বাংলা নিউজ > ময়দান > সূর্যের দিব্য হাতকে ছুঁয়ে চুম্বন চাহালের, টি২০-র ঈশ্বরের সামনে নতজানু গোটা বিশ্ব

সূর্যের দিব্য হাতকে ছুঁয়ে চুম্বন চাহালের, টি২০-র ঈশ্বরের সামনে নতজানু গোটা বিশ্ব

স্কাইয়ের হাতকে চুম্বন চাহালের

ভারতের মাটিতে তাঁর প্রথম টি২০ সেঞ্চুরিতেই চমক লাগালেন সূর্যকুমার যাদব

NEW DELHI : আপনি যদি ক্রিকেট রোমান্টিক হন, তাহলে সূর্যকুমার যাদবের খেলাকে না ভালোবেসে উপায় নেই। কারণ প্রতিদিন নতুন ভাবে তিনি ক্রিকেটের সাবেকি নিয়মকানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তাঁর নিজস্ব শৈলীর মাধ্যমে লিখছেন নয়া ব্যাকরণ। ব্যাটকে কার্যত তুলির মতো ব্যবহার করে মাঠের বৃহৎ ক্যানভাসে এঁকে ফেলছেন এক একটি মাস্টারপিস। সেটাও করছেন একগাল হাসি নিয়ে ঠান্ডা শীতল মানসিকতাকে সম্বল করে। তাই বিশ্ব ক্রিকেটের তাবড় তাবড় তারকাদের পছন্দের শীর্ষে আজ সূর্যকুমার যাদবের নাম। 

ভারতীয় ক্রিকেটার মানেই কব্জির কাজ অসাধারণ হবে, সেটা কার্যত বলা বাহুল্য। অতীতের বিশ্বনাথ থেকে লক্ষ্মণ হয়ে হাল আমলের বিরাট কোহলি, সবাই নিজেদের কব্জির মোচড়ে বোলারদের ঘুম উড়িয়েছেন। কিন্তু সূর্যের মতো উইকেটের পিছনে অতটা অনায়াসে ছক্কার ফুলঝুরির নিদর্শন পেশ করার কথা কেউ ভাবতেই পারেননি, খেলা তো দূরস্ত। বিখ্যাত ফুটবলারদের পা-এর ওপর বিমা করা থাকে। এবার হয়তো সময় হয়েছে সূর্যকুমারের হাতের সেভাবে বিমা করে রাখার। কারণ কোনও ভাবেই সেটা কম মূল্যবান নয়। তাই বোধহয় ইনিংসের শেষে যজুবেন্দ্র চাহাল সূর্যের হাত দুটি চোখে স্পর্শ করে তারপর চুম্বন করলেন। প্রাচীনকাল থেকে কোনও কিছু মূল্যবানকে এভাবে সম্মান দেওয়ার চল আছে রাজা-নবাবদের সভায়। সূর্যের এই রাজত্বে যদিও তিনিই বাদশা, তিনিই ঈশ্বর। বাকিরা সবাই তাঁর গুণমুগ্ধ ভক্ত। মন্ত্রমুগ্ধের মতো তারা সূর্যের ব্যাটিং দেখছেন। এমন সব কীর্তিকলাপ তিনি করে চলেছেন সেটা সাধারণ বুদ্ধিতে বিশ্লেষণ করা খুবই শক্ত। কোনও সফটওয়্যারকে সম্ভবত যদি সূর্যের ব্যাটিং কাঁটাছেড়া করতে বলা হয়, তা এরর মেসেজ দিয়ে দেবে কারণ স্কাই যা করছেন সেটা অতীতে কোনও মানুষ করেননি টি২০ ক্রিকেটে। দেড় হাজার রান ১৮০-র ওপর স্ট্রাইক রেটে বুক ক্রিকেটেও করা যায়না। বাস্তবের মাটিতে ইংল্যান্ড থেকে নিউ জিল্যান্ড ঘুরে ভারতে সেই কামাল করছেন সূর্য। 

শনিবাসরীয় রাজকোটও দেখল সেরকমই সূর্যস্নাত একটি ম্যাচ, যেখানে তিনিই ফারাক হয়ে গেলেন দুই দলের মধ্যে। ৫১ বলে ১১২ নট আউট, ৭টি চার ও ৯টি ছক্কার সহযোগে। সেখানে লঙ্কান বোলাররা হাতে গোনা খারাপ বল করেছিলেন। শুধু তাঁর ব্যক্তিগত শৈলীর মাধ্যমে লঙ্কানদের রণনীতি ধ্বংস করলেন সূর্য, তাদের বাধ্য করলেন খারাপ বোলিং করতে। যেখানে বোলাররা বল করছেন নির্দিষ্ট ফিল্ড অনুযায়ী, ঠিক অন্য জায়গায় শট মারতে সক্ষম হচ্ছিলেন তিনি। হর্ষ ভোগলে যখন জিজ্ঞেস করেছিলেন যে মাঝে মাঝে কি মনে হয় যে আপনার কাছে অসামান্য ক্ষমতা আছে বোলারকে নিয়ন্ত্রণ করার, সূর্য তখন বলেন যে এই ক্ষমতার নেপথ্যে রয়েছে নিবিড় অনুশীলন। তিনি ম্যাচে সফল হওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই শক্ত শটগুলি নেটে রপ্ত করেছেন। তাই দিনের শেষে সারা দুনিয়া উদ্বেল হলেও বাস্তবের মাটিতেই পা সূর্যের। তাঁর পরিশ্রমই যে সাফল্যের চাবিকাঠি, দৈব হাত যে দিব্য অনুশীলনের ফলাফল, সেটা জানেন তিনি। ২০২২-কে পিছনে ফেলে ২০২৩-এ নতুন ভাবে স্টান্স নিয়ে তাই তিনি দলকে একের পর এক ম্যাচ জেতানোর কাজে ব্রতী। 

বন্ধ করুন