বাংলা নিউজ > Web-stories > 'নিখোঁজ' কিশোরী এখন পুলিশের কনস্টেবল, পালিয়েছিলেন বিয়ে থেকে বাঁচতে, যেন রূপকথা…

'নিখোঁজ' কিশোরী এখন পুলিশের কনস্টেবল, পালিয়েছিলেন বিয়ে থেকে বাঁচতে, যেন রূপকথা…

নাইট ডিউটিতে আগুন পোহাচ্ছেন পুলিশ কর্মীরা। (Keshav Singh/HT) (HT_PRINT)

পুলিশ জানিয়েছে এরপর এক আত্মীয়ের সঙ্গে সে থানায় আসে। সে এখন ২১ বছর বয়সের তরুণী। তদন্তকারী আধিকারিকের কাছে তিনি বয়ান দেন। আদালতেও তিনি বয়ান দেন। তিনি দাবি করেছেন অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ তাকে অপহরণ করেনি। তিনি কাউকেই এনিয়ে চিহ্নিত করেননি।

অবিনাশ কুমার

২০১৮ সালের ১২ জুন। মুজফ্ফরপুর জেলার বোচাহান থানা এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়েছিল ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে।অভিযোগ ছিল এমনটাই। পাঁচবছর বাদে খোঁজ মিলল তাঁর। আর সকলকে অবাক করে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সেই কিশোরীই এখন দিল্লি পুলিশে ট্রেনিং নিচ্ছেন।

আসলে বোচাহান থানার আধিকারিক অরবিন্দ প্রসাদ বকেয়া মামলাগুলি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছিলেন। সেই সময় তিনি দেখেন ২০১৮ সাল থেকে একটি অপহরণের মামলা ঝুলে রয়েছে। এরপরই তিনি এনিয়ে খোঁজাখুজি শুরু করেন। জানা যায় বাজারে যাওয়ার পথে ওই কিশোরী নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন।

পুলিশ তার বাড়িতে খোঁজ নেয়। এদিকে তার বাবা সেই সময় তিনজন স্থানীয় যুবকের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ এনেছিলেন। তবে তাদের মধ্যে কাউকেই গ্রেফতার করা যায়নি। এদিকে কোথায় গেল তবে মেয়েটি?

পুলিশ এরপর অভিযুক্তদের বাড়ি যায়। তারা মেয়েটির সম্পর্কে কিছু তথ্য দিতে পারে। এরপর পুলিশ তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাকে থানায় দেখা করার জন্য বলা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে এরপর এক আত্মীয়ের সঙ্গে তিনি থানায় আসেন। তিনি এখন ২১ বছর বয়সের তরুণী। তদন্তকারী আধিকারিকের কাছে তিনি বয়ান দেন। আদালতেও তিনি বয়ান দেন। তিনি দাবি করেছেন অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ তাকে অপহরণ করেনি। তিনি কাউকেই এনিয়ে চিহ্নিত করেননি।

তিনি তার বয়ানে উল্লেখ করেছেন, তিনি বর্তমানে দিল্লি পুলিশের কনস্টেবল হিসাবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তবে চমকের এখানেই শেষ নয়। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি নিজেই বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিলেন। পরিবারের সঙ্গে ঝামেলার জেরে তিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন। পরিবার গরিব হওয়ার জন্য তাকে তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন অভিভাবকরা। কিন্তু তাতে আপত্তি ছিল কিশোরীর। এরপর কাউকে না বলে তিনি দিল্লি চলে আসেন। এরপর শুরু হয় লড়াই। তিনি পড়াশোনাও চালিয়ে যান। একের পর এক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তিনি বসতে থাকেন। এরপর দিল্লি পুলিশের কনস্টেবল পদে তিনি চাকরি পেয়ে যান। রূপকথাকেও যেন হার মানায় এই কাহিনি। পুলিশ সূত্রে এমনটাই খবর।

পুলিশের কাছে বয়ান দেওয়ার পরে তিনি ফের দিল্লি ফিরে যান। জানা গিয়েছে ওই তরুণীর বাবা শ্রমিকের কাজ করেন। সংসার চলে না ভালো করে। কিন্তু তিনি চাইতেন মেয়ে পড়াশোনা করুক। কিন্তু পরিবারের অন্যরা বিয়ে দিতে চাইতেন। তবে এবার পুলিশে চাকরি পেয়ে বাবার স্বপ্নও পূরণ করলেন ওই তরুণী।

 

বন্ধ করুন