বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > 'দেশি কুকুরের যত্ন নিন, ওরাও ভালবাসতে জানে,' বার্তা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার
ছবি : ফারফোক্স (Furrfolks)

'দেশি কুকুরের যত্ন নিন, ওরাও ভালবাসতে জানে,' বার্তা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার

  • ৯ জানুয়ারি রুবির এক ক্যাফেতে অ্যাডপশন ইভেন্টের আয়োজন করে ফারফোক্স। বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন অভিনেতা অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। চারিদিকে কুকুর-বিড়ালের ছানাদের দেখে কার্যত আপ্লুত হয়ে যান অনিন্দ্য।

নামীদামি বিদেশি জাত নয়। বরং দেশের পথকুকুরদেরই একটু আশ্রয় দিন। তারাই আপনার জীবন ভালবাসায় ভরিয়ে তুলবে। এটাই মূলমন্ত্র স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা 'ফারফোক্স'(Furrfolks)-এর। এই লক্ষ্য থেকেই রবিবার (৯ জানুয়ারি) রুবির এক ক্যাফেতে ইভেন্টের আয়োজন করে ফারফোক্স।

ইভেন্টের লক্ষ্য

কলকাতায় পশুপ্রেমীর সংখ্যা নেহাত্ কম নয়। কিন্তু কুকুর পোষার কথা ভাবলেই প্রথমে মাথায় আসে স্পেনিয়েল, জার্মান শেপার্ড, ল্যাবের মতো নাম। তবে বাস্তবে বেশিরভাগ বিদেশি কুকুরেরই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশ কম। দক্ষিণবঙ্গের গরম আবহাওয়ায় তাদের যত্ন নেওয়ায় কঠিন। তাছাড়া মুনাফার জন্য জোর করে ব্রিডিং, ভুল পদ্ধতিতে ব্রিডিংয়ের মতো ব্যাপার তো আছেই।

সেই তুলনায় আমাদের রাস্তার দেশি কুকুর এই জলবায়ুর জন্য আদর্শ। তাছাড়া দেশি কুকুরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেকটাই বেশি হয়। আর সঠিক যত্ন নিলে দেশি কুকুরও দেখতে বেশ ভালোই হয়। মার্কিন মুলুক, ব্রিটেনে পর্যন্ত এখন অনেকে 'ইন্ডিয়ান পারিয়াহ' শখ করে পোষেন। ভারতীয় সেনাতেও স্থান পাচ্ছে তারা। তবুও পথ কুকুররা যথেষ্ট উপেক্ষিত। রাস্তায় কুকুরছানা দেখলে আদর অনেকেই করেন। কিন্তু বাড়িতে পোষা বা যত্ন নেওয়ার দিকে যান না।

ফারফোক্সের সহ-উদ্যোক্তা এস কে বাসিত জানান, ঠিক এই ভাবনা থেকেই পথ চলা ফারফোক্সের। দেশি কুকুর পোষা, তাদের যত্ন নেওয়ার প্রচার করে সংস্থা। শুধু তাই নয়, পথ কুকুরদের নিয়মিত খাওয়ানো, ওষুধ, চিকিত্সার ব্যবস্থা করেন তাঁরা।

সংস্থার অপর উদ্যোক্তা রুমেলা মিত্র জানান, দক্ষিণ কলকাতা ও উত্তর কলকাতার বিভিন্ন অংশে স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে কাজ করেন। বেশিরভাগই স্কুল-কলেজের পড়ুয়া। নিজেরা ও বন্ধুরা মিলে যে অনুদান সংগ্রহ করেন, তাই দিয়েই পথকুকুরদের টিকাকরণ, ওষুধ, পথ্য, চিকিত্সা ও নির্বীজকরণের আয়োজন করেন তাঁরা। শুধু কুকুরই নয়, বিড়ালদেরও যত্ন নেন।

ফাইল ছবি : ফারফোক্স
ফাইল ছবি : ফারফোক্স (Furrfolks)

রবিবারের ইভেন্টেও তাঁদের লক্ষ্য ছিল নিজেদের ভাবনাটা আরও বেশি করে ছড়িয়ে দেওয়া। ছিল কুকুরছানা, বিড়ালছানা অ্যাডপ্ট করার ব্যবস্থাও। এদিন ইভেন্টে বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন অভিনেতা অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। চারিদিকে কুকুর-বিড়ালের ছানাদের দেখে কার্যত আপ্লুত হয়ে যান অনিন্দ্য।

অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। ছবি : ফারফোক্স
অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। ছবি : ফারফোক্স (Furrfolks)

আপ্লুত হন ইভেন্টে আসা আরও অনেকেই। রুমেলা জানিয়েছেন, রবিবারের অনুষ্ঠান থেকে ৫ টি অ্যাডপশন হয়েছে। অর্থাত্ পরিবার, আশ্রয় ও ভালবাসা পেল ৫টি ক্ষুদে চারপেয়ে। এস কে বশিত জানান, 'নির্বীজকরণের মাধ্যমে রাস্তার কুকুরদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। নির্বীজকরণের পরে কুকুরদের কিছুদিন শেলটারে যত্ন নিতে হয়। বর্তমানে আমাদের শেলটার নেই। তাই নির্বীজকরণ বা বড়সড় চিকিত্সার ক্ষেত্রে অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাহায্য নিতে হয়। তাই আগামিদিনে নিজেদের একটা শেলটার করাই মূল লক্ষ্য।'

বন্ধ করুন