কাশ্মীর ইস্যুতে একঘরে চিন (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)
কাশ্মীর ইস্যুতে একঘরে চিন (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)

কাশ্মীর ইস্যুতে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে মুখ পুড়ল চিনের

গত ডিসেম্বরে রাষ্ট্রপুঞ্জের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কাশ্মীর প্রস্তাব উত্থাপনের চেষ্টা করেছিল চিন। তখনও মুখ পুড়েছিল বেজিংয়ের।

কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের মুখ পড়ল চিনের। ভারতকে চাপে ফেলার চেষ্টা করলেও উলটে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে একঘরে হল বেজিং।

বুধবার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপনের চেষ্টা করে চিন। কিন্তু রাষ্ট্রপুঞ্জের বাকি ১৪ সদস্য দেশ চিনের পাশে দাঁড়ায়নি। বরং নয়াদিল্লির স্বস্তি বাড়িয়ে বাকিরা সাফ জানিয়ে দেয়, কাশ্মীর ইস্যু ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয়। তাতে নাক গলাবে না তারা।

তারপর রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতীয় দূত সৈয়দ আকবরউদ্দিন একটি টুইট বার্তায় বলেন, 'আজ রাষ্ট্রপুঞ্জে আমাদের তেরঙ্গা উঁচুতে উড়ছে। যারা মিথ্যা ছড়ানোর পরিকল্পনা (ফলস ফ্ল্যাগ) চেষ্টা করেছিল, তারা আমাদের অনেক বন্ধুর থেকে যোগ্য জবাব পেয়েছে।'

তবে এই প্রথম নয়, আগেও কাশ্মীর ইস্যুতে মুখ পুড়েছিল বেজিংয়ের। গত ডিসেম্বরে রাষ্ট্রপুঞ্জের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কাশ্মীর প্রস্তাব উত্থাপনের চেষ্টা করেছিল চিন। কিন্ত ফ্রান্স-সহ অন্য সদস্য দেশ সাফ জানিয়ে দেয়, কাশ্মীর ইস্যুতে রাষ্ট্রপুঞ্জের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। কারণ এটি ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয়।

তারপরও অবশ্য 'বন্ধু' পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপনের চেষ্টা করে বেজিং। সেজন্য ভিয়েতনামকে (চলতি মাসে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সভায় সভাপতিত্বের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্র) নতুন করে চিঠি দেয় ইসলামাবাদ। তার ভিত্তিতে কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপনের জন্য চেষ্টা করে চিন।

বিদেশমন্ত্রক সূত্রের খবর, বুধবার আমেরিকা সফরে গিয়েছেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। তার আগে ভারতকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবেই কাশ্মীর ইস্যু তোলার চেষ্টা করেছিল চিন।

কূটনৈতিক মহলের মতে, সম্প্রতি কাশ্মীরে গিয়েছিলেন ১৭ জন বিদেশি রাষ্ট্রদূত। গিয়েছিলেন আমেরিকার রাষ্ট্রদূতও। ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্যদের কাশ্মীর সফর, কয়েকজন আটক নেতার মুক্তি, সফলভাবে ফুটবল ম্যাচের আয়োজনের মতো বিষয়গুলির ফলে কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নয়াদিল্লির ভাবমূর্তি আরও স্বচ্ছ হচ্ছিল। তা রুখে ভারতকে বিপাকে ফেলাই বেজিং ও ইসলামাবাদের উদ্দেশ্য ছিল বলে মত কূটনৈতিক মহলের।

বন্ধ করুন