বাড়ি > বাংলার মুখ > কলকাতা > দিলীপের ‘বদলা’র হুমকির নিন্দায় তৃণমূল-কং-বাম, ইতিহাসের অপব্যাখ্যা, মত বিশ্লেষকের
মঙ্গলবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শ্রদ্ধা নিবেদন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের। ছবি: এএনআই।
মঙ্গলবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শ্রদ্ধা নিবেদন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের। ছবি: এএনআই।

দিলীপের ‘বদলা’র হুমকির নিন্দায় তৃণমূল-কং-বাম, ইতিহাসের অপব্যাখ্যা, মত বিশ্লেষকের

  • আমরা হিংসার মোকাবিলা করতে পারি। যারা ক্ষমার কথা বলে, তারা ভিতু। এমনই দাবি করেছেন বাংলার বিজেপি সভাপতি।

ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিজেপির ঘোষিত ‘বলিদান দিবসে’ সরাসরি ‘বদলার’ হুমকি দিলেন পশ্চিমবঙ্গে দলের সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তার জেরে শুরু হল নতুন বিতর্ক।

দিলীপের জ্বালাময়ী ভাষণে ২০১৪ সালে রাজ্যে নিহত ১০৪ জন বিজেপি সংর্থকের মৃত্যুর প্রতিহিংসা নেওয়ার ডাকে কেন্দ্রের শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় সরব হয়েছেন তৃণমূল ও বাম নেতারা।

এ দিন দক্ষিণ কলকাতার কেওড়াতলা শ্মশানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মরণসভায় দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা খারিজ করে এবং নাগরিকত্ব সংশোধন আইন প্রণয়ন করে শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করেছে বিজেপি সরকার। আমরা তাঁর সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের আদর্শ মেনে চলব।’

কিন্তু তার পরেই রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেন, ‘আপনারা (তৃণমূল) যদি তরোয়াল বের করেন তবে আমিও তরোয়াল বের করব। যদি ছুরি বের করেন, তাহলে আমিও ছুরি বের করব। কিন্তু যদি জোড়হাতে আসেন, তাহলে আমিও জড়িয়ে ধরব। আমরা হিংসার মোকাবিলা করতে পারি। যারা ক্ষমার কথা বলে, তারা ভিতু। আমরা সাগ্রহে প্রতিটি অবিচারের বদলা নেব। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে আজ আমি এই শপথ নিচ্ছি।’

এরপর তিনি বলেন, ‘আমি সমস্ত নবীনকে তাঁদের জীবনের একটি বছর পরিবর্তন আনার জন্য দিতে বলছি। এই আত্মত্যাগ জরুরি।’

প্রসঙ্গত, গত ১৯ জুন ‘বদলাও হবে, বদলও হবে’ নতুন স্লোগান চালু করেছেন দিলীপ ঘোষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্রের সামনে রাজ্য সভাপতির ছবি দিয়ে এই প্রচার শুরু করেছে বিজেপি। মনে করা হচ্ছে, ২০১১ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র নির্বাচনী স্লোগান ‘বদলা নয়, বদল চাই’ স্লোগানেরই পালটা হিসেবে এবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে এই স্লোগান ছেড়েছেন দিলীপ।

দিলীপ ঘোষের আগ্রাসী ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় রাজ্যের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী, বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা তাপস রায় এ দিন বলেন, ‘দিলীপ ঘোষ সদর্থক রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন। রথ যাত্রা উপলক্ষে জগন্নাথ দেবের কাছে আমার প্রার্থনা, বাংলার বিজেপি নেতাদের জ্ঞানদান করুন। বাংলার মানুষ কখনও হিংসা মেনে নেননি এবং তার প্রমাণ ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে পাওয়া গিয়েছে।’

দিলীপের ভাষণের নিন্দা করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রও। তিনি বলেন, ‘দিলীপ ঘোষ একবছরের জন্য হিংসার ডাক দিয়েছেন। যদি বাংলার মাটিতে হিংসার স্থান হত. তা হলে ৩৪ বছরের বাম শাসন শেষ হত না। বামেদের হঠাতে মানুষ বোমা-বন্দুক ব্যবহার করেননি। তাঁরা চুপচাপ ভোট দিয়েছেন।’

 সিপিএম বিধায়ক ও নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘অপদার্থ লোক বেশি কথা বলে। যে সমস্ত হিংসার কারবারিদের এক সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দেখা যেত, তারাই এখন বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। মানুষ এই নীতি মেনে নেবে না।’

প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ তথা প্রখ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষক অমল মুখোপাধ্যায়ের মতে, ‘শ্যামাপ্রসাদের জীবন ও কর্মকাণ্ড খুব কাছে থেকে দেখেছি। তাঁকে কখনও হিংসা নিয়ে কথা বলতে বা তাকে সমর্থন জানাতে দেখিনি। গান্ধীবাদী না হলেও তিনি হিংসায় কোনও দিন বিশ্বাসী ছিলেন না। কেউ যদি বলে তিনি প্রতিহিংসা নেওয়ার সশস্ত্র পথ দেখিয়েছেন, তা হলে তিনি ভুল করছেন।’

বন্ধ করুন