বাংলা নিউজ > ময়দান > ক্ষুব্ধ বিরাটের ‘পেপ টকেই’ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ জয় ভারতের, দাবি ঈশ্বরনের
বিরাট কোহলি ও অভিমন্যু ঈশ্বরন। ছবি- ইন্সটাগ্রাম।
বিরাট কোহলি ও অভিমন্যু ঈশ্বরন। ছবি- ইন্সটাগ্রাম।

ক্ষুব্ধ বিরাটের ‘পেপ টকেই’ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ জয় ভারতের, দাবি ঈশ্বরনের

  • ইংল্যান্ড সফরের জন্য ভারতীয় দলের চারজন স্ট্যান্ডবাই ক্রিকেটারদের মধ্যে অন্যতম বাংলার অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরন।

দুরন্ত ছন্দে থাকা ভারতীয় দল বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে ২রা জুন বিলেত রওনা দেবে। প্রথমে অস্ট্রেলিয়া ও তারপর ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও সিরিজ জিতে নিয়ে ভারতের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। 

দলের সাম্প্রতিক সাফল্যের পিছনে বিরাট কোহলির হার না মানা মানসিকতা ও জেতার ক্ষিদের দিকেই ইঙ্গিত করছেন ভারতীয় দলের নতুন সদস্য, বাংলার অভিমন্যু ঈশ্বরন। বিরাট কোহলির ক্ষোভ থেকে জৈব বলয়ের ক্লান্তি, নিভৃতবাসে মুম্বইয়ের হোটেল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে একেবারে অকপট ঈশ্বরন।

বুধবারেই মুম্বইয়ে নিভৃতবাস শুরু হয়ে গিয়েছে আপনাদের। কী ভাবে সময় কাটাচ্ছেন?

ঈশ্বরন: যতটা সম্ভব বিশ্রাম নিয়ে মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করছি। রুমে টুকটাক ওয়ার্ক আউটও করছি। এছাড়া গান শোনা, নেটফ্লিক্স দেখার পাশাপাশি পরিবারের ও বন্ধুদের সাথে কথা বলেই সময় কাটাতে হচ্ছে। এছাড়া রুমে আমার কিটব্যাগ রয়েছে। ব্যাট নিয়ে মাঝেমাঝে আমি একটু শ্যাডো প্র্যাকটিসও সেরে ফেলি। নিজেকে ব্যস্ত না রাখলে সারাক্ষণ একটা ঘরের মধ্যে থেকে যে কেউ পাগল হয়ে যাবে। তাই আমি সবটা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম। 

অনেক ক্রিকেটারই নাগাড়ে জৈব বলয়ে থাকায় মানসিক ক্লান্তির কথা বলেছেন। পরিবার, বন্ধু বান্ধব ছেড়ে জৈব বলয়ের আবদ্ধ পরিসরে থাকা কতটা কঠিন? মানসিকভাবে এর ফলে কতটা প্রভাব পড়ে?

ঈশ্বরন: হ্যাঁ ক্লান্তি তো কিছুটা থাকেই। ভারতীয় দল প্রায় তিন মাস অস্ট্রেলিয়া সফরে ছিল এবং তারপর দেশে ফেরে কিছুদিন পরেই আবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের জন্য তাঁরা জৈব বলয়ে প্রবেশ করে। তার আগে দলের অনেক সদস্যই আইপিএলও খেলছিল। এই পুরো জিনিসটাই নতুন, এ বিষয়ে এর আগে কারুরই তেমন কোন অভিজ্ঞতা ছিল না। তাই এতদিন ধরে এমন পরিবেশে থাকা কিছুটা চাপের তো অবশ্যই। তবে এটাই তো এখন নিউ নরম্যাল। এর সাথে মানিয়ে নেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই।

ভারতীয় দলের প্রায় সব ক্রিকেটাররা আইপিএল খেলায় ব্যস্ত থাকলেও আপনি খেলেননি। উপরন্তু এ বছর ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে কোনরকম লাল বলের ম্যাচই খেলা হয়নি। আপনার কি মনে হয় এতদিন উচ্চ স্তরের ক্রিকেট না খেলায় আপনার কোনরকম অসুবিধা হতে পারে?

ঈশ্বরন: আমার মনে হয় না। আমরা যথেষ্ট পরিমাণ ক্রিকেট খেলি, তাই কিছু সময়ের জন্য ম্যাচ না খেলায় তেমন কোন সমস্যা হবে বলে আমার অন্তত মনে হয় না। ম্যাচের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকাটাই আসল চ্যালেঞ্জ।

রাহুল দ্রাবিড়কে আপনি নিজের আইডল মনে করেন। ওনার অধীনে আপনি ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে বেশ কিছুদিন খেলেছেন। এর মধ্যে ওনার সাখে কোন কথা হয়েছে?

