বাংলা নিউজ > ময়দান > মুসলমানদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব? যাবতীয় অভিযোগ ওড়ালেন ওয়াসিম জাফর
ওয়াসিম জাফর। ছবি- টুইটার।
ওয়াসিম জাফর। ছবি- টুইটার।

মুসলমানদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব? যাবতীয় অভিযোগ ওড়ালেন ওয়াসিম জাফর

  • সমস্ত অভিযোগ যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করেছে প্রাক্তন ভারতীয় ওপেনার।

ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে তাকে কিংবদন্তি বললেও মনে হয় কম বলা হয়ে যায়। বছরের পর বছর,দশকের পর দশক ধরে ভারতীয় ক্রিকেটে বিভিন্ন রাজ্যের হয়ে ব্যাট হাতে পারফর্ম করে গিয়েছেন ওয়াসিম জাফর। কয়েকবছর আগেই অবসর নেওয়ার পরে তিনি উত্তরাখণ্ডের রঞ্জি দলের হেড কোচ হিসেবে পদত্যাগ করেছেন। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে এক গুরুতর অভিযোগ। তাঁর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এবার সেই বিষয়েই মুখ খুললেন স্বয়ং ওয়াসিম জাফর। সমস্ত অভিযোগকে নস্যাৎ করে দিলেন তিনি।

জাফরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। কেউ বলেছেন বায়ো বাবলে থাকতে তিনি নাকি মৌলভীর সাহায্য চেয়েছিলেন। দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে ও তিনি নাকি মুসলিম ক্রিকেটারদের প্রাধান্য দিয়েছিলেন। এইসব অভিযোগকে নস্যাৎ করে দিয়ে তিনি বললেন অত্যন্ত 'ক্ষুদ্র' বিষয় এগুলি।

এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই বিষয়ে মুখ খুলে জাফর বলেন ' আমার বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগগুলো খুব গুরুতর।আমার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এটা খুব দুঃখজনক।সেই কারণেই এসব কুৎসার বিরুদ্ধে কথা বলতেই আমার এখানে আসা। আপনারা তো অনেকদিন থেকেই আমাকে জানেন,আপনারা আশা করি আমাকে খুব ভাল করেই চেনেন। আমার দিকে ছুঁড়ে দেওয়া ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে কোন সাজেশান আমি নিইনি।যারা সৈয়দ মুস্তাক আলিতে খেলেছে প্রত্যেককে আমি আমার বিশ্বাসের উপর ভরসা রেখে খেলিয়েছি।শেষ ম্যাচের জন্য সামাদ ফাল্লাকেও পর্যন্ত আমি বসিয়েছি।আমি সাম্প্রদায়িক হলে সামাদ ফাল্লা,মহম্মদ নাজিম প্রত্যেকটা ম্যাচে খেলত,তাই না?এটা অত্যন্ত ক্ষুদ্র ব্যাপার। এইধরনের ক্ষুদ্র চিন্তাভাবনা আমি কোনদিন করিনা।'

ক্রিকেটারদের জয়শ্রী রাম বা জয় হনুমান না বলা নিয়ে তার নির্দেশ দেওয়া নিয়ে তিনি বলেন 'এইরকম কোন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আমাদের হাডেলে বলা হত 'রানি মাতা সাচ্চে দরবার কি জয়' ।কখন ও কাউকে আমি 'জয়শ্রীরাম' বা 'জয় হনুমান বলতে শুনিনি বা কাউকে বাধাও দিইনি। আমি যদি সাম্প্রদায়িক হতাম তাহলে কি জয় বিস্তাকে নিয়ে আসতাম দলে। আমি তো ওকে অধিনায়ক করার সুপারিশ ও করেছিলাম। নির্বাচকদের মনে হয়েছিল ইকবাল আবদুল্লা বেশি যোগ্য এবং প্রতিভাবান। তাই ওকেই অধিনায়ক করা হয়। বরোদাতে পৌছানোর পরে আমি দলকে বলেছিলাম আমরা উত্তরাখন্ড রাজ্যের হয়ে খেলছি তাই 'গো উত্তরাখণ্ড','লেটস ডু ইট উত্তরাখণ্ড','কাম অন উত্তরাখণ্ড' স্লোগানগুলো অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হবে।'

মৌলভীর উপস্থিতি নিয়ে জাফর জানান 'মৌলভী মৌলানা যিনি শুক্রবার এসেছিলেন আমি তাকে ডাকিনি। ইকবাল আবদুল্লার দেরাদুনে পরিচিতি রয়েছে এবং মৌলানা সাহেবকে ওই ডেকেছিল।আমি যদি সাম্প্রদায়িক হতাম তাহলে তো সকাল ৯টায় অনুশীলন ডেকে ১২ টায় শেষ করে ১:৩০ টার সময় নমাজ পড়তে যেতাম তাই না। আমি তো সাম্প্রদায়িক হলে আমাকে বরখাস্ত করা হত,তাই না? কিন্তু ইস্তফা তো আমি দিয়েছি।'

বন্ধ করুন