বাড়ি > ময়দান > India vs New Zealand 2nd Test: বিরাটদের মানসিকতায় ধাক্কা কিউয়িদের, টেস্টেও হোয়াইটওয়াশ ভারত
অনায়াসে সিরিজ জিতল নিউজিল্যান্ড (ছবি সৌজন্য এপি)
অনায়াসে সিরিজ জিতল নিউজিল্যান্ড (ছবি সৌজন্য এপি)

India vs New Zealand 2nd Test: বিরাটদের মানসিকতায় ধাক্কা কিউয়িদের, টেস্টেও হোয়াইটওয়াশ ভারত

ক্রাইস্টচার্চে বল যে তেমন সুইং করছিল তেমনটা মোটেই নয়। বরং রিচার্ড হ্যাডলির দেশের বোলাররা ভারতীয়দের মানসিকতা নিয়ে ছিনিমিনি খেললেন।

এতদিন স্বপ্নের উড়ান অব্যাহত ছিল। কিন্তু নিউজিল্যান্ডে মুখ থুবড়ে পড়ল সেই উড়ান। দু'ম্যাচের টেস্ট সিরিজে মেরেকেটে দুটি সেশনে কিছুটা টক্কর দিয়েছে ভারত। বাকিগুলিতে দাঁড়াতেই পারেননি বিরাট কোহলিরা। সেখান থেকেই টিম ইন্ডিয়ার করুণ ছবিটা আরও স্পষ্ট হয়।

প্রথম টেস্টে কোনও সুযোগই পাননি বিরাটরা। দ্বিতীয় টেস্টে অবশ্য যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রথম ইনিংসে ভারতীয়রা বল করেছিলেন। টেল কাঁটায় বিদ্ধ হলেও সাত রানে এগিয়ে ছিল ভারত। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে সেই সুযোগটাই নিতে পারলেন না অজিঙ্কা রাহানে, মায়াঙ্ক আগরওয়ালরা।

অথচ ক্রাইস্টচার্চে বল যে তেমন সুইং করছিল তেমনটা মোটেই নয়। বরং রিচার্ড হ্যাডলির দেশের বোলাররা ভারতীয়দের মানসিকতা নিয়ে ছিনিমিনি খেললেন। বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দলের যে মানসিকতায় গলদ কতটা আছে, তা সবার সামনে তুলে ধরলেন ট্রেন্ট বোল্ট, কাইল জেমিসনরা। যার নিটফল, দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৪ রানেই অলআউট হয়ে গেল ভারত। তিনজন ছাড়া দুই অঙ্কের স্কোর পেরোলেন না কেউই। ফলে জয়ের জন্য কিউয়িদের মাত্র ১৩২ রান দরকার ছিল।

ম্যাচে কিছুটা থাকার জন্য শুরুতেই নিউজিল্যান্ডের দু-তিন উইকেট তুলে নেওয়ার দরকার ছিল। কিন্তু সেই কাজটাই করতে পারলেন না ভারতীয় বোলাররা। যখন কিউয়িদের প্রথম উইকেট পড়ল, তখন জয়ের জন্য দরকার মাত্র ২৯ রান। এরপর আরও দু'উইকেট পড়লেও কিউয়িরা যে চাপে থাকবেন, সেই পুঁজিটাই ছিল না ভারতের হাতে। সে কথাটা অনুভব করেছিলেন বিরাটও। তাই নিজেও বল করলেন।

শেষপর্যন্ত তিন উইকেট হারিয়েই প্রয়োজনীয় রান তুলে নিয়ে টেস্ট সিরিজে ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করল নিউজিল্যান্ড। টি-টোয়েন্টি সিরিজ কিউয়িদের গায়ে 'চোকার্স' তকমা সেঁটে দিয়েছিল। আর তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে একদিনের ও টেস্ট সিরিজ পকেটে পুরে নিলেন তাঁরা।

টেস্ট সিরিজ জয়ের বেশিরভাগ কৃতিত্ব অবশ্য কিউয়ি বোলাররা পাবেন। তাঁরা ভারতীয়দের তেমন সুযোগ দেননি। কোন কোন ব্যাটসম্যানের কোথায় দুর্বলতা, কীভাবে মানসিকভাবে ধাক্কা দেওয়া যাবে তা পুরোটাই অসাধারণভাবে প্রয়োগ করেছেন সিরিজে। সেজন্য স্বাভাবিক কারণেই সিরিজ ও ম্যাচের সেরা হয়েছেন দুই বোলার। সিরিজের সেরা হয়েছেন টিম সাউদি। ম্যাচের সেরা হয়েছেন জেমিসন। অভিষেক টেস্ট সিরিজেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন। তবে শুধু বল হাতে নয়, ব্যাট হাতেও দলকে বিপদ থেকে বের করতে পারবেন, তাও বুঝিয়ে দিলেন তিনি।

তবে সিরিজ হারলেও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষস্থান হাতছাড়া হল না ভারতের। ন'ম্যাচে ৩৬০ পয়েন্ট নিয়ে এখনও শীর্ষে রয়েছেন বিরাটরা। তবে একাধিক প্রশ্ন তুলে দিল বিরাটদের মানসিকতা নিয়ে। সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য বসতেই হবে রবি শাস্ত্রীকে।

সিরিজ হারের পর বিরাটরা (ছবি সৌজন্য এপি)
সিরিজ হারের পর বিরাটরা (ছবি সৌজন্য এপি)
বন্ধ করুন