ববিতা সরকারের মামলা এখনও ঝুলছে। তার মধ্যেই আবার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি থেকে ১৪৩ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল করল কলকাতা হাইকোর্ট। আজ, বুধবার ১৪৬ জন প্রাথমিক শিক্ষকের আবেদনের শুনানি ছিল কলকাতা হাইকোর্টে। তাঁদের মধ্যে ১৪৩ জনের চাকরির যাবতীয় নথি খতিয়ে দেখে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সিদ্ধান্তে আবার ১৪৩ জনের চাকরি বাতিল করা হয়। এমনকী অবিলম্বে তাঁদের বেতন বন্ধেরও নির্দেশ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।
এদিকে এংদের মধ্যে তিনজনের চাকরি বাতিল করা হয়নি। কারণ এই তিনজনের আরও নথি খতিয়ে দেখা হবে। তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। এদিন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই তিনজনের নথি আরও একবার খতিয়ে দেখা হবে। তার পর ফের শুনানি হবে। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এই তিনজনের চাকরি বাতিল হবে নাকি বহাল থাকবে।
অন্যদিকে কয়েকদিন আগে প্রাথমিকে ৫৩ জনের চাকরি বাতিল করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সুতরাং আজ বুধবার পর্যন্ত সব মিলিয়ে মোট ১৯২ জন প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিল করল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে আজ আরও ৫৯ জন প্রাথমিক শিক্ষক নিজেদের চাকরি বাঁচাতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, তাঁদের মামলাটি বৃহস্পতিবার শুনবেন।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা মানিক ভট্টাচার্য এবং সুবীরেশ ভট্টাচার্যকে প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরির বেআইনি নিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। এছাড়া বেআইনিভাবে প্রাথমিকে চাকরি পাওয়ার অভিযোগে ২০২২ সালে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে ২৬৮ জন প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছিল। তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে গেলে সর্বোচ্চ আদালত এই ২৬৮ জনের আবেদন কলকাতা হাইকোর্টকে শুনতে বলেছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল, কলকাতা হাইকোর্টে চাকরির বৈধতার প্রমাণ দিতে হবে ২৬৮ জনকেই। সব নথি দেখে কলকাতা হাইকোর্ট সিদ্ধান্ত নিলে তবেই বহাল থাকবে চাকরি।