বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > প্রথম মহিলা বিচারক পাচ্ছে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট,তাও দেওয়া হল ধর্মঘটের হুমকি
বিচারপতি আয়েশা মালিক। (ছবি সৌজন্যে টুইটার)

প্রথম মহিলা বিচারক পাচ্ছে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট,তাও দেওয়া হল ধর্মঘটের হুমকি

  • শুধু লিঙ্গবৈষম্য সংক্রান্ত মামলা নয়, শীর্ষ আদালতে বিচারক হিসেবে আয়েশা মালিকের নিয়োগ আত্মবিশ্বাস জোগাবে পাকিস্তানের নারীদের, মত ডিজিটাল অধিকার বিষয়ক এক আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী নিঘাত দাদের৷

পাকিস্তানের বিচারবিভাগীয় কমিটি সুপ্রিম কোর্টের প্রথম নারী বিচারক হিসেবে আয়েশা মালিকের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছে৷ খুব শিগগিরই কাজে যোগ দিতে পারেন আয়েশা৷ এই সিদ্ধান্তে সরকার অত্যন্ত সাদরে সম্মতি জানিয়েছে৷ সরকারের পাশাপাশি আইনজীবী মহল, সমাজকর্মী, নাগরিক সমাজের বড় অংশ এই সিদ্ধান্তে সাধুবাদ জানিয়েছে৷

পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি গুলজার আহমেদ আয়েশার মনোনয়নে সম্মতি দিয়েছেন৷ পরবর্তী ধাপ হল সংসদীয় প্যানেল সেখানে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান শাসিত তেহরিক-ই-ইনসাফের সদস্যরা আগামী ১০ বছরের জন্য শীর্ষ আদালতের বিচারক হিসেবে আয়েশার নিয়োগে সম্মতি দিতে চলেছেন৷

শাসক দলের মালিকা বোখারি ডয়চে ভেলেকে জানান, পাকিস্তানের জন্য এটা অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ৷ আয়েশা অত্যন্ত কর্মদক্ষ একজন বিচারক৷ আইন ও বিচার সংক্রান্ত বিষয়ে নারীদের রোল মডেল তিনি৷ পাকিস্তানের মানবাধিকার সংগঠন এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে৷ কমিশন বিবৃতিতে জানিয়েছে, সবমিলিয়ে মাত্র ১৭ শতাংশ নারী আইনজীবী রয়েছেন পাকিস্তানে, হাইকোর্টে যা মাত্র ৪.৪ শতাংশ৷ আইন বিভাগে লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে এ সিদ্ধান্ত সাহায্য করবে৷

শুধু লিঙ্গবৈষম্য সংক্রান্ত মামলা নয়, শীর্ষ আদালতে বিচারক হিসেবে আয়েশা মালিকের নিয়োগ আত্মবিশ্বাস জোগাবে পাকিস্তানের নারীদের, মত ডিজিটাল অধিকার বিষয়ক এক আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী নিঘাত দাদের৷

নিউ ইয়র্ক, প্যারিস, লন্ডনে পড়াশোনার পর লাহোরে পাকিস্তানি কলেজ অফ ল-তে উচ্চশিক্ষার পাঠ নিয়েছেন আয়েশা৷ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯৮-১৯৯৯ সালের ফেলো ছিলেন তিনি৷ বাণিজ্য সংক্রান্ত একাধিক শাখায় গবেষণাপত্র রয়েছে তার৷ অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেসের হয়ে সাংবাদিকতা করেছেন তিনি৷ অক্সফোর্ড রিপোর্ট অন দ্য ইন্টারন্যাশনাল ল ইন দ্য ডমেস্টিক কোর্টের হয়ে কাজ করেছেন৷

৫৫ বছর বয়সি আয়েশা বর্তমানে লাহোর হাইকোর্টের বিচারক৷ সাংবিধানিক ইস্যুতে একাধিক জরুরি রায় দিয়েছেন তিনি৷ পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক সালিশের প্রয়োগ, নির্বাচনে সম্পত্তির খতিয়ান এবং ধর্ষিতাদের কৌমার্য পরীক্ষার উপর নিষেধাজ্ঞার মতো অত্যন্ত জরুরি রায়ও এসেছে আয়েশার মাধ্যমেই৷

যদিও আয়েশার নিয়োগ নিয়ে ভোটাভুটির সময় কমিটি সদস্যদের চার জন তাঁর নিয়োগে বিরোধিতা করেছেন৷ অভিজ্ঞতা সংক্রান্ত নিয়মভঙ্গ করা হবে তাঁর নিয়োগ হলে, এমন কথাও বলেছেন কোনও কোনও আইনজীবী৷ ধর্মঘটে নেমে আদালতের কাজ বয়কটের হুমকিও দিয়েছেন একাধিক আইনজীবী৷ ইসলামাবাদের আইনজীবী এবং অধিকারকর্মী ইমান মাজারি ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, এটা অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ৷ আয়েশা মালিকের যোগ্যতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠতে পারে না৷

(বিশেষ দ্রষ্টব্য : প্রতিবেদনটি ডয়চে ভেলে থেকে নেওয়া হয়েছে। সেই প্রতিবেদনই তুলে ধরা হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার কোনও প্রতিনিধি এই প্রতিবেদন লেখেননি।)

বন্ধ করুন