বাংলা নিউজ > ময়দান > জগবীরকে থাপ্পড় মেরে ভুল করিনি, ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্ন নেই: সতেন্দর মালিক
জগবীরকে থাপ্পড় মেরে ভুল করিনি, ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্ন নেই: সতেন্দর মালিক (ANI)

জগবীরকে থাপ্পড় মেরে ভুল করিনি, ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্ন নেই: সতেন্দর মালিক

  • থাপ্পড় খেয়ে তাল ঠিক রাখতে না পেরে মাটিতেই বসে পড়েন জগবীর। এই ঘটনায় বন্ধ‌ হয়ে যায় ৫৭ কেজির বাউট। সতেন্দরকে হল থেকে বার করে দেওয়া হয়। তারপরেই তাকে আজীবন নির্বাসনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় ফেডারেশন।

শুভব্রত মুখার্জি: গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার কমনওয়েলথ গেমসের ট্রায়ালে কুস্তির ১২৫ কেজি বিভাগে নাটকীয়ভাবে হেরে ছিটকে যেতে হয় কুস্তিগীর সতেন্দর মালিককে। রেফারি জগবীর সিংয়ের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে তাকে সপাটে থাপ্পড় কষিয়ে বসেন তিনি। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সার্ভিসেসের রেসলার সতেন্দর মালিককে আজীবন নির্বাসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের রেসলিং ফেডারেশন। সেই ঘটনায় একেবারেই অনুতপ্ত নন সতেন্দর মালিক। তার স্পষ্ট বক্তব্য জগবীরকে থাপ্পড় মেরে কোনও ভুল কাজ করিনি, ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই নেই।

প্রসঙ্গত ম্যাচে ৩-০ পিছিয়ে থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষ মোহিত একটি 'টেক ডাউন' মুভ করেন। ম্যাটের বাইরেও সতেন্দর মালিককে ছিটকে দেন‌। তবে রেফারি বীরেন্দ্রর মালিক 'টেক ডাউনের' কোনও পয়েন্ট দেননি। কেবলমাত্র ম্যাট থেকে বের করে দেওয়ার পয়েন্ট দেন মোহিতকে। মোহিত সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করলে এই বাউটের জুরি থেকে সরে দাঁড়ান সত্যদেব মালিক। যেহেতু তিনি সতেন্দরের গ্রাম মোখরার বাসিন্দা তাই নিরপেক্ষতার কথা মাথায় রেখে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তী টিভি রিপ্লে দেখে রেফারি জগবীর সিং, মোহিতকে 'টেক ডাউনের' জন্য তিন পয়েন্ট দেন। ম্যাচ ৩-৩ ফলে শেষ হয়। তবে শেষ পয়েন্ট যেহেতু মোহিত পেয়েছেন ফলে তাকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। যার ফলে নাটকীয়ভাবে ম্যাচ জিতে কমনওয়েলথ গেমসের টিকিট নিশ্চিত করেন মোহিত‌। ঘটনায় মেজাজ হারান সতেন্দর। রেফারি জগবীর সিংকে প্রথমে গালিগালাজ শুরু করেন। তারপরেই কষিয়ে থাপ্পড় মেরে বসেন। থাপ্পড় খেয়ে তাল ঠিক রাখতে না পেরে মাটিতেই বসে পড়েন জগবীর। এই ঘটনায় বন্ধ‌ হয়ে যায় ৫৭ কেজির বাউট। সতেন্দরকে হল থেকে বার করে দেওয়া হয়। তারপরেই তাকে আজীবন নির্বাসনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় ফেডারেশন।

ঘটনার পর থেকেই বন্ধ ছিল সতেন্দরের মোবাইল। পরবর্তী সময়ে এক ফ্রিস্টাইল কোচের ফোনে ফোন করে এই ঘটনার বিষয়ে কথা বলা হয়। টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন 'এই রেফারি এবং জাজরা আমরা জীবনটা শেষ করে দিয়েছে। ওরা আমার রেসলিং কেরিয়ারটাই শেষ করে দিয়েছে। আমি ওদের কাছে কোনওভাবেই ক্ষমা চাইব না। কারণ ওরা আমার সঙ্গে যা করেছে তা খারাপ কাজ। বীরেন্দ্রর মালিক (ম্যাচ রেফারি), সত্যদেব, জগবীর সবাই আমার বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত। ওরা চক্রান্ত করে আমার কমনওয়েলথ গেমসে খেলার সুযোগটা কেড়ে নিয়েছে। ম্যাচটা স্পষ্টত আমি ৪-১ ফলে জিতেছি। ১৮ সেকেন্ড বাকি থাকতে আমাকে টেকনিক্যাল পয়েন্টও দেওয়া হয়েছিল। মোহিতের কোচের 'টেক ডাউনের' পয়েন্টের জন্য চ্যালেঞ্জটা তো প্রথমে গৃহীত হয়নি। হঠাৎ করে সব বদলে যায়। উপস্থিত রেসলিং ফেডারেশনের কর্তারা পয়েন্ট রিভিউ করতে জগবীরকে ডাকে। মোহিতকে দুই পয়েন্ট দেওয়া হয়। আমার কোনও দোষ ছাড়াই আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়।'

তিনি আরও যোগ করেন 'জগবীরজি যখন পয়েন্ট রিভিউ করতে আসেন আমি ওনাকে বলেছিলাম আপনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন সৎভাবে দেবেন যাতে করে আমার কেরিয়ার নষ্ট না হয়। সিদ্ধান্তের পরে আমি ওর কাছে গিয়ে হরিয়ানভিতে প্রশ্ন করি আমার কেরিয়ার খারাপ করে দিয়ে তুমি কি পেলে? বলার সঙ্গে সঙ্গে ও আমাকে ডান হাত দিয়ে মারে। যার প্রতিবাদে আমি ওকে দুটো চড় কষিয়েছি। আমি একেবারেই অনুতপ্ত না এই কাজের বিষয়ে। আমি ক্ষমা কোনও ভাবেই চাইব না।'

বন্ধ করুন