বাড়ি > কর্মখালি > অতিমারীর কারণে বাতিল হচ্ছে বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনা, বিপাকে পড়ুয়ারা
অতিমারীর জেরে উচ্চ শিক্ষার জন্য চলতি বছরে বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা আপাতত পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বহু পড়ুয়া।
অতিমারীর জেরে উচ্চ শিক্ষার জন্য চলতি বছরে বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা আপাতত পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বহু পড়ুয়া।

অতিমারীর কারণে বাতিল হচ্ছে বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনা, বিপাকে পড়ুয়ারা

  • ৮ শতাংশ পরিবর্তে অন্য দেশে পড়াশোনার বিকল্প সিদ্ধান্ত নিলেও ৭ শতাংশ পড়ুয়াই পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল করে দিয়েছেন।

করোনা অতিমারীর জেরে উচ্চ শিক্ষার জন্য চলতি বছরে বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা এক বছরের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৬১% পড়ুয়া।

স্বাভাবিক জীবনের ছন্দপতন ঘটিয়েছে করোনা। 'নিউ নরমাল'-ই এখন মেনে নিতে হচ্ছে সবাইকে। অনেক পরিকল্পনাও বাতিল করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশে গিয়ে অধ্যয়নের পরিকল্পনা বাতিল করতে হচ্ছে বহু পড়ুয়াকে। তাঁদের মধ্যে ৮ শতাংশ পরিবর্তে অন্য দেশে পড়াশোনার বিকল্প সিদ্ধান্ত নিলেও ৭ শতাংশ পড়ুয়াই পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল করে দিয়েছেন। 

প্রতি বছর বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করে থাকে এমন এক ব্রিটিশ সংস্থা কোয়াকুয়ারেলি সাইমন্ডস (QS) এর সমীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

কিউএস দ্বারা চালিত সমীক্ষায় কোভিড সংকট কী ভাবে পড়ুয়াদের অধ্যয়ন পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করেছে, তা দেখানো হয়েছে। ১১ অগস্ট পর্যন্ত সমীক্ষায় ৬৬,৯৫৯ জন পড়ুয়ার প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে, যার মধ্যে ১১,৩১০ জন ভারতীয়।

ভারতীয় শিক্ষার্থীদের প্রায় ৪৯ শতাংশ বিদেশে 'postgraduate-by-coursework (এমবিএ, মাস্টার্স এবং স্নাতক ডিপ্লোমা) অধ্যয়ন করার পরিকল্পনা করেছিলেন। আরও ১৯ শতাংশ 'postgraduate-by-research' পর্যায়ে (মাস্টার্স এবং পিএইচডি) এবং ২৯ শতাংশ বিদেশে স্নাতক স্তরে পড়াশোনা করতে চান। বাকিরা ইংরেজি ভাষার পড়াশোনা, ফাউন্ডেশন কোর্স এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

এক বছরের জন্য বিদেশে উচ্চতর পড়াশোনার সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হলে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের Fall Semester সম্পূর্ণ অনলাইন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন করতে পারে। মহামারীজনিত কারণে প্রায় অর্ধেক (৪৮%) ভারতীয় শিক্ষার্থীরা অনলাইনে প্রোগ্রাম অধ্যয়ন করতে আগ্রহী ছিল না। কেবল ১৭% পড়ুয়া জানিয়েছেেন, এই বিষয়ে তাঁরা এখনও 'অত্যন্ত' বা 'খুব আগ্রহী'।

সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রত্যাশা করেন, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলি অনলাইনে ক্লাস নিলে টিউশন ফি কমাবে । প্রায় ৫ শতাংশের কাছে টিউশন ফি দেওয়া সমস্যার নয় । ১২ শতাংশ অবশ্য এই ব্যাপারে এখনও অনিশ্চিত।

পড়ুয়াদের এক চতুর্থাংশ (২৪%) মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলি টিউশন ফি প্রায় অর্ধেক কমিয়ে আনার প্রস্তাব দিতে পারে। ১৯ শতাংশ পড়ুয়া ৪০ শতাংশ পর্যন্ত টিউশন ফি-তে ছাড় চান। ২০ শতাংশ পড়ুয়া চান, যতদিন না মুখোমুখি ক্লাস শুরু হচ্ছে, ততদিন ৩০ শতাংশ ফি ছাড় দেওয়া হোক।

সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক পড়ুয়ারা অনলাইন কোর্সগুলিতে কম আগ্রহী। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে বড় ক্লাসরুমে বক্তৃতা দেওয়া হবে, এমন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করতে তাঁরা আগ্রহী।

আন্তর্জাতিক ছাত্র সংখ্যার নিরিখে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ ভারত। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত বিদেশে প্রায় ৭,৫৩,০০০ জন ভারতীয় শিক্ষার্থী পাড়ি দিয়েছেন।

বন্ধ করুন