বাংলা নিউজ > ময়দান > লর্ডসে যেতে বিন্দুমাত্র ইচ্ছা করত না, ক্রিকেটের মক্কাতেই বর্ণবাদের শিকার হন হর্ষ ভোগলে
হর্ষ ভোগলে (ছবি:গেটি ইমেজ)
হর্ষ ভোগলে (ছবি:গেটি ইমেজ)

লর্ডসে যেতে বিন্দুমাত্র ইচ্ছা করত না, ক্রিকেটের মক্কাতেই বর্ণবাদের শিকার হন হর্ষ ভোগলে

  • ৯০-র দশক এবং এই শতাব্দীর গোড়ার দিকে এইসব কান্ড হত বলে জানান হর্ষ ভোগলে। 

সম্প্রতি ইয়র্কশায়ার ক্রিকেটার এবং ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অনুর্ধ্ব-১৯ অধিনায়ক আজিম রফিকের বর্ণবাদ নিয়ে অভিযোগ গোটা ইংলিশ ক্রিকেটকে নাড়িয়ে দিয়েছে। আদিল রশিদের মতো একাধিক ক্রিকেটারও অতীতে বর্ণবাদী মন্তব্য বা ঘটনার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন। এরই মধ্য়ে প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার হর্ষ ভোগলেও নিজের অভিজ্ঞতার কথা ব্যক্ত করেছেন।

ক্রিকেটের প্রেজেন্টার হিসেবে হর্ষ দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নিজের কাজ করে যাচ্ছেন। কাজের সূত্রেই তিনি অগনিতবার ইংল্যান্ডেও অনুষ্ঠিত বিভিন্ন ম্যাচে ধারাভাষ্যকারের ভূমিকা পালন করেছেন। তবে তিনিও অতীতে ক্রিকেটের মক্কা লর্ডসে বর্ণবাদের স্বীকার হয়েছেন বলেই জানান হর্ষ। আজিম রফিকের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় অতীতে লর্ডসে ধারাভাষ্য দেওয়ার নিজের অভিজ্ঞতার কথা ব্যক্ত করে হর্ষ জানিয়েছেন বর্ণবাদের জেরেই তিনি লর্ডসে কোনো ম্যাচে প্রেজেন্টারের দায়িত্ব সামলাতে একেবারেই স্বচ্ছন্দবোধ করতেন না।

নিজের পোস্টে হর্ষ দাবি করেন অনেক সময় অনেক নামীদামি ব্যক্তি বর্ণবাদী অনেক কার্যকলাপ করে বসেন কারণ তাঁকে সেই বিষয়ে আগে কোনদিন বাধাই দেয়নি তাই। তিনি লেখেন, ‘বেশিরভাগ সময়ই বর্ণবাদ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তবে অনেক সময় সেটা যেন একেবারেই স্বাভাবিক জিনিস হিসেবে প্রতিফলিত হয়। আদপে সভ্য ভদ্র দেখানো মানুষজনও এমন অনেক কথা বলে ফেলে, স্রেফ তাদের সেটা বলতে কেউ কোনোদিন বাধা দেয়নি বলে। তবে আজিম রফিকের ঘটনার পর তা বদলাবে। অতীতে লর্ডস অত্যন্ত জঘন্য একটা জায়গা ছিল। লোকজন সেখানে আপনাদের নীচু প্রতিফলিত করত, খুবই খারাপ ব্যবহার করত এবং এমন হাবভাব দেখাত যে তারা আপনাকে তাদের সঙ্গে কাজ করতে দিয়ে যেন ধন্য করছে।’

৯০-র দশক এবং এই শতাব্দীর গোড়ার দিকে এইসব কান্ড হত বলে জানান হর্ষ। তবে পাশপাশি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারের পরিবর্তন ঘটেছে বলেও জানান হর্য। তিনি জানান সেই খারাপ লোকগুলির বেশিরভাগই আর সেখানে নেই এবং বর্তমানে যা হচ্ছে তা তাঁর মতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও সাহসিকতার সঙ্গে এসব বিষয়ে রুখে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। তিনি আরও লেখেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবহারের পরিবর্তন করতেই হত এবং পরিবর্তন ঘটেছেও। আমি যাদের সঙ্গে কাজ করেছি, তাদের মধ্যেও সেই পরিবর্তন আমি লক্ষ্য করেছি। সেই কারণেই আমি আশাবাদী যে এই ডামাডোল পরিস্থিতির পর আগামী যুগে তরুণরা এইসব বিষয়ে অবগত হবে এবং গোটা বিষয়গুলি আরও গভীরভাবে বুঝতে শিখবে।’

বন্ধ করুন