বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > প্লাস্টিকে লেখা পাকিস্তানের ঠিকানা, সন্দেহ হলেও ভাবায়নি বাসিন্দাদের‌, তৃতীয় কে?
নিউটাউনের অভিজাত আবাসনে গা–ঢাকা দিয়েছে পাঞ্জাবের কুখ্যাত দুই গ্যাংস্টার। ছবি সৌজন্য–এএনআই।
নিউটাউনের অভিজাত আবাসনে গা–ঢাকা দিয়েছে পাঞ্জাবের কুখ্যাত দুই গ্যাংস্টার। ছবি সৌজন্য–এএনআই।

প্লাস্টিকে লেখা পাকিস্তানের ঠিকানা, সন্দেহ হলেও ভাবায়নি বাসিন্দাদের‌, তৃতীয় কে?

  • কিন্তু হাতে গোনা দু’‌তিন তাদের বাইরে বেরোতে দেখা গিয়েছিল। তাতেও সন্দেহ হয়নি। কারণ এখন রাজ্যজুড়ে বিধিনিষেধ চলছে।

গ্যাংস্টারদের সঙ্গে যে পাক যোগ ছিল তা প্রথম বোঝা যায় সেদেশের একটি প্লাস্টিক প্রকাশ্যে আসায়। তাও সে ঘটনা নজরে আসে প্রায় দু’‌সপ্তাহ আগে। কিন্তু তার সঙ্গে যে গ্যাংস্টার যোগ রয়েছে তা কেউ ভাবতেও পারেননি। বেশ কিছুদিন আগে তারা অভিজাত এলাকার ফ্ল্যাটে এসেছিল। কিন্তু হাতে গোনা দু’‌তিন তাদের বাইরে বেরোতে দেখা গিয়েছিল। তাতেও সন্দেহ হয়নি। কারণ এখন রাজ্যজুড়ে বিধিনিষেধ চলছে। জয়পাল সিং ভল্লার ও তার সঙ্গী যশপ্রীত দিনের পর দিন ফ্ল্যাটের অন্দরেই কাটিয়েছে। তাদের চালচলন নিয়ে আবাসনের বাসিন্দাদের খুব একটা সন্দেহ হয়নি। তবে পাঞ্জাবের কুখ্যাত গ্যাংস্টার যে ঘাঁটি গেড়েছে তা কল্পনাও করতে পারেননি তাঁরা।

কিন্তু পাক যোগ পুলিশ জানল কী করে?‌ পুলিশ সূত্রে খবর, জয়পালদের ফ্ল্যাট থেকে পাকিস্তানের কাপড়ের দোকানের প্লাস্টিক মিলেছে। গত ২৩ মে ওই ফ্ল্যাটে আসে জয়পাল–যশপ্রীত। একটি গাড়ি এসে তাদের নামিয়ে দিয়ে যায়। তারপর থেকে আর ফ্ল্যাট থেকে বেরোয়নি দু’জনে। তবে এখানে তৃতীয় এক ব্যক্তির উপস্থিতি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যে এই গ্যাংস্টারদের খাবার দু’‌তিন–বেলা পৌঁছে দিত। কারণ ফ্ল্যাটে তেমন রান্নার সরঞ্জাম মেলেনি। বাসিন্দাদের থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে একজন আসত খাবার দিতে। এখন জানার চেষ্টা চলছে সেই ব্যক্তি কে?‌

সূত্রের খবর, নিউটাউনের ওই ফ্ল্যাট মাসিক ১৫ হাজার টাকার চুক্তিতে ভাড়া নেয় জয়পাল–যশপ্রীত। সুতরাং অর্থের অভাব ছিল না এটা স্পষ্ট। তবে নিজেরা সরাসরি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়নি ওরা। তৃতীয় ব্যক্তি মারফত এই ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিল। সিকিউরিটি ডিপোজিট হিসাবে দিয়েছিল অগ্রিম ২৫ হাজার টাকা। ২০ মে’‌র আগে ১১ মাসের জন্য করা হয়েছিল এই চুক্তি। তাদের ফ্ল্যাটে ফুড ডেলিভারি বয়দেরই যাতায়াত ছিল। কিন্তু সেটা একজনই করত বলে জানা যাচ্ছে। কখনও অনলাইনে খাবার অর্ডার দিত জয়পালরা।

তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই ফ্ল্যাটের মালিক ও দালালের নাম জানতে পেরেছে। সুশান্ত সাহা নামে এক দালালের মারফত ফ্ল্যাট ভাড়া নেয় জয়পাল–যশপ্রীত। এই সুশান্ত বিষয়টি জানত বলে পুলিশের অনুমান। ফ্ল্যাটের মালিকের নাম সাবির মোল্লা। আপাতত আলালকে জেরা করছে পুলিশ। উঠে আসতে পারে আরও অনেক নাম। নিউটাউনে তাদের কোনও বন্ধুবান্ধব থাকত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ কয়েকটি মদের বোতল এখান থেকে পাওয়া গিয়েছে।

বন্ধ করুন