বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > Basirhat: রেশনের চাল নেওয়ায় বৃদ্ধা মায়ের হাত ভেঙে দিল স্কুল শিক্ষক ছেলে, থানায় মা
আক্রান্ত বৃদ্ধা। নিজস্ব ছবি।
আক্রান্ত বৃদ্ধা। নিজস্ব ছবি।

Basirhat: রেশনের চাল নেওয়ায় বৃদ্ধা মায়ের হাত ভেঙে দিল স্কুল শিক্ষক ছেলে, থানায় মা

  • এমনই অমানবিক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের মিনাখাঁর চৈতল গ্রামে। ওই বৃদ্ধার নাম তীর্থ বালা সিংহ (৬৮)। এই ঘটনায় বড় ছেলে সুভাষ সিংহের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই বৃদ্ধা।

খাদ্য সাথী প্রকল্পে রাজ্যের মানুষদের জন্য বিনামূল্যে চাল, গম রেশনের ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। সেই প্রকল্পে বিনামূল্যে চাল, গম নেওয়াতেই ঘটল বিপত্তি। এই প্রকল্পে বিনামূল্যে রেশন নেওয়ায় মায়ের হাত ভেঙে দিল প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক ছেলে। শুধু তাই নয়, মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হল বলেও অভিযোগ। এমনই অমানবিক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের মিনাখাঁর চৈতল গ্রামে। ওই বৃদ্ধার নাম তীর্থ বালা সিংহ (৬৮)। এই ঘটনায় বড় ছেলে সুভাষ সিংহের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই বৃদ্ধা।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বৃদ্ধার দুই ছেলে। চৈতল গ্রামে একটি ছোট্ট জমি ছিল। সেই জমি তিনি ছোট ছেলের নামে লিখে দিয়েছিলেন ওই বৃদ্ধা। কিন্তু, তা মেনে নিতে পারেননি পেশায় স্কুলশিক্ষক বড় ছেলে সুভাষ সিংহ। তারপর থেকেই তার মায়ের ওপর শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার চলত বলে অভিযোগ। এর আগে তাকে বেশ কয়েকবার মারধর করা হয়েছে। যার ফলে ঘাড়ে এবং কোমরে চোট পেয়েছিলেন ওই বৃদ্ধা। সেই সময় তাকে কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করা হয়। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই বৃদ্ধার উপর অত্যাচার আরও বহুগুণে বেড়ে যায়। ছেলে স্কুল শিক্ষক হলেও অত্যাচারের কারণে গত সপ্তাহে তিনি রেশনের থেকে চাল এবং গম তুলেছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে যায় বড় ছেলে। স্কুল শিক্ষকের মা রেশনের চাল তুলতে যাবে তা মেনে নিতে পারেনি ছেলে। এরপরে সুভাষ তাকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ।

ঘটনায় তীর্থ বালা দেবীর বাঁ হাত ভেঙে যায়। তারপর বড় ছেলে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। সেই অবস্থায় তিনি রাস্তাতেই পড়েছিলেন। কোনওভাবে আত্মীয়রা তাকে উদ্ধার করে মিনাখাঁ গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। সেখানে বেশ কয়েক দিন ধরে তার চিকিৎসা চলে। বর্তমানে তিনি আত্মীয়ের বাড়িতে রয়েছেন। এর পরে তিনি বড় ছেলের বিরুদ্ধে মিনাখাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে এখনও পর্যন্ত পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

বন্ধ করুন