বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > লাল শার্ট, লাল টুপিতে প্রবেশ লালার, সিবিআই দফতরে পা রেখেই সপ্তমে মেজাজ
আসছেন লালা
আসছেন লালা

লাল শার্ট, লাল টুপিতে প্রবেশ লালার, সিবিআই দফতরে পা রেখেই সপ্তমে মেজাজ

  • লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে খানিক বিরক্তি, ‘‌এত দেরি হচ্ছে কেন?‌ এত সময় আমার নেই।’‌

ঠা ঠা রোদ্দুর সিবিআই দফতরের সামনে। নিজাম প্যালেসের সামনে দাঁড়িয়ে দু’‌চারজন লোকজন। তেমন কোনও ব্যস্ততা চোখে পড়ছিল না। কিন্তু তার মধ্যেই ঘটে গেল চমক। কয়লাকাণ্ডের মূলচক্রী অনুপ মাজি ওরফে লালা হাজির হয়েছেন। একেবারে নিজস্ব ঢঙে সিবিআই দফতরের গেটের সামনে এসে দু’‌দিকে তাকালেন। তারপর গটমট জুতোর শব্দে ভেতরে প্রবেশ। মনে হচ্ছিল তিনিই গোয়েন্দা। লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে খানিক বিরক্তি, ‘‌এত দেরি হচ্ছে কেন?‌ এত সময় আমার নেই।’‌

লক্ষ্য করা গেল, ধবধবে সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট পরা একজন ঢুকলেন নিজাম প্যালেসের ভেতর। তার সঙ্গে আরও একজন ছিলেন। যার পরণে সাদা শার্ট, সাদা প্যান্ট। পাশেই লাল শার্ট, সাদা প্যান্ট, মাথায় টুপি পরা আরও একজন। যাঁর হাতে সাদা প্যাকেটে একটা জলের বোতল, গোল একটা বাক্স। লিফটের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে। তখন লিফট নামতে দেরি হচ্ছে কেন বলে পাশের ব্যক্তির কাছে বিরক্তি প্রকাশ করলেন।

কিন্তু এই ত্রয়ী কারা?‌ ঠাট্টা করে একজন বললেন, বিনয়–বাদল–দীনেশ। হাসির রোল উঠল নিজাম প্যালেসের নীচে। কিন্তু সংশয় কাটছিলই না। ধেয়ে এল এবার একটা প্রশ্ন। ‘আপনি কি অনুপ মাজি?’ প্রশ্নকর্তাকে চেনা গেল না। তবে প্রশ্নের পরই তিনজনই চুপচাপ। যেন শুনতেই পাননি। ততক্ষণে লিফটের দরজা খুলে গিয়েছে। সটান ঢুকে পড়লেন তিনজন।

এবার এক ব্যক্তিকে দেখা গেল, নিজাম প্যালেসের ১৪ তলায় যেতে। লিফটের ক্রমিক সংখ্যা বলে দিচ্ছিল লিফট উঠছে। নীচ থেকে দেখা গেল সেটি থামল ১৪ তলায়। তারপর একজনকে জিজ্ঞাসা করতেই জানা গেল, কয়লা–পাচার মামলায় দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আর অনুপ মাজি এমন একটা ভাব করে সেখানে বসে আছেন যেন তিনিই বস। আর বাকি সবাই তার অধস্তন কর্মচারী। এবার খোঁজ নিয়ে জানা গেল, তিনজনের মধ্যে লাল শার্ট, লাল টুপিতে যিনি লালে লাল, তিনিই লালা। বাকি দু’জন তাঁর আইনজীবী।

সূত্রের খবর, সিবিআই দফতরের চারদিকটা যেন মেপে নিচ্ছেন তিনি। চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছেন গোটা জায়গাটি। মাঝে একবার চেয়ার ছেড়ে উঠলেন। তারপর বোতল থেকে জল খেলেন। আবার একটু ঘরে বসে পড়লেন নির্দিষ্ট চেয়ারে। ততক্ষণে সামনে হাজির সিবিআই আধিকারিকরা। মুচকি হাসলেন লালা। যেন প্রত্যেককেই চেনেন তিনি এমন হাবভাব। শুরু হয় জেরা পর্ব। বেশ কয়েকটা প্রশ্ন শুনে হাসেন লালা। তবে কি প্রশ্ন জানা যায়নি। তবে এটা প্রমাণ করতে লালা ব্যস্ত ছিল, আমার টিকি ছোঁয়া এত সোজা নয়। আর সিবিআই আধিকারিকরাও একের পর এক প্রশ্ন ছুঁড়তে থাকেন। তবে ভেতরের কথা বাইরে কেউ বলতে চাননি। পরতে পরতে গোপনীয়তা, চরম গোপনীয়তা।

বন্ধ করুন