বাংলা নিউজ > টেকটক > WhatsApp-এ এই ৪টি মেসেজ থেকে সাবধান! হারাবেন সর্বস্ব
এই মেসেজগুলি এলেই রিপোর্ট মেরে ব্লক করে দিন। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা (Soumick/HT Bangla)

WhatsApp-এ এই ৪টি মেসেজ থেকে সাবধান! হারাবেন সর্বস্ব

WhatsApp Scam: প্রতারকরা হোয়াটসঅ্যাপ এবং SMS ব্যবহার করে এই ফাঁদ পাতছে। মেসেজের মাধ্যমে বোকা বানানো হচ্ছে UPI ব্যবহারকারীদের। চাকরির সুযোগ থেকে শুরু করে বিদ্যুতের বিল- বেশ কিছু 'ফেক' মেসেজ পাচ্ছেন অনেকেই। আর সেই লিঙ্কে ক্লিক করে ভুল করে টাকাও হারিয়েছেন অনেকে।

UPI চালু হওয়ার পর থেকে টাকা লেনদেন আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে। সময়ের সঙ্গে UPI-তে লেনদেনের পরিমাণও বাড়ছে। আর তার সুযোগ নিচ্ছেই বেশ কিছু প্রতারণা চক্র। UPI-এর মাধ্যমেই প্রতারণার নতুন নতুন ফন্দি আঁটছে তারা। ভুল করে সেই ফাঁদে পা দিলেই হারাতে হতে পারে সর্বস্ব।

প্রতারকরা হোয়াটসঅ্যাপ এবং SMS ব্যবহার করে এই ফাঁদ পাতছে। মেসেজের মাধ্যমে বোকা বানানো হচ্ছে UPI ব্যবহারকারীদের। চাকরির সুযোগ থেকে শুরু করে বিদ্যুতের বিল- বেশ কিছু 'ফেক' মেসেজ পাচ্ছেন অনেকেই। আর সেই লিঙ্কে ক্লিক করে ভুল করে টাকাও হারিয়েছেন অনেকে।

তাই সাবধানের মার নেই। সম্প্রতি বেড়ে যাওয়া ৪টি প্রতারণামূলক মেসেজের উদাহরণ দিলাম আমরা। এই জাতীয় মেসেজ পেলেই সঙ্গে সঙ্গে সেই নম্বরটি রিপোর্ট করুন। ব্লক করে দিন সেই প্রেরককে। আরও পড়ুন : 'আপনি কি এই ভিডিয়োয় আছেন?' মেসেজ ফেসবুক ফ্রেন্ডের, ক্লিক করলেই হ্যাক!

WhatsApp-এর আসা ৪টি প্রতারণামূলক মেসেজ:

১. 'চাকরির জন্য সিলেক্টেড' বলে মেসেজ

আপনার সিভি আমাদের চাকরির জন্য নির্বাচিত হয়েছে। দিনে ২-৩ ঘণ্টা কাজ করেই বাড়ি বসে রোজ ৮ হাজার টাকা বেতন পাবেন। অফার লেটার গ্রহণ করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন।

ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা
ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা (HT bangla)

এমন মেসেজ এসেছে এই প্রতিবেদকের কাছেও। আচ্ছা যুক্তি দিয়েই বলুন তো, হঠাত্ করে বাড়ি বসে এত বেশি বেতনের চাকরি পাওয়া সম্ভব? তা-ও আবার নিয়োগকারী যেচে যেচে মেসেজ করে ডাকবেন?

এমন লিঙ্কে ক্লিক করলেই হতে পারে ভয়ানক বিপদ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলি পিরামিড স্কিমের অংশ। আপনাকে চাকরির রেজিস্ট্রেশন ফি হিসাবে মোটা টাকা দিতে বলা হবে। তবেই নাকি আপনি দিনে ৮,০০০ টাকা বেতন পাবেন। এভাবে বোকা বানানোর চেষ্টা করা হয়।

তাই এগুলি থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়। অনলাইনে চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে লিঙ্কডইন জাতীয় ওয়েবসাইটে, সরাসরি সংস্থার ভেরিফায়েড কর্মীর পোস্টে নজর রাখুন। সংস্থার অফিসিয়াল ইমেল অ্যাড্রেসে মেল করুন।

