বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > স্ত্রীর নামে সম্পত্তি কিনলেই তাকে বেনামি লেনদেন বলা যায় না: হাইকোর্ট

স্ত্রীর নামে সম্পত্তি কিনলেই তাকে বেনামি লেনদেন বলা যায় না: হাইকোর্ট

কলকাতা হাইকোর্ট। ছবি সৌজন্য : পিটিআই (PTI)

কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন শেখর রায় নামে এক ব্যক্তি। মামলার বয়ান অনুযায়ী, শেখরের বাবা শৈলেন্দ্র কুমার রায় ১৯৬৯ সালে স্ত্রীর নামে একটি সম্পত্তি কিনেছিলেন। সম্পত্তি কেনার সময় স্ত্রী ছিলেন একজন গৃহবধূ। তাঁর আয়ের কোনও উৎস ছিল। 

কোনও ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীর নামে সম্পত্তি কেনার জন্য অর্থ প্রদান করলে তাকে বেনামি লেনদেন বলা যায় না। একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এমনই পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাইকোর্টের। তবে এক্ষেত্রে অর্থ কোথা থেকে আসছে সেটা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ বলেই উল্লেখ করেছে রাজ্যের উচ্চ আদালত।

বুধবার বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ সম্পত্তি বিবাদ নিয়ে একটি মামলার শুনানি হয়। সেই মামলায় ছেলে তাঁর বাবার বিরুদ্ধে তাঁকে মাকে বেনামি সম্পত্তি দেওয়ার অভিযোগ করেন। কিন্তু, ওই সম্পত্তি যে বেনামি ছেলে তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় মামলাটি খারিজ করে কলকাতা হাইকোর্ট।

মামলার রায় দিতে গিয়ে আদালত জানিয়েছে, দুই ধরনের লেনদেনকে বেনামি হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। প্রথমত, যদি কোনও ব্যক্তি তাঁর নিজের অর্থ দিয়ে যদি অন্য কোনও ব্যক্তির উপকার করার উদ্দেশ্য ছাড়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে সম্পত্তি কেনেন তাহলে সেটি বেনামি লেনদেন হিসেবে ধরা হয়। দ্বিতীয়ত, সম্পত্তির মালিক সম্পত্তি হস্তান্তর করার উদ্দেশ্য ছাড়া যদি অন্য কোনও ব্যক্তিকে সম্পত্তি দিয়ে থাকেন তাহলে সেটিকে বেনামি হিসাবে ধরা হয়। আদালতের মতে, ভারতীয় সমাজে, যদি একজন স্বামী তাঁর স্ত্রীর নামে সম্পত্তি কেনার জন্য অর্থ সরবরাহ করে তাহলে এই লেনদেনকে বেনামি লেনদেনকে বোঝায় না। 

এনিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন শেখর রায় নামে এক ব্যক্তি।মামলার বয়ান অনুযায়ী, শেখরের বাবা শৈলেন্দ্র কুমার রায় ১৯৬৯ সালে স্ত্রীর নামে একটি সম্পত্তি কিনেছিলেন। সম্পত্তি কেনার সময় স্ত্রী ছিলেন একজন গৃহবধূ। তাঁর আয়ের কোনও উৎস ছিল। তাঁর স্বামী তাঁর নামে জমি রেজিস্ট্রি করে তার ওপর দোতলা বাড়ি তৈরি করেন। পরে ১৯৯৯ সালে শৈলেন্দ্র মারা যান। উত্তরাধিকার আইন অনুসারে, তাঁর স্ত্রী, পুত্র এবং কন্যা প্রত্যেকে সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ উত্তরাধিকারী হন।

এদিকে, ২০১১ সাল পর্যন্ত সেই বাড়িতেই ছিলেন মামলাকারী। তারপরে তিনি আলাদা থাকতে শুরু করেছিলেন। তিনি মামলার সম্পত্তি ভাগ করার জন্য তার মা এবং বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু, ওই সম্পত্তি ভাগে রাজি হননি তাঁরা। এরপর শেখর বেনামি লেনদেনের অভিযোগ এনে আদালতের দ্বারস্থ হন। তার বিরোধিতা করেছিলেন শেখরের মা লীলা রায় এবং বোন সুমিতা সাহা। লীলা তাঁর আত্মপক্ষ সমর্থনে যুক্তি দিয়েছিলেন যে তিনি স্ত্রীর অধিকার ব্যবহার করে সম্পত্তিটি কিনেছিলেন। বাড়িটি তৈরি করতে আর্থিক সাহায্য করে ছিলেন। তবে সম্পত্তি যে বেনামি তা প্রমাণ করতে না পারায় হাইকোর্ট পুত্রের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।

বন্ধ করুন