হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন-এর ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত নন ভারতীয় চিকিৎসকরা। ছবি: রয়টার্স। (REUTERS)
হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন-এর ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত নন ভারতীয় চিকিৎসকরা। ছবি: রয়টার্স। (REUTERS)

করোনার চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন বিপদ ডেকে আনতে পারে, দাবি AIIMS-এর

  • অন্য অনেক ওষুধের মতো এরও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে উপকারের চেয়ে তা ক্ষতিই বেশি করতে পারে।

Covid-19 চিকিৎসার জন্য কোনও ম্যাজিক ওষুধ নয় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন। বরপং সাধারণের উপর প্রয়োগে তা ক্ষতিকর হতে পারে। এই তথ্য জানালেন দিল্লির এইমস-এর ডিরেক্টর রণদীপ গুলেরিয়া।

রবিবার তিনি জানান, ‘হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন সবার চিকিৎসার জন্য নয়। এর থেকে হার্টের স্পন্দনে সমস্যা দেখা দিতে পারে। অন্য অনেক ওষুধের মতো এরও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে উপকারের চেয়ে তা ক্ষতিই বেশি করতে পারে।’

চিনে করোনাভাইরাস জনিত উপসর্গ সারাতে ও রোগের তীব্রতা হ্রাস করার ক্ষেত্রে এই ওষুধ সফল প্রমাণিত হওয়ার পরে বিশ্বজুড়ে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের চাহিদা তুঙ্গে ওঠে। কিন্তু এইমস অধিকর্তার দাবি, চিনের পরীক্ষাগারে প্রাপ্ত তথ্য যথেষ্ট নয়।

এ দিন তিনি আরও জানান, ‘কিছু কিছু পরীক্ষাগারে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, Covid-19 চিকিৎসায় তার কিছু প্রভাব দেখা গিয়েছে। আইসিএমআর-এর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনা আক্রান্ত রোগীদের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের এবং স্বাস্থ্য পরিষেবায যুক্ত কর্মীদের ক্ষেত্রে তা সহায়ক হতে পারে। চিন ও ফ্রান্সে পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মাঝারি ও গুরুতর সংক্রমণের শিকার রোগীদের ক্ষেত্রে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের সঙ্গে অ্যাজিথ্রোমাইসিন প্রয়োগ করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। যে হেতু আর কোনও চিকিৎসা পদ্ধতি এখনও আবিষ্কৃত হয়নি, তাই এই ওষুধ করোনা চিকিৎসায় কাজে লাগানো হচ্ছে।’

গত বৃহস্পতিবার আইসিএমআর জানিয়ে দেয়, পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল না পাওয়া পর্যন্ত Covid-19 চিকিৎসায় তারা হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারের পরামর্শ দেবে না। একমাত্র সংক্রমণ রোধে যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদেরই তা প্রয়োজনে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে।

বিশ্বে মোট হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ৭০% উৎপাদিত হয় ভারতে। সম্প্রতি আমেরিকা, স্পেন-সহ কিছু দেশে এই ওষুধ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি। তার আগে, গত ২৫ মার্চ তা রফতানির উপরে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল কেন্দ্রীয় প্রশাসন।

বন্ধ করুন