বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ভিয়েনা শহরে চমকপ্রদ স্থাপত্যে প্রকৃতির ছোঁয়া

ভিয়েনা শহরে চমকপ্রদ স্থাপত্যে প্রকৃতির ছোঁয়া

ভিয়েনার শহরে চমকপ্রদ স্থাপত্যে প্রকৃতির ছোঁয়া। ছবি ডয়চে ভেলে

অস্ট্রিয়ার এই ইতিহাসবিদ হুন্ডার্টভাসার ভবনের ছাদে নিয়ে গেলেন, যেটি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকে৷ মিউজিয়ামের সাধারণ দর্শকরা এই সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠার সুযোগ পান না৷ সেই সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠলে শিল্পী ও স্থপতির ব্যক্তিগত ফ্ল্যাটে পৌঁছনো যায়৷

ভিয়েনা শহরের সঙ্গে যে শিল্পী ও স্থপতির পরিচয় অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, সেই হুন্ডার্টভাসার একটি কারখানাকে অভিনব স্থাপত্য হিসেবে রূপান্তরিত করেছেন৷ প্রকৃতি, স্থাপত্য ও শিল্পের মধ্যে অসাধারণ মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন তিনি৷

এক ভবনের দেওয়ালের পেছনে রহস্য লুকিয়ে রয়েছে৷ শিল্প ইতিহাসবিদ হিসেবে আলেক্সান্ড্রা মাৎসনার সেই রহস্য উন্মোচন করেন৷ তিনি বলেন, ‘শিল্পী হিসেবে ফ্রিডেন্সরাইশ হুন্ডার্টভাসার এখানে যে ইউটোপিয়া বা কল্পলোককে বাস্তবে রূপান্তরিত করেছেন, আমি তাতে মুগ্ধ৷ তিনি নির্মাণ, বাসস্থান ও উৎসব পালন করার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করেছিলেন৷ তবে প্রকৃতি তাঁর কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে৷ যেমন, শহরে থেকেও মানুষ কীভাবে গাছপালার সঙ্গে বসবাস ও কাজ করতে পারে, জীবন উপভোগ করতে পারে৷ আমি আপনাদের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য দেখাব, যা আগে নিশ্চয় কখনও দেখেননি৷'

অস্ট্রিয়ার এই ইতিহাসবিদ হুন্ডার্টভাসার ভবনের ছাদে নিয়ে গেলেন, যেটি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকে৷ মিউজিয়ামের সাধারণ দর্শকরা এই সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠার সুযোগ পান না৷ সেই সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠলে শিল্পী ও স্থপতির ব্যক্তিগত ফ্ল্যাটে পৌঁছনো যায়৷ একমাত্র মিউজিয়ামের প্রদর্শনকারী হিসেবে সেখানে যাবার সুযোগ রয়েছে৷ যেমন মার্কিন আলোকচিত্রী অ্যানি লিবেউইটস এবং ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী পল ম্যাককার্টনি সেই ফ্ল্যাটে পা রেখেছেন৷ মাৎসনার বলেন, ‘ভিয়েনায় থাকলে হুন্ডার্টভাসার এখানেই থাকতেন ও কাজ করতেন৷ এখানেই তিনি স্থাপত্যের স্বপ্নগুলি বাস্তবে রূপান্তরিত করেছিলেন৷ জঙ্গল তার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল৷ নিজের বাসার দোড়গড়ায়ই তিনি সেটি গড়ে তুলেছিলেন৷'

এটাই সম্ভবত ভিয়েনা শহরের সবচেয়ে ছোট জঙ্গল৷ ২২০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে ২০টি গাছের সমারোহ৷ নিজে দুধ খেতে ভালোবাসতেন বলে তিনি সেখানে গরু চরানোর ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন৷ তবে সেটা আর সম্ভব হয়নি৷ কর্তৃপক্ষ সেই অনুমতি দেয়নি৷ শিল্প ইতিহাসবিদ হিসেবে আলেক্সান্ড্রা মাৎসনার মনে করিয়ে দিলেন, ‘হুন্ডার্টভাসার প্রকৃতি খুব ভালোবাসতেন৷ সম্ভব হলে তিনি গ্রামাঞ্চলেই জীবন কাটাতেন৷ জঙ্গল, পানি ও সূর্যের আলোর মাঝে অতি সাধারণ বাড়িই তাঁর পছন্দ হত৷ কিন্তু শহরে থাকতে বাধ্য হলেও তিনি প্রকৃতিকেই বাসার মধ্যে আনার চেষ্টা করেছিলেন৷'

ভিয়েনার কুনস্ট হাউস আসলে এক আপসাইক্লিং প্রকল্প৷ বন্ধ হয়ে যাওয়া আসবাবের কারখানাকে মিউজিয়ামে রূপান্তরিত করা হয়েছে৷ মাৎসনার বলেন, ‘এবার আপনাদের দেখাতে চাই, হুন্ডার্টভাসার কীভাবে তার মিউজিয়ামের কনসেপ্ট সৃষ্টি করেছিলেন৷ তিনি ১৮৯২ সালে তৈরি টোনেট কোম্পানির কারখানা বেছে নিয়ে নিজের স্থাপত্যের স্বপ্ন অনুযায়ী সেটির পুনর্গঠন করেছিলেন৷'

সেই ভবনে প্রায় দেড় হাজার বর্গ মিটার প্রদর্শনীর জায়গা সৃষ্টি হল৷ ১৯৯১ সালে ‘কুনস্ট হাউস ভিন' উদ্বোধন করা হয়৷ একটি তলায় স্থপতি ও শিল্পীর ১৭৩টি সৃষ্টিকর্ম শোভা পাচ্ছে৷ আলেক্সান্ড্রা মাৎসনার বলেন, ‘ভিয়েনার আর্ট হাউসের স্থায়ী প্রদর্শনী হুন্ডার্টভাসারের জীবন ও কাজ সম্পর্কে একটা সার্বিক ধারণা দেয়৷ সেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছবিগুলি রয়েছে৷ সেটাই সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী৷ তিনি নিজেই সব পরিকল্পনা করেছিলেন৷ সবকিছু খাঁটি৷ মেঝেটি ঊনবিংশ শতাব্দীর, দেওয়ালেও আঁকা হয়েছে৷'

ফ্রিডেন্সরাইশ হুন্ডার্টভাসার সেই প্রক্রিয়ায় সমসাময়িক শিল্পের একটা স্পেস সৃষ্টি করেছেন৷ সেখানে নিয়মিত নতুন প্রদর্শনী দেখা যায়৷ গোটা ভবন জুড়ে একাধিক গাছ ছড়িয়ে রয়েছে৷ এই ভাবনার মূলমন্ত্র হলো – মানুষ হিসেবে আমরা যদি ভবন নির্মাণ করে প্রকৃতির জায়গা চুরি করি, অন্য কোথাও তাদের সেটা ফেরত দিতে হবে৷ এমন ভাবনা হুন্ডার্টভাসারের পক্ষেই ভাবা সম্ভব৷

বন্ধ করুন