বাংলা নিউজ > টেকটক > উল্লম্বভাবে নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে গ্রহ! নয়া আবিষ্কারে হতবাক মহাকাশবিজ্ঞানীরা
শিল্পীর কল্পনায়। ছবি : টুইটার (Twitter)
শিল্পীর কল্পনায়। ছবি : টুইটার (Twitter)

উল্লম্বভাবে নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে গ্রহ! নয়া আবিষ্কারে হতবাক মহাকাশবিজ্ঞানীরা

  • আমাদের সৌরজগতে সমস্ত গ্রহ সূর্যের চারপাশে একই সমতলে প্রদক্ষিণ করে। কিন্তু এই দুটি গ্রহে ব্যাপারটা আলাদা। এই দুটি গ্রহে দুই মেরু কক্ষপথে রয়েছে। অর্থাৎ, তারা পৃথিবী এবং আমাদের সিস্টেমের অন্যান্য গ্রহের মতো নক্ষত্রের বিষুবরেখার চারপাশে না ঘুরে তাদের নক্ষত্রের মেরুর উপর-নিচে প্রদক্ষিণ করে।

প্রতিটা সৌরজগত আলাদা। কোনওটায় অনেক গ্রহ আছে। কোনওটায় আবার কোনও গ্রহই নেই। কিন্তু আমাদের সৌরজগত থেকে প্রায় ১৫০ আলোকবর্ষ দূরের একটি বিশেষ ও কিছুটা অস্বাভাবিক স্টার সিস্টেম নতুন করে ভাবাচ্ছে মহাকাশবিজ্ঞানীদের।

২০১৬ সালে, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা HD 3167 নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে এমন দুটি গ্রহ আবিষ্কার করেন। তাদের সুপার-আর্থ বলে উল্লেখ করেছিলেন তাঁরা। আকারে পৃথিবী এবং নেপচুনের মাঝামাঝি। দুটিই প্রতি ৩০ দিনে তাদের কেন্দ্রের গ্রহকে প্রদক্ষিণ করে। ২০১৭ সালে এই স্টার সিস্টেমে একটি তৃতীয় গ্রহের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল। সেই গ্রহটি প্রায় ৮ দিনে একবার প্রদক্ষিণ করে।

তবে এর মধ্যে ব্যাতিক্রমী একটি বৈশিষ্ট্য দেখা গিয়েছে বাইরের দুটি গ্রহ, HD 3167 c এবং d-তে। আমাদের সৌরজগতে সমস্ত গ্রহ সূর্যের চারপাশে একই সমতলে প্রদক্ষিণ করে। কিন্তু এই দুটি গ্রহে ব্যাপারটা আলাদা। এই দুটি গ্রহে দুই মেরু কক্ষপথে রয়েছে। অর্থাৎ, তারা পৃথিবী এবং আমাদের সিস্টেমের অন্যান্য গ্রহের মতো নক্ষত্রের বিষুবরেখার চারপাশে না ঘুরে তাদের নক্ষত্রের মেরুর উপরে এবং নিচে প্রদক্ষিণ করে।

সাম্প্রতিক এক পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে সিস্টেমটি আরও বেশি অদ্ভুত। গবেষকরা প্রথমবারের এই সৌরজগতের অন্তরতম গ্রহ, HD 3167 b-এর কক্ষপথ পরিমাপ করেন। দেখা যায়, এই সৌরজগতের বাকি দুটি গ্রহর সঙ্গে তার মিল নেই। HD 3167 b আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলির মতোই নক্ষত্রের সমতলে প্রদক্ষিণ করে। অন্যদিকে HD 3167 c এবং d-এ লম্ব ভাবে প্রদক্ষিণ করে। এই প্রথম কোনও স্টার সিস্টেম এইরকম প্রবণতা দেখা গেল।

ছবি : অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স জার্নাল
ছবি : অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স জার্নাল (Astronomy and Astrophysics Journal)

'খুব আশ্চর্যজনক ঘটনা,' বলছেন সুইজারল্যান্ডের জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ভিনসেন্ট বোরিয়ার। গত মাসে অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স জার্নালে প্রকাশিত এই আবিষ্কারে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। 'এটি আমাদের নিজস্ব সৌরজগত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটা বৈশিষ্ট্য,' বলেন তিনি।

মেরু কক্ষপথে এক্সোপ্ল্যানেট খুঁজে পাওয়া সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক নয়, বলছেন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির অ্যান্ড্রু ভ্যান্ডারবার্গ। ২০১৬ সালে তিনিই HD 3167 c এবং d-এর প্রাথমিক আবিষ্কারে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় তিনি জড়িত ছিলেন না। তবে, এই সিস্টেমের লম্ব প্রকৃতি 'বেশ অদ্ভুত' বলে স্বীকার করছেন তিনি।

সর্বশেষ গবেষণায় চিলিতে অবস্থিত 'ESPRESSO' নামের এক অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ ব্যবহার করা হয়েছিল। নক্ষত্রের অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট পরিমাপ ব্যবহার করে, বিজ্ঞানীরা সেই সৌরজগতের সবচেয়ে ভিতরের গ্রহটি ট্র্যাক করতে সক্ষম হন।

এই বিচিত্র প্রদক্ষিণের পেছনে কারণ কী? বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই সৌরজগতেরই বাইরে নিকটস্থ কোনও মহাজাগতিক বস্তুর ফলে এমনটা হতে পারে। এখন সেটা খুঁজে বের করাই গবেষণার লক্ষ্য। ব্রিটেনের এক্সেটার ইউনিভার্সিটির শ্বেতা দালাল সিস্টেমটি নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি বলেন, 'প্রতি ৮০ দিনে একটি বৃহস্পতিক আকারের বৃহত্ গ্রহ নক্ষত্রটিকে প্রদক্ষিণ করে। সেই গ্রহের মহাকর্ষীয় প্রভাব বাইরের দুটি গ্রহকে তাদের অস্বাভাবিক কক্ষপথে ঠেলে দিতে পারে। অন্যদিকে সবচেয়ে ভিতরের গ্রহটির উপর মাধ্যাকর্ষণের প্রভাব প্রবল। ফলে তার কক্ষপথ অনেক বেশি দৃঢ়। তাই তাতে কোনও প্রভাব পড়ছে না।'

আগামিদিনে পর্যবেক্ষণে এরকমই আরও স্টার সিস্টেমের আবিষ্কার হতে পারে। ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির গায়া টেলিস্কোপ মিল্কিওয়েতে কোটি কোটি নক্ষত্রের ম্যাপিং করতে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি শীঘ্রই অন্যান্য নক্ষত্র সিস্টেমের হাজার হাজার দৈত্যাকার গ্রহের ডেটা প্রকাশ করবে। অন্যদিকে ডাঃ বোরিয়ার এবং তাঁর দলও অন্যান্য সিস্টেমের অনুরূপ পর্যবেক্ষণ করতে চিলির ESPRESSO টেলিস্কোপ ব্যবহার করবেন বলে জানিয়েছেন।

HD 3167-র এই অস্বাভাবিক কনফিগারেশন অন্যান্য নক্ষত্র এবং তাদের গ্রহগুলি কতটা বিস্ময়কর হতে পারে তাই তুলে ধরে। ডঃ বোরিয়ার বলেন, 'আমরা ভাবি যে গ্রহ-নক্ষত্রের গঠন সম্পর্কে আমরা সব জানি। কিন্তু এই আবিষ্কার আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখাচ্ছে।'

বন্ধ করুন