বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > একুশের মঞ্চে মমতার পাশে প্রশান্ত কিশোর, কোন কারণে এই সিদ্ধান্ত তৃণমূলের?
প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। (ফাইল ছবি, সৌজন্য সমীর জানা/হিন্দুস্তান টাইমস)
প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। (ফাইল ছবি, সৌজন্য সমীর জানা/হিন্দুস্তান টাইমস)

একুশের মঞ্চে মমতার পাশে প্রশান্ত কিশোর, কোন কারণে এই সিদ্ধান্ত তৃণমূলের?

  • আর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দেখা যাবে ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরকে। পেগাসাসে তাঁর ফোনেও আড়িপাতা হয়েছিল।

জেলায় জেলায় প্রস্তুতি তুঙ্গে। এবার একুশে জুলাইয়ের তাৎপর্য একেবারেই আলাদা। কারণ তৃণমূল ভবন, ধর্মতলার শহিদে বেদিতে ‘সাজো সাজো’ রব। দুপুর ২টোয় কালীঘাট থেকে ভার্চুয়াল সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দেখা যাবে ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরকে। পেগাসাসে তাঁর ফোনেও আড়িপাতা হয়েছিল। এই প্রথম দেখা যাবে প্রশান্ত কিশোরকে। ভোট স্ট্র্যাটেজিস্টকে পাশে রেখে মমতা কী বার্তা দেন, সেদিকে তাকিয়ে সবাই।

আজ সকালে শহিদদের স্মরণ করে টুইটে মমতা লেখেন, ‘‌১৯৯৩ সালে প্রাণ হারানো ১৩ জন নিরীহ মানুষকে আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাই। তাঁদের আজ দুপুর ২টোয় ভার্চুয়াল সভায় শ্রদ্ধা জানাব। সব ভাই–বোনেদের অনুরোধ, শহিদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আজ দুপুর ২টোয় ভার্চুয়াল সভায় যোগ দিন। অমানবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে যাব আমরা।’‌ শহিদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করলেন সুব্রত বক্সি, ফিরহাদ হাকিম। ‌

একুশের নির্বাচনে বাংলার নিজের মেয়ের কাছে কার্যত পর্যুদস্ত হয়েছেন মোদী–শাহ জুটি। তৃতীয়বারের জন্য বাংলার সরকার গঠন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধাক্কা খেয়েছে গেরুয়া শিবিরের সব চেষ্টা। দেশজুড়ে মোদী বিরোধী মুখ হয়ে উঠেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অবিজেপি আঞ্চলিক দলগুলির কাছেও বাংলার মেয়ের গুরুত্ব বেড়েছে। তাই এবার বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য রাজ্যেও শোনা যাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কন্ঠস্বর। যাতে সব ঠিকঠাক চলে তার জন্যই মমতার পাশে থাকবেন প্রশান্ত কিশোরও।

আজ টুইট করে ঘাসফুল শিবিরের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘‌১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের সেই যন্ত্রণার স্মৃতি আজও আমাদের মনে আছে। তৎকালীন সরকার ১৩ জন নিরীহ মানুষের উপর যেভাবে নির্মম অত্যাচার চালায়, তা আমরা কখনও ভুলতে পারব না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে যাঁরা সাহসের সঙ্গে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, যাঁরা আত্মবলিদান দিয়েছিলেন, তাঁদেরকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। জয় হিন্দ। জয় বাংলা।’‌

প্রশান্ত কিশোরের কলকাতা ফেরার অন্য একটি তাৎপর্য রয়েছে। তিনি বেশ কয়েকবার দেখা করেছেন শরদ পাওয়ারের সঙ্গে। কিশোরের দিল্লি যাওয়া, গান্ধী পরিবারের সঙ্গে তাঁর বৈঠক—সবকিছু নিয়ে রিপোর্ট দেবেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ২০২৬ পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ আইপ্যাক। তাঁর লক্ষ্য, বিজেপি বিরোধী শিবির জোট বাঁধুক ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে। আর সেই সেতুবন্ধনের নেপথ্য কারিগর হবেন তিনিই। তাই আজকের উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

বন্ধ করুন