বাংলা নিউজ > ময়দান > #HappyBirthdaySachin: সচিনের উজ্জ্বল আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে রবি শাস্ত্রীর বড় অবদানের কথা জানেন কি?
কেরিয়ারের শুরুতে সচিন তেন্ডুলকর। ছবি- গেটি ইমেজেস।
কেরিয়ারের শুরুতে সচিন তেন্ডুলকর। ছবি- গেটি ইমেজেস।

#HappyBirthdaySachin: সচিনের উজ্জ্বল আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে রবি শাস্ত্রীর বড় অবদানের কথা জানেন কি?

  • কেরিয়ারের প্রথম টেস্ট ইনিংসে ১৫ রানে আউট হয়ে তেন্ডুলকর ভেবেছিলেন, আর বোধহয় সুযোগ আসবে না।

১৯৮৯ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিষেক টেস্টে মাঠে নামার সময় ১৬ বছর বয়সী সচিন তেন্ডুলকরের পক্ষে কোনওভাবেই ভাবা সম্ভব ছিল না যে, একদিন তিনি ক্রিকেটের ঈশ্বর হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠবেন। কোনওভাবেই এমন স্বপ্ন দেখা সম্ভব ছিল না যে, একদিন সব থেকে বেশি আন্তর্জাতিক রান ও সেঞ্চুরির মালিক হবেন। বরং, অভিষেক ম্যাচের পারফর্ম্যান্সের নিরিখে তাঁর এটাই মনে হয়েছিল বুঝি দেশের হয়ে কেরিয়ারের প্রথম ম্যাচটাই তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হতে চলেছে। ছবিটা বদলে যেতে বিশেষ সময় লাগেনি। আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতেই আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি মাস্টার ব্লাস্টারকে।

অভিষেক টেস্ট ইনিংসে ব্যর্থ হওয়ার পর সচিনের আত্মবিশ্বাস ফেরানোর পিছনে কৃতিত্ব প্রাপ্য টিম ইন্ডিয়ার বর্তমান হেড কোচ রবি শাস্ত্রীর। সচিন নিজেই সেটা জানিয়েছেন। একদা প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক নাসের হুসেনের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে সচিন বলেন, কেরিয়ারের প্রথম টেস্ট ইনিংসে আউট হয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরার পর রবি শাস্ত্রী তাঁকে মূল্যবান কিছু পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই পরামর্শ কাজে লাগিয়েই তিনি পরের টেস্টে দাপুটে ব্যাটিং করতে সক্ষম হন।

সচিন বলেন, 'স্বীকার করতে লজ্জা নেই যে, কোনও কুল কিনারা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। যেভাবে কেরিয়ারের প্রথম টেস্ট খেলেছিলাম, যেন একটা স্কুল ম্যাচ। ওয়াসিম আর ওয়াকার এত জোরে বল করছিল, গতিতেই পরাস্ত হচ্ছিলাম বার বার। যতরকম বিষাক্ত ডেলিভারি হয়, সব প্রয়োগ করেছে ওরা। আগে কখনও এমন বোলিংয়ের মুখে পড়িনি। যখন ১৫ রানে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরি, মনে হচ্ছিল বুঝি এটাই আমার কেরিয়ারের প্রথম ও শেষ টেস্ট হতে চলেছে।'

সচিন আরও বলেন, ‘কার্যত কাঁদতে কাঁদতে সাজঘরে ফিরেই বাথরুমে চলে যাই। আমার মনের অবস্থা বুঝতে পারে সতীর্থরা। পরে রবি শাস্ত্রী আমার কাছে এগিয়ে আসে। বলে, তুমি নেহাৎ স্কুল ম্যাচের মতো খেলছিলে। তুমি সেরা বোলারদের বিরুদ্ধে খেলছ। ওদের ক্ষমতা ও দক্ষতাকে সম্মান জানাতে হবে। আমি তখন বলি, ওদের গতিতে পরাস্ত হচ্ছিলাম। শাস্ত্রী বলে, এটা হয়। ক্রিজে গিয়ে সময় কাটাও। আধ ঘণ্টা থাকলে গতির সঙ্গে সড়গড় হয়ে যাবে।’

শেষে তেন্ডুলকর জানান, ‘পরে ফয়জলাবাদ টেস্টে যখন ব্যাট করতে নামি, তখন রবি শাস্ত্রীর কথাগুলো মাথায় ছিল। ঠিক করেছিলাম, স্কোর বোর্ডের দিকে তাকাবই না। শুধু ঘড়ির দিতে তাকাব। সত্যি সত্যিই আধ ঘণ্টা ক্রিজে থাকার পর সব কিছু অনেক স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। সেই ম্যাচে ৫৯ রান করি। তার পর থেকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।’

বন্ধ করুন