বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ‘‌মিম একটা বিষ মাখা খাবার, বিষ খাবেন না’‌, হুঁশিয়ারি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর
সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। (ফাইল ছবি, সৌজন্য ফেসবুক)
সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। (ফাইল ছবি, সৌজন্য ফেসবুক)

‘‌মিম একটা বিষ মাখা খাবার, বিষ খাবেন না’‌, হুঁশিয়ারি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর

  • তীব্র আক্রমণ করলেন জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। 

বিহারের পর নজরে বাংলা। রাজ্যে অল ইন্ডিয়া মজলিস–ই–ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (মিম) প্রধান তথা সাংসদ আসাউদ্দিন ওয়েইসির সফরের দিনই তৃণমূল কংগ্রেস পাল্টা হুংকার ছাড়ল। তীব্র আক্রমণ করলেন জমিয়তে-উলেমায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। আর রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটে থাবা বসাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মিম প্রধান। বিহারের পর এই রাজ্যে মুসলিম ভোট করায়ত্ত করতে তিনি এবার খেললেন ফুরফুরা শরিফের কার্ড। রবিবার ফুরফুরার পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকির সঙ্গে বৈঠক করে তিনি জানিয়ে দেন, সিদ্দিকিকে সামনে রেখেই এ রাজ্যে ভোটে লড়বে মিম। তাৎপর্যপূর্ণ হল, আব্বাস সিদ্দিকি রাজ্য সরকারের অন্যতম সমালোচক হিসেবেই পরিচিত।

রবিবার সিউড়ির ইদগাহ মাঠে গণবিক্ষোভ সভা করে জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দ। সেখানে মূল বক্তা ছিলেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। কেন্দ্র সরকার এবং মিমকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটি বড় দুঃখের। কারণ হায়দরাবাদ থেকে মিম নামে একটি পাখি উড়ে এসেছে। এটাও একটা বিষ মাখা খাবার। বাংলার জন্য আমরাই যথেষ্ট। হায়দরাবাদের মৌলবির দরকার নেই। দিদিকে বিরক্ত করতে বিজেপি‌র দালালি করতে মিমের আবির্ভাব হচ্ছে।’‌ মিমের সেই উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (ববি) মুর্শিদাবাদ জেলায় কুলিতে ভিড়েঠাসা এক জনসভায় বলেন, ‘মিম বিজেপি‌র বি টিম। মিমকে ভোট দিয়ে বিজেপি’র সুবিধা করে দেবেন না।’

রবিবার জনসভায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেকের হালে বিজেপিতে যোগদানের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেক মুসলিম নমাজ পড়ছেন, বিজেপি করছেন। আমি অনুরোধ করব বিষ খাবেন না। আমার ভুল হলে আমায় বলুন। অনুব্রতর ভুল হলে তাঁকে বলুন। কৃষিমন্ত্রীর ভুল হলে বলুন। কিন্তু বিষ খাবেন না।’ তবে রবিবারের বৈঠক নিয়ে খোদ ফুরফুরা শরিফ থেকেই সতর্কবার্তার সঙ্গে শোনা গিয়েছে হুঁশিয়ারিও। ফুরফুরার পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি বাংলায় জায়গা পাবে না। যাঁরা পিছন থেকে মদত দিচ্ছেন, তাঁরাও সফল হবেন না। ২০২১ সালে বাংলার সংখ্যালঘু মানুষ সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে ভোট দেবেন।’

উল্লেখ্য, নভেম্বর মাসের ২৫ তারিখ সিউড়িতে বিজেপির সভা মঞ্চ থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেকের হাতে গেরুয়া পতাকা তুলে দেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বিজেপি‌র সংখ্যালঘুর মোর্চার নেতা শেখ সামাদের মেয়েকে মঞ্চে ডেকে নেন এবং তাঁদের ফুল দিয়ে সংবর্ধনা দেন দিলীপ ঘোষ। সামাদ দীর্ঘদিন ধরে জেলবন্দি। বিহারে নির্বাচনের পরই এ রাজ্যের সংখ্যালঘু প্রভাবিত জেলাগুলিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেছে মিম। বিহারে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ভাগ বসিয়ে নীতীশ কুমার ও বিজেপির ক্ষমতা দখলের পথ মসৃণ করে দিয়েছিল ওয়াইসির মিম। পশ্চিমবঙ্গেও একই ফর্মুলায় এগোতে চাইছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।

মুর্শিদাবাদের জনসভা থেকে ফিরহাদ বলেন, ‘মিম বিজেপি’র বি টিম হয়ে কাজ করছে। তাই ওদের একটি ভোটও দেবেন না। মিম সেটিং করে ভোট কেটে বিজেপি‌র সুবিধা করে দিতে চাইছে। কিছুদিন আগে কেজরিওয়াল একটা ভিডিয়ো সামনে এনেছিলেন। সেখানে ওয়াইসি আর অমিত শাহকে বৈঠক করতে দেখা গিয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করতে হবে। হায়দরাবাদ বা গুজরাত থেকে এসে আমাদের ধর্ম শেখাবে? মিম চাইলেও এই রাজ্যে বিজেপিকে আনতে পারবে না। কারণ এই রাজ্যের মানুষ গুজরাতের মতো দাঙ্গা বা যোগী রাজ্যের মতো প্রত্যেকদিন খুন চায় না।’

বন্ধ করুন