বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > শুধুই ‌আশ্বাস! ইয়াস বিধ্বস্ত হলদিয়ায় দেখা মেলেনি বিধায়কের, ক্ষুব্ধ দুর্গতেরা
হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডল। 
হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডল। 

শুধুই ‌আশ্বাস! ইয়াস বিধ্বস্ত হলদিয়ায় দেখা মেলেনি বিধায়কের, ক্ষুব্ধ দুর্গতেরা

  • চৈতন্যপুর পঞ্চায়েতের মনিরামপুরে ত্রাণশিবিরে আছেন বিজেপি কর্মী একাদশী প্রধান। কিন্তু পাল্টা তিনি বলেন, ‘ত্রাণশিবিরে এসে বিধায়ককে ফোন করেছিলাম। বিধায়ক বলেছেন, ‘‌যা খরচা হচ্ছে, হিসাব করে রাখুন। পরে টাকা দিয়ে দেওয়া হবে!’‌ তাঁর অভিযোগ,‌ বিধায়ক আর ত্রাণ শিবিরে আসেননি। শুধুই আশ্বাস মিলেছে।

‘‌যা খরচা হচ্ছে হিসাব করে রাখুন, পরে দিয়ে দেওয়া হবে!‌’‌ শুধুই টাকা দেওয়ার আশ্বাস। ইয়াস বিধ্বস্ত হলদিয়ায় দেখা নেই বিধায়কের। ক্ষুব্ধ দুর্গতদের ক্ষোভ ঝড়ে পড়ল বিধায়কের বিরুদ্ধে। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতির ঝড়। আপদে বিপদে গ্রামের মানুষের পাশে থাকার অঙ্গিকার। তারপর?‌ একবার প্রার্থীরা ভোটে জিতে গেলেই, যে কার সেই অবস্থা। আর তাঁদের এলাকায় দেখা যায় না বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ সাধারণ মানুষের। 

এবার এমনই অভিযোগ উঠেছে হলদিয়ার বিজেপি বিধাযক তাপসী মণ্ডলের বিরুদ্ধে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে আসা এই বিধায়কের অভিযোগ ছিল, সিপিএমে থেকে স্বাধীনভাবে মানুষের জন্য কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ হলদিয়ার মানুষেরা অভিযোগ তুলেছেন, করোনা সংক্রমণের সময় তো বটেই, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে শিল্প শহর হলদিয়া। তার সত্ত্বেও এলাকায় দেখা মেলেনি তাপসী মণ্ডলের। আবার বিধায়ক তাপসী মণ্ডলের দাবি, তিনি সব জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু তৃণমূলের বাধায় যেতে পারছেন না।

চৈতন্যপুর পঞ্চায়েতের মনিরামপুরে ত্রাণশিবিরে আছেন বিজেপি কর্মী একাদশী প্রধান। কিন্তু পাল্টা তিনি বলেন, ‘ত্রাণশিবিরে এসে বিধায়ককে ফোন করেছিলাম। বিধায়ক বলেছেন, ‘‌যা খরচা হচ্ছে, হিসাব করে রাখুন। পরে টাকা দিয়ে দেওয়া হবে!’‌ তাঁর অভিযোগ,‌ বিধায়ক আর ত্রাণ শিবিরে আসেননি। শুধুই আশ্বাস মিলেছে। এই টানাপড়েন নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে।

ইয়াসের দাপট হলদিয়ার অধিকাংশ এলাকাতেই পড়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এলাকার বিধায়কে দুর্গতের পাশে থাকতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে হলদিয়ার প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্য। ঝড়ের ধাক্কায় সমুদ্র ও নদীতে যে জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল, তাতেই ভেসে গিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের অধিকাংশ এলাকা। এই দুর্যোগের হাত থেকে রেহাই পায়নি হলদিয়াও। ফলে, বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তোরে ভেসে গিয়েছে। ভেঙে গুড়িয়ে গিয়েছে কাচা বাড়ি। এমনকী, পাকা বাড়িগুলোরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

বিঘার পর বিঘা জমির ফসলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ত্রাণ শিবিরগুলোতে এখনও প্রচুর মানুষ আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন। তাঁদের ঘরবাড়ি জলে ভেসে গিয়েছে। সরকারের তরফে ত্রাণ দেওয়া হলেও তাঁদের পুনর্বাসনের কি হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তার মেঘে ঢেকে রয়েছে। এতকিছুর মধ্য গ্রামবাসীরা ভরসা করেছিলেন যে, সদ্য জয়ী বিধায়ক নিশ্চই তাঁদের সঙ্গে দেখা করে কোনও না কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছেন খোদ বিধায়ক। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিজেপিরই একাংশ নেতা-‌নেত্রীরা।

 

বন্ধ করুন