বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > থানা ভাঙচুর থেকে অগ্নিসংযোগে বাম–কংগ্রেস, গ্রেফতার ৩০ কংগ্রেস কর্মী–সমর্থক

থানা ভাঙচুর থেকে অগ্নিসংযোগে বাম–কংগ্রেস, গ্রেফতার ৩০ কংগ্রেস কর্মী–সমর্থক

রানিনগর থানায় ভাঙচুর-তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় আগুন

তাঁদের কর্মী–সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে। তাই রানিনগর থানা ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। কিন্তু থানার গেট থেকে ভিতরে ইটবৃষ্টি করার কথা স্বীকার করেনি তারা। এই হামলার ঘটনায় একাধিক পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন। তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় এবং লাঠিচার্জও করে বলে অভিযোগ।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীর সভার পরই শুক্রবার ধুন্ধুমার কাণ্ড তৈরি হয়েছিল মুর্শিদাবাদের রানিনগরে। কংগ্রেসের একদল কর্মী–সমর্থক ক্ষিপ্ত হয়ে রানিনগর থানার ভিতরে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় পুলিশের একজন সাব ইনস্পেক্টর–সহ মোট চারজন পুলিশকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে রানিনগর থানার পুলিশ। ধৃতরা প্রত্যেকেই কংগ্রেসের কর্মী–সমর্থক বলে জানা গিয়েছে। ফলে আবার আক্রান্ত হল পুলিশ।

এদিকে বাম–কংগ্রেসের অভিযোগ, তাঁদের কর্মী–সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে। তাই রানিনগর থানা ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। কিন্তু থানার গেট থেকে ভিতরে ইটবৃষ্টি করার কথা স্বীকার করেনি তারা। এই হামলার ঘটনায় একাধিক পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন। তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় এবং লাঠিচার্জও করে বলে অভিযোগ। এই থানার পাশাপাশি এখানের তৃণমূল কংগ্রেসের একটি কার্যালয়ও ভাঙচুর করা হয়। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় আসবাবপত্রে বলে অভিযোগ। তবে রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

অন্যদিকে অধীর চৌধুরী সভা করে চলে যাওয়ার পরই ঝামেলা শুরু হয় বলে অভিযোগ। থানায় হামলার ঘটনা কাম্য নয় বলেই জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। রানিনগরে থানায় ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে অধীর চৌধুরী বলেন, ‘আমি কখনওই বলছি না, যারা হামলা করেছে তারা ঠিক করেছে। সে কথা আমি বলছি না। কিন্তু ঘটনার সূত্রপাত কোথায় সেটাও পুলিশের দেখা দরকার।’ সেটা না করলে গোটা বিষয়টি একতরফা হয়ে যেতে পারে বলেই মত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির। আবার কংগ্রেস নেতা জাহাঙ্গির ফকির বলেন, ‘‌পুলিশের মারে ৮ জন কর্মী জখম হয়েছেন। তার মধ্যে চারজনকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।’‌

আরও পড়ুন:‌ ভাইরাল জ্বরে কাঁপছে শহর থেকে জেলা, হঠাৎ কেন এমন হচ্ছে?‌ আলোড়ন সর্বত্র

তারপর ঠিক কী ঘটেছে?‌ অধীররঞ্জন চৌধুরী এই ঘটনাকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলেছেন। তিনি বলেন, ‘‌গোধনপাড়ায় বাম–কংগ্রেসের একটি বিজয় সমাবেশ ছিল। ওই সমাবেশে যাওয়ার জন্য বড় একটি মিছিল যাচ্ছিল। কিন্তু পুলিশ ওই মিছিলে বাধা দেয়। আমাদের কর্মী–সমর্থকদের মারধর করে। কিছু গাড়িও ভেঙেছে। যার প্রেক্ষিতে মানুষ ক্ষোভপ্রকাশ করেছে। শুনেছি পুলিশ আমাদের বেশ কয়েকজন কর্মীকে মারধর করেছে।’‌ পাল্টা রানিনগরের বিধায়ক সৌমিক হোসেন বলেন, ‘‌কংগ্রেস নেতৃত্বের উসকানিতেই থানায় এবং তৃণমূল কার্যালয় ভাঙচুর করে আগুন ধরানো হয়েছে। পুলিশকে বলব এই নারকীয় ঘটনার নেপথ্যে যারা রয়েছে তাদেরও যেন গ্রেফতার করে।’‌

বন্ধ করুন