বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > রাজ্যে আতঙ্ক শেষ হোক, মা দুর্গার কাছে তাই প্রার্থনা করেছি, অষ্টমীতে বললেন ধনখড়
শনিবার সন্ধ্যায় বেলুড় মঠ থেকে বেরিয়ে আসছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। 
শনিবার সন্ধ্যায় বেলুড় মঠ থেকে বেরিয়ে আসছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। 

রাজ্যে আতঙ্ক শেষ হোক, মা দুর্গার কাছে তাই প্রার্থনা করেছি, অষ্টমীতে বললেন ধনখড়

  • দেশে করোনা সংক্রমণের হার কিছুটা কমেছে। কিন্তু রাজ্যে সম্প্রতি করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণ বাড়ছে। এটা চিন্তার ব্যাপার, বললেন ধনখড়।

অষ্টমীর সন্ধ্যায় ফের একবার নাম না করে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ শানালেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। এদিন সন্ধ্যায় পাম অ্যাভিনিউর বাড়িতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করে রাজ্যপাল বলেন, ‘রাজ্যে আতঙ্কের পরিবেশ শেষ হোক। মা দুর্গার কাছে এই প্রার্থনা করেছি।’

এদিন বুদ্ধবাবুর বাড়ি সামনে দাঁড়িয়ে রাজ্যপাল বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে শুভ অষ্টমী। আপনাদের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত মানুষকে অষ্টমীর শুভেচ্ছা। মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করি রাজ্যের দুঃখ হরণ করুন, রাজ্যে আতঙ্কের পরিবেশ শেষ হোক, মানুষের জীবন সুখ-শান্তিতে ভরে যাক। সবার শুভ হোক।’ 

এর পর ধনখড় জানান, ‘বেলুড় মঠে অঞ্জলি দিয়ে মায়ের কাছে প্রার্থনা করি, রাজ্যের সবার সঙ্কট শেষ হোক। আতঙ্ক, হিংসা ও মানবাধিকার হননের বিষ শেষ হোক। সাধারণ মানুষের জীবন সুখী হোক।’ 

রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে এদিন আশঙ্কা প্রকাশ করেন রাজ্যপাল। বলেন, ‘করোনা আপনাকে-আমাকে ছারখার করে দিয়েছে। করোনার প্রভাব রাজ্য থেকে বিশ্ব সব জায়গায় রয়েছে। দেশে করোনা সংক্রমণের হার কিছুটা কমেছে। কিন্তু রাজ্যে সম্প্রতি করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণ বাড়ছে। এটা চিন্তার ব্যাপার।’ 

করোনা সংক্রমণ রোধে এদিনও রাজ্যবাসীকে সতর্ক করেছেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের কাছে অনুরোধ করব, এটা সতর্ক থাকার সময়। এটা বেপরোয়া হওয়ার সময় নয়। সামান্য ভুল, নিজেকে, স্বজনদের ও পরিবারকে বিপদে ফেলতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভ্যাকসিন আসা পর্যন্ত আমাদের কঠোরভাবে করোনাবিধি মেনে চলতে হবে। সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং, মাস্ক পরা ও হাত ধোয়ায় ফাঁকি দিলে চলবে না।’ 

এদিন হাইকোর্টের রায়েরও পাশে দাঁড়িয়েছেন ধনখড়। বলেন, ‘হাইকোর্ট দূরদর্শীতার প্রমাণ দিয়ে যে রায় দিয়েছে, আমার মনে হয় আমরা তার সদর্থক ফল পাবো। পুজো পুরোদমে হোক, কিন্তু উৎসব যেন বন্ধ থাকে। আমাদের নিরাপত্তার জন্য এই নির্দেশ দরকারি ছিল।’

সঙ্গে শিল্পী ও কলাকুশলীদের দুঃখ ভাগ করে নিয়ে রাজ্যপাল বলেন, ‘আগামীবার জাঁকজমক করে পুজো হবে। ততদিনে করোনা বিদায় নেবে। যাঁরা পুজো পরিকল্পনা করেন, মূর্তি বানান তাঁদের জন্য সব থেকে খারাপ লাগছে। পুজো আমাদের পরিচয়। পুজো আর পশ্চিমবঙ্গকে আলাদা করা সম্ভব নয়। পুজোয় যাঁদের সামনে দেখা যায় তাঁদের থেকে অনেক বেশি মানুষ পর্দার পিছনে থাকেন। তাঁদের সবার অভাব আগামীবার পূরণ হবে। মা দুর্গার কাছে আমি তাই প্রার্থনা করেছি।’

এদিন বুদ্ধবাবুর বাড়ি গিয়ে তাঁর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ সাক্ষাৎ করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। বেরিয়ে তিনি জানান, বুদ্ধবাবুর শ্বাসের সমস্যা এখনো রয়েছে। সঙ্গে চোখে সামান্য সমস্যা রয়েছে বলে জানান তিনি। বুদ্ধবাবুকে পশ্চিমবঙ্গের জীবন্ত সজ্জন বলে উল্লেখ করে ধনখড় বলেন, ‘ওঁর গভীর অভিজ্ঞতা রয়েছে। ওঁর সঙ্গে রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ 

বন্ধ করুন