ছবিটি প্রতীকী।
ছবিটি প্রতীকী।

হজরত মহম্মদের ভাবমূর্তিতে আঘাত, পাক শিক্ষকের মৃত্যুদণ্ড

  • ২০১৩ সালের মার্চ মাসে জুনেইদ হাফিজকে গ্রেফতারের পরে তাঁর বিরুদ্ধে পয়গম্বর মহম্মদের বিরুদ্ধে কুত্সা রটানোর অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছিল। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তানে এমন স্পর্শকাতর অভিযোগ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়াই নিয়ম।

পয়গম্বরের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারারকে মৃত্যুদণ্ড শোনাল পাকিস্তানের আদালত। জুনেইদ হাফিজ নামে বছর তেত্রিশের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় নবী মহম্মদ সম্পর্কে কুত্সা রটানোর অভিযোগ রয়েছে।

২০১৩ সালের মার্চ মাসে জুনেইদ হাফিজকে গ্রেফতারের পরে তাঁর বিরুদ্ধে পয়গম্বর মহম্মদের বিরুদ্ধে কুত্সা রটানোর অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছিল। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তানে এমন স্পর্শকাতর অভিযোগ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়াই নিয়ম।

জুনেইদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায়কে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করে তাঁর আইনজীবী আসাদ জামাল জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে তাঁর মক্কেল উচ্চতর আদালতে আবেদন জানাবেন।

তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে হাফিজ জুনেইদ অবশ্য গোড়া থেকেই বলেছেন, তাঁকে ফাঁসাতে এই ছক সাজিয়েছে এক ধর্মীয় গোষ্ঠী প্রভাবান্বিত ছাত্র আন্দোলনকারীরা।

জেলে তাঁর বিরুদ্ধে সহ-বন্দিরা আক্রমণ চালানোর পরে ২০১৪ সালে ওই শিক্ষককে মুলতান কেন্দ্রীয় কারাগারে সলিটারি সেলে রাখা হয়। হাফিজের পক্ষে মামলা লড়ার ঘোষণা করার পরে মুলতান শহরে নিজের চেম্বারে খুন হন আইনজীবী রশিদ রহমান।

এর পর অন্য এক আইনজীবী প্রথমে তাঁর হয়ে মামলা লড়ার ঘোষণা করলেও পরে নাম প্রত্যাহার করে নেন। তৃতীয় এক আইনজীবীকে মামলার শুনানির মাঝেই হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

সাধারণত ধর্মীয় গোষ্ঠীর চাপে পড়ে ধর্মীয় অবমাননা মামলায় মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন নিম্ন আদালতের বিচারপতিরা। পরে উচ্চতর আদালতে আবেদন জানালে অধিকাংশ সময় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ খারিজ হয়ে যায়।

এর একমাত্র ব্যতিক্রম হয়েছিল ২০১৪ সালে লাহোর হাইকোর্ট আসিয়া বিবির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলে। পরে ২০১৮ সালে তা যথেষ্ট প্রমাণের অভাবে খারিজ করে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট।

বন্ধ করুন