২. 'নগদ পুরষ্কার/লাকি ড্র' জিতেছেন

কনগ্র্যাচুলেশনস! 'xyz' সংস্থার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৫০ জন ভাগ্যবান ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। আর সেই ৫০ জনের মধ্যে আপনার নম্বরটিও সিলেকটেড হয়েছে। এই মেসেজটি ১০ জনকে ফরোয়ার্ড করুন। সেই সঙ্গে নিচে দেওয়া লিঙ্কে গিয়ে আপনার বিশদ দিন।' সঙ্গে সংস্থার ছবি।

মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি? কোনও সংস্থা এমন মেসেজ করে নিশ্চই টাকা বিলিয়ে দেবে না? তাই এমন মেসেজ থেকে সাবধানে থাকুন। এভাবে কোনও সংস্থাই টাকা পাঠায় না। লিঙ্কে ভুলেও ক্লিক করবেন না। হাতিয়ে নেওয়া হতে পারে ব্যক্তিগত তথ্য। জিএসটি বা প্রসেসিং ফি-র নাম করে মোটা টাকা পাঠাতে বলা হতে পারে। এমনকি ফোনে ফিশিং প্রতারণা করারও ফাঁদ হতে পারে এটি।

৩. হঠাত্ কোনও বন্ধুর মেসেজ

দুঃখিত, আমি ভুল করে আপনাকে একটি ৬ সংখ্যার OTP পাঠিয়ে দিয়েছি। আপনি আমাকে OTP-টা ফরওয়ার্ড করতে পারবেন? এখনই দরকার।

গত বছর এই জাতীয় হোয়াটসঅ্যাপ প্রতারণা খুব ছড়িয়ে পড়েছিল। হঠাত্ আপনার কনট্যাক্টে থাকা কোনও নম্বর থেকে মেসেজ। তাতে সেই ব্যক্তি, আপনার SMS-এ আসা হোয়াটসঅ্যাপের OTP চাইত। স্ক্যামাররা আসলে কনট্যাক্টের কারও অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে এই মেসেজ করত। ভুল করে কেউ এই ওটিপি পাঠালেই তাঁর WhatsApp অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি লগ আউট হয়ে যাবেন।

আসলে, এই কোডটি WhatsApp-এর কনফার্মেশন কোড। ব্যবহারকারীরা অন্য কোনও ডিভাইস থেকে সাইন ইন করার চেষ্টা করলে এই ওটিপি আসে। প্রতারকরা আপনার নম্বর দিয়ে অন্য জায়গায় লগ ইন অ্যাটেম্পট করে। তারপর যে ওটিপি-টা আপনার কাছে আসে, সেটা আপনার থেকেই চায়। পরিচিত বন্ধুর অ্যাকাউন্ট থেকে মেসেজ করায় অনেকে বুঝতেও পারেন না। অনেক সময় আবার সেই বন্ধুর প্রোফাইল ছবি লাগানো নতুন অ্যাকাউন্ট থেকেও মেসেজ করা হয়।

OTP পাঠিয়ে দিলেই প্রতারকের কেল্লা ফতে। আপনার অ্যাকাউন্টে অন্য ডিভাইস থেকে লগ ইন করে নেয়। তারপর সেই ফোন থেকে 'লগ আউট ফ্রম অল ডিভাইসেস' করে দেয়।

৪. বিদ্যুৎ বিল মেটানোর জন্য মেসেজ

প্রিয় গ্রাহক, CESC-র তরফ থেকে আপনাকে এতদ্বারা জানানো হচ্ছে যে, আপনার গত মাসের বিদ্যুতের বিল বকেয়া রয়েছে। আজই বিল মেটানোর শেষ তারিখ। নয় তো জরিমানা হতে পারে। দ্রুত বিদ্যুতের বিল মেটাতে ক্লিক করুন এই লিঙ্কে।

সম্প্রতি এমন মেসেজের সংখ্যা বেড়েছে। এক্ষেত্রেও লিঙ্কে ক্লিক করলেই টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা। ফলে বিদ্যুতের বিল সবসময়েই সংস্থার ওয়েবসাইট খুলে অথবা, বিশ্বস্ত টাকা লেনদেনের অ্যাপের মাধ্যমে মেটান।

আপনার কাছেও কি এর মধ্যে কোনও মেসেজ এসেছে? আপনার বন্ধু, নতুন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের সঙ্গে শেয়ার করুন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার এই প্রতিবেদন। প্রবীণ ব্যক্তিদেরও কিন্তু বেশি করে নজরে রাখে এই প্রতারকরা। তাই তাঁদের এই প্রতিবেদন পাঠান ও সতর্ক করে দিন।

বন্ধ করুন