ঈশ্বরন: না, গতবছর জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরের সময় আমাদের শেষ কথা হয়। তারপর আর ওঁর সাথে কথা বলার সুযোগ হয়নি।

ইংল্যান্ড দলে একাধিক ফাস্ট বোলার ঘন্টায় প্রায় ৯০ মাইলের অধিক গতিতে বল করে। কেভিন পিটারসেন এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন। ৯০ মাইলের অধিক গতির বলে ব্যাটসম্যানদের শুধু রিয়্যাক্ট করা ছাড়া, ভেবেচিন্তে শট খেলার কোন অবকাশ থাকে না। এ বিষয়ে আপানার কী মত?

ঈশ্বরন: যে কোন বোলারের বল ছাড়ার পরেই আপনার হাতে সামান্য সময় থাকে। আপনি শুধু রিয়্যাক্টই করতে পারেন। মানসিকভাবে আপনি যদি প্রস্তুত থাকেন ও লক্ষ্য স্থির থাকে, তাহলে সেটা আপনাকে ব্যাটসম্যান হিসাবে অনেকটাই সাহায্য করে। আমার মনে হয় গতির বিরুদ্ধে নিয়মিত প্র্যাকটিস ও ভালভাবে শেষ অবধি বলে নজর রাখাই গতিকে সামলানোর সেরা অস্ত্র। ছোট থেকেই আমরা বিভিন্ন ধরনের বোলার, তাঁদের আলাদা আলাদা বোলিং অ্যাকশনের বিরুদ্ধে খেলি যা যে কোন বলে আমাদের দ্রুত রিয়্যাক্ট করতে সাহায্য করে।

ইংল্যান্ডে বল সুইং করে। সুইং সামলাতে আলাদাভাবে বিশেষ কোন প্রস্তুতি করেছেন?

ঈশ্বরন: হ্যাঁ, সে তো করেইছি। তবে এই প্রস্তুতিটা সবার জন্যই পৃথক। সুইং হোক বা স্পিন বোলিং, দুইয়ের বিরুদ্ধেই আমি নিজেকে আলাদাভাবে প্রস্তুতি করেছি। 

ভারতীয় দলের সাথে আগেও বেশ কয়েকদিন ছিলেন। বিরাট কোহলি, চেতেশ্বর পূজারাদের সাথে খেলা, প্র্যাকটিস করার অভিজ্ঞতাটা ঠিক কেমন?

ঈশ্বরন: এক কথায় দারুণ। ওরা ম্যাচের আগে যে উদ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করে, যে ভাবে কোন দিকে প্রস্তুতি যাতে সামান্যও ফাঁক না থাকে সে বিষয়ে নজর দেয়, তা এক কথায় অনবদ্য। ওদের দেখে আমি সেটাই রপ্ত করার চেষ্টা করব।

আপনি বাংলার রঞ্জি অধিনায়কও বটে। অধিনায়ক কোহলির থেকে কোন পরামর্শ নিয়েছেন? সুযোগ পেলে ওনার অধিনায়কত্বের কোন জিনিস আপনি রপ্ত করতে চাইবেন?

ঈশ্বরন: ওঁর মানসিকতা। আমরা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম ম্যাচই হেরে যাই এবং ও প্রচন্ড ক্ষুব্ধ ছিল। ঘরের মাঠে টেস্ট ম্যাচ হারা এক বিশাল ব্যাপার। কিন্তু ও জিততে বদ্ধপরিকর ছিল। যেভাবে দলের সকলকে ও উদ্দীপত করে এবং দলের দায়িত্ব নেয় তা প্রশংসনীয়। ও অবশ্যই ম্যাচ হারায় ক্ষিপ্ত ছিল, কিন্তু দলের ম্যানেজমেন্ট ও কোহলি যেভাবে দলকে সামলায় তা দলের মনোবল অনেকাংশেই বাড়িয়ে। যেভাবে পরাজয়ের পর বিরাটের প্রেরণায় দল ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জিতে নেয়, তা এক কথায় অসাধারণ।

সবশেষে জানতে চাইব ভারতীয় ‘এ’ দলের সাথে আগে একাধিকবার বিদেশ সফরে গেলেও, এটাই জাতীয় দলের সাথে আপনার প্রথম সফর। নিজের জন্য ব্যক্তিগতভাবে কোন লক্ষ্য স্থির করেছেন?

ঈশ্বরন: লক্ষ্য একটাই। ইংল্যান্ড সফর থেকে আমি যেন আগের থেকে আরও ভাল ক্রিকেটার হয়ে ফিরতে পারি। পাশাপাশি যদি সুযোগ আসে তাহলে যেন মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকি এবং দলের হয়ে নিজের সেরাটা দিতে পারি।

বন্ধ করুন