যে চারটি দল-

১) ডেনমার্ক

২) ফিনল্যান্ড

৩) বেলজিয়াম

৪)রাশিয়া

এই গ্রুপে থাকা চারটি দেশের ইউরো সম্বন্ধীয় খুঁটিনাটি আমরা দেখে নেয়ার চেষ্টা করব‌।

∆ ডেনমার্ক:-

সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দেশ হয়ে উঠেছে ডেনমার্ক। মাইকেল লাউড্রাপ, ব্রায়ান লাউড্রাপ,পিটার স্মাইকেলর দেশ একদা ইউরোর মঞ্চে রূপকথার সৃষ্টি করেছিল। ১৯৯২ সালে ড্যানিশরা মূলপর্বে খেলার সুযোগ না পেয়েও যুগোস্লাভিয়া বহিষ্কৃত হওয়ায় ইউরোতে প্রবেশ করে এবং সেরার শিরোপা অর্জন করে। তবে তাঁদের খেলাতে ধারাবাহাকতার অভাব রয়েছে। শেষ ২০১৬ সালের ইউরোতে তারা যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছিল।সেই ব্যর্থতা যদিও এবার পিছনে ফেলে এগিয়ে এসেছেন তাঁরা। 

এবার ডেনমার্ক দলের অন্যতম ভরসা তাদের গোলরক্ষক ক্যাসপার স্মাইকেল। যিনি ঘটনাচক্রে পিটারের পুত্র। সম্প্রতি তাঁর ক্লাব লেস্টার সিটি এফএ কাপের ফাইনালে ও খেলেছে শুধু নয় শিরোপাও নিজেদের ঘরে তুলেছে। সেই পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই গোলরক্ষকের। এছাড়াও রয়েছে তাঁদের মিডফিল্ড জাদুকর ক্রিশ্চিয়ান এরিকসন। যিনি যে কোন বিপক্ষ ডিফেন্সের ত্রাস হয়ে উঠতে পারেন। ইউরোতে এর আগে আটবার মূলপর্বে খেলেছেন ড্যানিশরা। এখন পর্যন্ত ২৭ ম্যাচ খেলে সাতটিতে জয়, ১৪টিতে হার এবং ছয়টিতে ড্রয়ের মুখ দেখেছে তাঁরা।  ইউরো ইতিহাসে সবথেকে বড় জয় এসেছে ১৯৮৪ সালে। সেবার গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচে তারা ৫-০ গোলে হারিয়েছিল যুগোস্লাভিয়াকে। 

∆ ফিনল্যান্ড:-

ইউরোপের একটি ছোট্ট দেশ ফিনল্যান্ড এবারই প্রথম ইউরোর মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ২০১৬ সালে দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় মারকু কানেভার হাতে। দীর্ঘ ১২ বছর অনুর্ধ্ব ২১ দল ও জাতীয় দলের সহকারীহিসাবে কাটানোর পর টিমু পুকিদের দলের রিমোর্ট কন্ট্রোল ওঠে কানেরভার হাতে। 

তাঁর প্রশিক্ষণেই ইতিহাস গড়ে প্রথমবার ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের আসরে পৌঁছে যায় তারা। এই আসরে তাঁদের সাফল্যের কারিগর হতে পারেন নরউইচ সিটিতে খেলা পুকি। এছাড়াও লেভারকুসেনে খেলা লুকাস হৃদেস্কি,অগসবার্গে খেলা ফ্রেডেরিক ইয়ানসেন, ব্রেসিয়াতে খেলা জেসে জোরোনেনও তারকা হয়ে উঠতে পারেন।

∆ বেলজিয়াম:-

এবছরের ইউরো জয়ের অন্যতম বড় দাবিদার এই বেলজিয়াম দলটি। শেষ কয়েক বছরে তাঁদের ফুটবল বিশ্ব মানচিত্রে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে ও তাঁরা যথেষ্ট ভাল পারফর্ম করলেও, চতুর্থ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। ২০১৬ সাল থেকে বেলজিয়ামের সিনিয়র জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্বে আছেন রবার্তো মার্টিনেজ। তাঁর সহকারী হিসেবে যোগদান করেছেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী তারকা থিয়েরি অঁরি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বেলজিয়ামের প্রশিক্ষককূলের শক্তি বৃদ্ধি যে ঘটেছে তা বলাই বাহুল্য। 

এই আসরের মঞ্চ তৈরি মাতাতে ম্যাঞ্চেস্টার সিটিতে খেলা কেভিন ডি'ব্রুইন, ইন্টার মিলানের রোমেলু লুকাকু। সদ্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে সিটির হয়ে খেলার মাঝেই গুরুতর চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ডি'ব্রুইনকে। তাঁর দল ফাইনালে চেলসির কাছে হেরেও যায়। মুখে এবং চোখের অক্ষিকোটরে আঘাতপ্রাপ্ত ডি'ব্রুইনের আসন্ন ইউরোতে খেলা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও সফল অপারেশনের পর তিনি দলের সঙ্গে যোগ দিতে চলেছেন। ইউরোতে ১৯৮০ সালে রানার্স হওয়া এখন পর্যন্ত বেলজিয়ামের সবথেকে বড় সাফল্য। কোয়ালিফাইং রাউন্ডে তাঁরা ৩০ পয়েন্টের মধ্যে ৩০ পয়েন্টই তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়েছিল এবার। ইডেন হ্যাজার্ডদের ফর্ম বা ধারাবাহিকতার উপর নির্ভর করছে এই মুহূর্তে বিশ্বের ফিফার এক নম্বরে থাকা দলের ইউরোর শিরোপা জয়।

∆ রাশিয়া:-

২০১৮ সালে যখন তাঁদের দেশে বিশ্বকাপের আসর বসেছিল, তখন সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাঁদের যে দল খেলেছিল কার্যত সেই দল এবারও খেলছে ইউরোতেও। একমাত্র ইগর আকিনফেভ,আলেকজান্ডার সামেডভ, সের্গেই ইগনেসেভিচ অবসর নিয়েছেন। অবিভক্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন হিসেবে ট্রফি জয় তাঁদের ইতিহাসে সেরা পারফরম্যান্স। ১৯৬০ সালের ইউরোতে অবিভক্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন হিসেবে ট্রফি জয় তাঁদের ইতিহাসে সেরা পারফরম্যান্স। ২০০৮ সালে রাশিয়া সেমিফাইনালে খেললেও ২০১৬ সালে গ্রুপ পর্যায় থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। 

এই বছরের প্রতিযোগিতায় তাদের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে জেনিথ সেন্ট পিটার্সবুর্গে খেলা স্ট্রাইকার ও দলের অধিনায়ক আর্তেম ডাইযুবার ফর্মের উপর। তিনি বাছাই পর্বে দলের হয়ে সবথেকে বেশি ৯টি গোল করেছেন। ২৩ বছর বয়সী আলেকজান্ডার সোভোলভের প্রতিভার বিচ্ছুরণ এই আসরে দেখা গেলে রাশিয়া অনেক দূর যাওয়ার আশা করতে পারে। তবে ইউরোতে রাশিয়ার খারাপ রেকর্ড তাঁদের বিপক্ষে যাবে। তাঁদের শেষ জয় এসেছিল ২০১২ সালে চেক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে ৪-২ গোলে। তাঁদের গোলরক্ষকের স্থানের দুর্বলতা মেটানো কোচ স্ট্যানিসলাভ চেরচেসভের সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।

বন্ধ করুন