বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ‘এক পদ, এক পেনশন’-এর কোনও পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে পারবে না আদালত : কেন্দ্র
‘এক পদ, এক পেনশন’-এর কোনও পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে পারবে না আদালত : কেন্দ্র (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)
‘এক পদ, এক পেনশন’-এর কোনও পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে পারবে না আদালত : কেন্দ্র (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)

‘এক পদ, এক পেনশন’-এর কোনও পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে পারবে না আদালত : কেন্দ্র

  • ‘এক পদ, এক পেনশন’ প্রণয়নের ক্ষেত্রে যে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল, তা খতিয়ে দেখার জন্য ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে এক সদস্যের একটি বিচারবিভাগীয় কমিটি গঠন করেছিল কেন্দ্র।

‘এক পদ, এক পেনশন’ সংক্রান্ত কোনও পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে পারবে না আদালত। কারণ এখন যে অবস্থায় আছে সেই নীতি, তার আর্থিক দিক খতিয়ে দেখে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। সুপ্রিম কোর্টে একথাই জানাল কেন্দ্র। 

সেই নীতির আওতায় প্রতি বছর অবসরপ্রাপ্ত ফৌজিদের পেনশনের বিষয়টি পর্যালোচনা করার আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিল ‘ইন্ডিয়ান এক্স-সার্ভিসম্যান মুভমেন্ট’। একইসঙ্গে ২০১৪ সালের বেতনের উপর ভিত্তি করে পেনশন নির্ধারণের আর্জিও জানানো হয়েছিল। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, পাঁচ বছর অন্তর পেনশনের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয় এবং ২০১৩ সালের বেতনের ভিত্তিতে পেনশন নির্ধারিত হয়। সেই আর্জি খতিয়ে দেখছে শীর্ষ আদালত।

২০১৬ সাল থেকে আদালতে ঝুলে থাকা সেই আর্জির স্বপক্ষে হলফনামা দাখিল করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ‘এক পদ, এক পেনশন’-এর জন্য প্রতি বছর কোষাগার থেকে ৭,১২৩.৩৮ কোটি টাকা দিতে হচ্ছে। ২০১৪ সালের ১ জুলাই থেকে সেই প্রকল্পের জন্য মোট ৪২,৭৪০.২৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রের সেই হলফনামা গ্রহণ করে আগামী ২৮ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এবং ইন্দিরা ব্যানার্জির বেঞ্চ। সেদিন কেন্দ্রের হয়ে সওয়াল করবেন অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে ভেনুগোপাল।

২০১১ সালে রাজ্যসভার পেনশন কমিটির রিপোর্টের উপর নির্ভর করে সেই মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ‘এক পদ, এক পেনশন’-কে সমসংখ্যক বছর চাকরি এবং একই পদে অবসর নেওয়া ফৌজিদের অভিন্ন পেনশন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিল কমিটি। যে কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা ভগৎ সিং কোশিয়ারি। কমিটির তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল, ‘এক পদ, এক পেনশন’-এর আওতায় ফৌজিরা কবে অবসর গ্রহণ করেছেন, তা বিবেচ্য নয়।

মামলাকারী সংগঠনের দাবি, ‘এক পদ, এক পেনশন’-এর ক্ষেত্রে যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল, সেটি আদতে বাস্তবায়িত হয়নি। সংগঠনের আইনজীবী বালাজি শ্রীনিবাসন বলেন, ‘২০১৩ সালের ভিত্তিতে পেনশন নির্ধারণের ফলে যে ফৌজিরা ২০১৪ সালের ১ জুলাইয়ের পর অবসর গ্রহণ করেছেন, তাঁদের থেকে (২০১৪ সালের আগে) অবসরপ্রাপ্তরা একটি ইনক্রিমেন্টের কম পেনশন পাচ্ছেন। এনডিএ সরকার নিজেদের ইস্তাহারে জানিয়েছিল যে কোশিয়ারি কমিটির সংজ্ঞার ভিত্তিতে এক পদ, এক পেনশনের প্রণয়ন করবে। আমরা চাই, আসলে যেভাবে এক পদ, এক পেনশন বাস্তবায়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল, সেভাবেই তার রূপায়ণ হোক।’

সেই দাবি নিয়ে কেন্দ্রের ব্যাখ্যা, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ২০১৪ সালে যে ‘মডিফায়েড অ্যাসিরওড কেরিয়ার প্রগ্রেসন’ (এমএসিপি) চালু করা হয়েছিল, সেটির কারণে এই পার্থক্য আছে। উঁচুপদের ফৌজিরা তাঁদের জুনিয়রদের থেকে কম পেনশন পাচ্ছেন বলে মামলাকারী সংগঠনের তরফে যে দাবি করা হয়েছিল, তা খারিজ করে দিয়েছে কেন্দ্র।

কোশিয়ারি কমিটির রিপোর্টের প্রসঙ্গে কেন্দ্রের দাবি, কমিটির সুপারিশ গ্রহণ করেনি সরকার। তাই সেই সুপারিশগুলি মেনে চলতে বাধ্য নয় কেন্দ্র। হলফনামায় বলা হয়েছে, ‘যে কোনও কমিটির সুপারিশ বিবেচনা করে সরকার। কিন্তু কোষাগারের উপর প্রভাব, সেটির বাস্তবতা, প্রণয়নের মতো বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ‘এক পদ, এক পেনশন’ প্রণয়নের ক্ষেত্রে যে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল, তা খতিয়ে দেখার জন্য ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে এক সদস্যের একটি বিচারবিভাগীয় কমিটি গঠন করেছিল কেন্দ্র। সেই কমিটির রিপোর্টও জমা পড়েছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ কমিটির পর্যালোচনা চলছে বলে দাবি করে সেই রিপোর্ট এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

বন্ধ করুন