বাড়ি > ঘরে বাইরে > যুবতী হত্যাকাণ্ডে যাবজ্জীবন জেল খেটেছে দিল্লির কিশোরী নিগ্রহে অভিযুক্ত কৃষ্ণন
২০০৬ সালের হত্যাকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক ঘটনা ছাড়া আরও তিনটি অপরাধে কৃষ্ণনের নাম আগেই জড়িয়েছে।
২০০৬ সালের হত্যাকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক ঘটনা ছাড়া আরও তিনটি অপরাধে কৃষ্ণনের নাম আগেই জড়িয়েছে।

যুবতী হত্যাকাণ্ডে যাবজ্জীবন জেল খেটেছে দিল্লির কিশোরী নিগ্রহে অভিযুক্ত কৃষ্ণন

  • ২০০৬ সালে এক যুবতীকে থান ইট দিয়ে থেঁতলে খুন করেছিল কৃষ্ণন ও তার সঙ্গী। বিচারে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

দিল্লিতে ১২ বছরের কিশোরীর যৌন হেনস্থার পরে তাকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে ধৃত ৩৩ বছর বয়েসি ব্যক্তি এর আগে ডাকাতির চেষ্টা বাধা দিতে যাওয়া এক মহিলাকে খুন করেছিল। এমনই দাবি পুলিশের।

গুরুতর জখম কিশোরী দিল্লির এইমস হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাথায় গভীর আঘাতের কারণে ভর্তির পরেই তার অস্ত্রোপচার হয় এবং আপাতত তাকে নিউরোসার্জারি বিভাগের অধীনে আইসিইউ-তে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে দেখতে হাসপাতালে পৌঁছন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। চিকিৎসক ও নিগৃহীতা কিশোরীর বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলার পরে ওই পরিবারকে ১০ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা করেন কেজরিওয়াল।

তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ২০০৬ সালে এক যুবতী তাঁর বাড়ির ছাদে ঘুমানোর সময় তাঁর কানের সোনার দুল চুরি করার চেষ্টায় ছাদে উঠে এসেছিল কৃষ্ণন ওরফে কাক্কা নামে এই দুষ্কৃতী ও তার এক শাগরেদ। ঘুম ভেঙে মহিলা চিৎকার করউঠলে ছাদে পড়ে থাকা থান ইট দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে দুষ্কৃতীরা। এ দিকে মহিলার চিৎকার শুনে ছাদে উঠে কৃষ্ণনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন পরিবারের সদস্যরা। তার শাগরেদ পালিয়ে যায়।

দিল্লি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (পশ্চিম রেঞ্জ) শালিনী সিং জানিয়েছেন, ‘কৃষ্ণনকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হলে বিচারে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। জেরায় সে জানিয়েছে, ভালো আচরণের কারণে ২০১৫ সালে সে জেল থেকে ছাড়া পায়। তার দাবি যাচাই করে দেখা হচ্ছে।’

তদন্তের স্বার্থে ২০০৬ সালের সেই মামলার ফাইল খতিয়ে দেখে সেই ঘটনার তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এক আধিকারিক। 

জানা গিয়েছে, দিল্লির মঙ্গলপুরীর বাসিন্দা কৃষ্ণন অবিবাহিত এবং সে তার মায়ের সঙ্গে থাকে। ২০০৬ সালের সেই ঘটনা এবং সাম্প্রতিক যৌন নিগ্রহ ও খুনের চেষ্টা ছাড়া আরও তিনটি অপরাধেতার নাম আগেই জড়িয়েছে। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে ২০১৬ সালে সে দুটি অপরাধে জড়িত ছিল। এর মধ্যে একটি ঘটনায়, পারিবারিক কাজিয়ায় নিজের ভাইকে আক্রমণ করার অভিযোগেও তার মানে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তবে ভাইয়ের সঙ্গে বোোঝাপড়ায় সেই কাজিয়া মিটে গিয়েছিল বলে জানিয়েছে কৃষ্ণন।  

পুলিশি জেরায় কৃষ্ণন জানিয়েছে, সম্প্রতি চুরির চেষ্টায় পশ্চিম বিহার এলাকায় ঘোরাঘুরি করার সময় তিন তলায় কিশোরীর ঘরের দরজা খোলা দেখতে পেয়ে সে ঢুকে পড়ে। ঘরে থাকা একটি সুটকেস হাতিয়ে পালাতে গেলে তাকে বাধা দেয় কিশোরী। মেয়েটি চিৎকার করে উঠলে তার মাথায় ওই ধঘরে থাকা সেলাই মেশিন দিয়ে আঘাত করে কৃষ্ণন। 

তাতেও না দমে রক্তাক্ত অবস্থায় কিশোরী তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে বুকের উপরে চড়ে বসে ধস্তাধস্তি শুরু করে। সেই সময় মেঝের উপরে পড়ে থাকা কাঁচি দিয়ে কিশোরীর দেহে বার বার কোপ মারে কৃষ্ণন। আহত মেয়েটি লুটিয়ে পড়লে সে ওই বাড়ি ছেড়ে পালায়।

যুগ্ম কমিশনার শালিনী সিং জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বয়ান যাচাই করে দেখা হচ্ছে। তবে আহত কিশোরীর বয়ান এ ক্ষেত্রে জরুরি বলে জানিয়েছে পুলিশ। আপাতত তার সুস্থ হয়ে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছেন গোয়েন্দারা।

 

বন্ধ করুন