লিগ জয়ের পর মোহনবাগান। ছবি- টুইটার।
লিগ জয়ের পর মোহনবাগান। ছবি- টুইটার।

করোনার জেরে মাঝপথেই বাতিল আই লিগ, তবু যে কারণে চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান

  • খেলা হলেও মোহনবাগানকে ছুঁয়ে ফেলা সম্ভব ছিল না লিগের আর কোনও দলের পক্ষেই।

ধোপে টিকল না ইস্টবেঙ্গলের আপত্তি। আই লিগ কমিটির সভায় লিগ চ্যাম্পিয়নের স্বীকৃতি পেয়ে গেল মোহনবাগান। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে থাকা লাল-হলুদ শিবির ছাড়া লিগের বাকি দলগুলি মোহনবাগানকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মেনে নেওয়ায় বাগানের খেতাব জয় নিশ্চিত হয়ে যায়।

যদিও সরকারি সিলমোহর পড়বে সামনের সপ্তাহে। লিগ কমিটি নিজেদের সিদ্ধান্ত পাঠিয়ে দিয়েছে ফেডারেশনের এক্সিকিউটিভ কমিটির কাছে। এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠকে নিয়মরক্ষার স্বাক্ষর হওয়া বাকি বাগানের লিগ চ্যাম্পিয়নের সার্টিফিকেটে।

এই প্রথমবার আই লিগ মরশুমে মাঝপথেই দাঁড়ি পড়ে গেল। করোনা মহামারির জন্য লিগের বাকি ২৮টি ম্যাচ বাতিল হয়ে গেল। লিগ সম্পূর্ণ না হওয়া সত্ত্বেও মোহনবাগান কেন চ্যাম্পিয়ন হল এবং ইস্টবেঙ্গলের আপত্তিটাই বা কোথায় ছিল, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।

১১ দলের লিগে দুই পর্ব মিলিয়ে প্রতিটি দলের মোট ২০টি ম্যাচ খেলার কথা। টুর্নামেন্ট বন্ধ হওয়ার সময় ১৬ ম্যাচে ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে মোহনবাগান লিগ টেবিলের এক নম্বরে ছিল। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইস্টবেঙ্গলের সংগ্রহ ১৬ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট। তিন নম্বরে থাকা পঞ্জাব এফসির সংগ্রহেও রয়েছে ইস্টবেঙ্গলের মতোই ১৬ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট। গোল পার্থক্যে মোহনবাগান (+২২) ইস্টবেঙ্গল (+৫) ও পঞ্জাবের (+২) থেকে ঢের এগিয়ে।

এই অবস্থায় মোহনবাগান শেষ চারটি ম্যাচ হারলেও তাদের পয়েন্ট থাকবে ৩৯। ইস্টবেঙ্গল ও পঞ্জাব তাদের শেষ ৪টি ম্যাচ জিতলে দু'দলের পয়েন্ট দাঁড়াবে (২৩+১২) ৩৫। অর্থাৎ, মোহনবাগানকে ছুঁয়ে ফেলা সম্ভব হবে না লিগের আর কোনও দলের পক্ষেই।

সুতরাং, পয়েন্টের নিরিখে মোহনবাগান লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। শুধু নিয়মের ফাঁক খুঁজে ইস্টবেঙ্গল চাইছিল পড়শি ক্লাবের ট্রফি জয় আটকাতে। তাদের যুক্তি ছিল, বাতিল লিগে কোনও দল কীভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়? তাছাড়া খেলা হলে শৃঙ্খলাজনীত কারণে যদি মোহনবাগানের পয়েন্ট কাটা যায়, তবে বাকিদের সামনে তাদের টপকে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। যদিও শেষমেশ তিতো ওষুধ গিলতে হওয়ায় লিগ চ্যাম্পিয়ন বাগান শিবিরকে অভিনন্দন জানায় ইস্টবেঙ্গল।

আসলে আই লিগের নিয়মাবলি ও শর্তেই রয়েছে যে, বাধ্যতামূলক পরিস্থিতিতে লিগ মাঝপথেই বাতিল হলে লিগ কমিটি যা সিদ্ধান্ত নেবে, তাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। সে কারণেই ইস্টবেঙ্গল আইনি লড়াইয়ের হুমকি দিয়েও পিছিয়ে আসে। তবে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থাকে ধিক্কার জানাতে ভোলেনি লাল-হলুদ শিবির।

আই লিগের প্রথম তিন:

মোহনবাগান: ম্যচ-১৬, জয়-১২, ড্র-৩, হার-১, পয়েন্ট-৩৯, গোল পার্থক্য-২২

ইস্টবেঙ্গল: ম্যচ-১৬, জয়-৬, ড্র-৫, হার-৫, পয়েন্ট-২৩, গোল পার্থক্য-৫

পঞ্জাব এফসি: ম্যচ-১৬, জয়-৫, ড্র-৮, হার-৩, পয়েন্ট-২৩, গোল পার্থক্য-২

বন্ধ করুন