বাড়ি > ঘরে বাইরে > করোনা চিকিৎসার ওষুধ তো মিলবে ১০৩ টাকায়! কতটা কার্যকরী সেটা?

প্রতিটি ট্যাবলেটের দাম মাত্র ১০৩ টাকা। কিন্তু করোনাভাইরাস রোগীদের ক্ষেত্রে মুম্বইয়ের গ্লেনমার্ক ফার্মাসিউটিক্যালসের অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ফ্যাভিরপিরাভিরের কার্যকারিতা আদতে কতটা, তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন রয়েছে।

ফ্যাবি-ফ্লু নামে বাজারে আনা ওষুধটি হালকা ও মাঝারি মাত্রার উপসর্গের করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হবে। যা ভারতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ দেশের ৮০-৮৫ শতাংশ করোনা রোগীরই হালকা থেকে মাঝারি উপসর্গ দেখা গিয়েছে। তবে সবক্ষেত্রে সেই ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না। শুধু ‘সীমাবদ্ধ জরুরি ব্যবহার’ করা যাবে, সেই শর্তেই 'ফ্যাবি-ফ্লু' উৎপাদন এবং বাজারে আনার অনুমতি দিয়েছে ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই)।

কিন্তু সেই ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। কয়েকটি গবেষণা অনুযায়ী চিন এবং রাশিয়ায় ৮৮ শতাংশ হালকা এবং মাঝারি রোগীদের ক্লিনিক্যাল উন্নতি হলেও করোনার ওষুধ হিসেবে অনুমোদন পায়নি ফ্যাভিরপিরাভির। জাপানে আবার ফ্লুয়ের জন্য সরকারিভাবে অনুমোদন পেলেও করোনা চিকিৎসায় ব্যবহারের ছাড়পত্র পায়নি।

সিস্টেমেটিক্স সিকিউরিটিজের ফার্মা অ্যানালিস্ট কুণাল ধামেশা জানান, আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ক্ষেত্রে ছোটো স্যাম্পেল সাইজ ব্যবহৃত হয় এবং সেগুলি রাশিয়া, চিন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর আধা-নিয়ন্ত্রিত বাজারের। তিনি বলেন, ‘জাপানে ফ্লুয়ের জন্য সরকারের ছাড়পত্র পেয়েছে। তবে করোনার উপসর্গের ক্ষেত্রে অনুমোদন দেওয়া হয়নি।’

ভারতে অবশ্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে কতটা সাফল্য পেয়েছে, তার উপরও কার্যকরিতা অনেকাংশ নির্ভর করবে। গ্লেনমার্ক ফার্মাসিউটিক্যালস জানিয়েছে, করোনার চিকিৎসায় সম্ভাবনা কতটা, তা দেখার জন্য দুটি অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগের (ফ্যাভিরপিরাভির এবং ইউমিফেনোভির) মিশ্রণ পরীক্ষা করা হবে।

ফ্যাভিরপিরাভিরের আরও একটি সমস্যা হল যে তুলনামূলক বেশি সংখ্যক ওষুধ খেতে হবে। প্রথম দিনে করোনা রোগীদের ১৮ টি ওষুধ নিতে হবে। পরের ১৩ দিনে রোজ আটটি করে ট্যাবলেটের প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ ১৪ দিনে ১২২ টি ট্যাবলেট খেতে হবে। সেজন্য খরচ পড়বে ১,৯৫৮ টাকা। ফলে চিকিৎসা সর্বোপরি খরচ খুব একটা কম নয়। সরকার অবশ্য কম দামে সেই ওষুধ কিনতে পারবে।

সেইসব প্রশ্নের মধ্যেই অবশ্য আশায় বুক বাঁধছেন অনেকে। অনেকের মতে, করোনা আক্রান্তদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে ফ্যাভিরপিরাভির। পাশাপাশি ওষুধের কোনও স্বত্ব না থাকায় আরও জেনেরিক ভার্সন বাজারে জানা যাবে। অর্থাৎ পরবর্তীকালে দাম কমবে। অনেক সংস্থাই ভারতীয় বাজারে তাড়াতাড়ি বের করতে পারে। এছাড়াও আগামী কয়েক সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং নেপাল থেকে আমদানি করা হবে। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধের উৎপাদনের প্রক্রিয়া ততটা জটিলও নয়।

বন্ধ করুন