বাড়ি > ময়দান > IPL-এ ১১ কোটির হাতছানি উপেক্ষা করা রায়না একসময় টাকার অভাবে কোচিং সেন্টারে ভর্তি হতে পারেননি
সুরেশ রায়না। ছবি-বিসিসিআই। 
সুরেশ রায়না। ছবি-বিসিসিআই। 

IPL-এ ১১ কোটির হাতছানি উপেক্ষা করা রায়না একসময় টাকার অভাবে কোচিং সেন্টারে ভর্তি হতে পারেননি

  • আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ানোয় এবছর বিপুল অর্থ হাতছাড়া হতে চলেছে তারকা অল-রাউন্ডারের।

ব্যক্তিগত কারণে এবছর আইপিএল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন সুরেশ রায়না। সিএসকে শিবির ছেড়ে আমিরশাহি থেকে দেশে ফিরে আসেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সদ্য অবসর নেওয়া তারকা অল-রাউন্ডার। রায়না সরে দাঁড়ানোর পরেই সিএসকে মালিক এন শ্রীনিবাসন দাবি করেন, আইপিএল শুরু হলে তারকা ক্রিকেটার বুঝতে পারবেন, কত টাকা তিনি হাতছাড়া করলেন এবছর।

চুক্তি অনুযায়ী রায়নার এবছর আইপিএল মরশুম থেক ১১ কোটি টাকা উপার্জনের হাতছানি ছিল, যা তিনি অনায়াসে উপেক্ষা করেন। এমন বিপুল অর্থের মোহ তিনি ত্যাগ করতে পেরেছেন নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই। একদা রায়না নিজেই জানিয়েছিলেন যে, তাঁর বাবার মাসিক আয় ছিল ১০ হাজার টাকা, যা দিয়ে ৮ জনের পরিবার চালানো অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। তবে বাবার কাছ থেকেই শিখেছেন, নিজের জন্য নয়, জীবন আসলে সকলকে নিয়ে বাঁচার জন্যই।

‘দ্য স্লো ইন্টারভিউ উইথ নীলেশ মিশ্র’ ইউটিউব শো-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে একদা রায়না জানিয়েছিলেন, তাঁর বাবা আর্মিতে কাজ করতেন। তিনি অস্ত্র কারখানায় বম্ব তৈরি করতেন। সঙ্গে খেয়াল রাখতেন, যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের পরিবার যেন কোনও সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়।

রায়না এও জানান যে, মাত্র ১০ হাজার টাকা উপার্জনে তাঁকে দিল্লিতে কোনও ক্রিকেট কোটিং সেন্টারে ভর্তি করা সম্ভব ছিল না তাঁর বাবার পক্ষে। কেননা, সেই সময় কোচিং সেন্টারগুলির মাসিক বেতন ছিল ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা। শেষমেশ লখনউয়ের গুরু গোবিন্দ সিং স্পোর্টস কলেজে বার্ষিক ৫ হাজার টাকায় খেলা শেখার সুযোগ পেয়েছিলেন রায়না, যেটা তাঁর পরিবারের পক্ষে খরচ করা সম্ভব ছিল।

রায়নার কথায়, ‘আমি খেলে বেড়াতাম অথচ কোনও টাকা ছিল না তখন। পাপার আয় ছিল ১০ হাজার টাকা। আমরা পাঁচ ভাই, এক বোন। পরে আমি লখনউয়ে গুরু গোবিন্দ সিং স্পোর্টস কলেজে ট্রায়ালে যাই। সেই সময় একসঙ্গে ১০ হাজার টাকা জোগাড় করাও মুশকিল ছিল। কলেজে এক বছরের জন্য ৫ হাজার টাকা দিতে হতো এবং পাপা বলে যে, এটা খরচ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব।’

পরে রায়না আরও বলেন,  ‘পাপার জীবনের আদর্শই ছিল নিজের জন্য নয়, অন্যের জন্য বাঁচা উচিত। আর্মিতে উনি যে কাজ করতেন, সেটা অত্যন্ত আবেগ থেকেই করতেন। পাপা বম্ব তৈরি করতেন। তবে সেই সঙ্গে যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতিও তাঁর নজর থাকত।’

বন্ধ করুন