জম্মু ও কাশ্মীর পরিদর্শনে বৃহস্পতিবার দুই দিনের সফরে গেলেন ১৫টি দেশের কূটনীতিকরা।
জম্মু ও কাশ্মীর পরিদর্শনে বৃহস্পতিবার দুই দিনের সফরে গেলেন ১৫টি দেশের কূটনীতিকরা।

কাশ্মীর পরিস্থিতি দেখতে কেন্দ্রীয় সফরে ১৫ বিদেশি কূটনীতিক, কটাক্ষ বিরোধীদের

  • কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যবস্থাপনায় বৃহস্পতিবার শ্রীনগর বিমনানবন্দরে বিদেশি কূটনীতিকদের দল পৌঁছনোর পরে প্রথমে নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ‘গাইডেড ট্যুর’-এর পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে কটাক্ষ বিরোধীদের।

জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পরে এই প্রথম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পরিদর্শনে দুই দিনের সফরে গেলেন ১৫টি দেশের কূটনীতিকরা। ঘটনাটি সাংবাদিক বৈঠকে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানাল বিদেশ মন্ত্রক।

বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমার জানান, দিল্লিতে কর্মরত আমেরিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, মলদ্বীপ, মরোক্কো, ফিজি, নরওয়ে, ফিলিপিনস, আর্জেন্তিনা, পেরু, নাইজার, নাইজেরিয়া, টোগো এবং গায়ানার কূটনীতিকরা উপত্যকার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সন্তুষ্ট হয়েছেন।

রবীশ কুমার আরও জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যবস্থাপনায় বৃহস্পতিবার শ্রীনগর বিমনানবন্দরে বিদেশি কূটনীতিকদের দল পৌঁছনোর পরে প্রথমে নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সন্ত্রাসবাদী হুমকির মুখে উপত্যকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে তাঁদের সবিস্তারে জানানো হয়।

এ দিনের সফরে যেতে অস্বীকার করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরা, এই অভিযোগের জবাবে বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী বলেন. পূর্ব পরিকল্পনার ভিত্তিতে ছকে বাঁধা সফর মনে করে ওই প্রতিনিধিরা সফর থেকে বিরত থাকেন। তাঁর দাবি, সংখ্যার বিচারে সফরকারী দলটি নিয়ন্ত্রণ করতে সুবিধা হবে বলে মনে করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য দলের সদস্যদের নির্বাচনও সঠিক হয়েছে বলে তাঁর মত।

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ওঁদেরকে সফরের বিষয়ে বলি, ওঁরা আমাদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। আমাদের মনে হয়েছে, ওঁরা সদলে সফর করতে চেয়েছিলেন। আপনারা জানেন, ওঁরা অনেক বিষয়েই সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিতে পছন্দ করেন। সব সদস্যকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, কারণ তাতে দলের বিশার হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।’

অন্য দিকে, সাম্প্রতিক আমেরিকা-ইরান সম্পর্ক নিয়ে তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উপর সতর্ক নজর রাখছে ভারত। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

দিল্লির এই উদ্যোগকে অবশ্য ‘ভাঁড়ামো’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন বিরোধীরারা। তাঁদের অভিযোগ, দিল্লির ঠিক করে দেওয়া পরিকল্পিত সফরসূচি অনুযায়ী তৈরি এই সফরে দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা কবলিত উপত্যকার প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝা বহিরাগতদের পক্ষে অসম্ভব। বিদেশি কূটনীতিকদের মুখ দিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে এসেছে বলে প্রচারের উদ্দেশে ‘গাইডেড ট্যুর’-এর পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে শাসকদলকে বিঁধে পালটা বিবৃতি দিয়েছেন বিরোধী নেতারা।

কংগ্রেস নেতা মণীশ তিওয়ারির অভিযোগ, ‘আসলে সরকার দেখাতে চাইছে যে, সব কিছু স্বাভাবিক রয়েছে, যা আদৌ সত্যি নয়।’

বন্ধ করুন