বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > বিরল দৃষ্টান্ত, সংকটের মধ্যেও ঐক্য জার্মান সরকারের
সংকটের মধ্যে ঐক্য প্রদর্শন করলো জার্মান সরকার। ছবি ডয়েচে ভেল

বিরল দৃষ্টান্ত, সংকটের মধ্যেও ঐক্য জার্মান সরকারের

  • সামাজিক গণতন্ত্রী দলের নেতা ও চ্যান্সেলর হিসেবে শলৎস সাংবাদিকদের বলেন, জনসাধারণের উপর বাড়তি চাপ লাঘব করতে সরকার অত্যন্ত স্পষ্ট একগুচ্ছ পদক্ষেপ প্রস্তুত করছে৷

বুধবার সাংবাদিকদের সামনে জার্মানির তিন শরিক দলের নেতারা ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করলেন৷ জ্বালানি সংকটের মোকাবিলা করতে দ্রুত আরও একগুচ্ছ পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেন তারা৷ করোনা থেকে শুরু করে ইউক্রেন সংকট ও তার বহুমুখী প্রভাব নিয়ে জর্জরিত জার্মানির জোট সরকারের মধ্যে ঐক্যের অভাব বার বার স্পষ্ট হয়ে উঠছিল৷

সরকারি জোটের মধ্যে সমন্বয় ও ঐকমত্য ছাড়াই তিন শরিক দলের নেতারা একতরফাভাবে নানা সমাধানসূত্র তুলে ধরছিলেন৷ ফলে জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সম্পর্কে সরকারের নীতি যে কী, সে বিষয়ে সংশয় বাড়ছিল৷ মঙ্গল ও বুধবার বার্লিনের কাছে মেসেব্যার্গে চ্যান্সেলর শলৎসের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরেও সরকারের পদক্ষেপ স্পষ্ট না হলেও তিন শরিক দলের শীর্ষ নেতা ঐক্য প্রদর্শন করলেন৷

সামাজিক গণতন্ত্রী দলের নেতা ও চ্যান্সেলর হিসেবে শলৎস সাংবাদিকদের বলেন, জনসাধারণের উপর বাড়তি চাপ লাঘব করতে সরকার অত্যন্ত স্পষ্ট একগুচ্ছ পদক্ষেপ প্রস্তুত করছে৷ উদারপন্থি এফডিপি দলের নেতা ও অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়ান লিন্ডনার চলতি বছরের পাশাপাশি ২০২৩ সালের শুরুতেও আরও সহায়তার আশ্বাস দেন৷ সবুজ দলের নেতা, ভাইস চ্যান্সেলর ও অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী রোব্যার্ট হাবেক বলেন, বর্তমান এই কঠিন সময়ে দেশের কাণ্ডারী হিসেবে ওলাফ শলৎসের মতো ধীর-স্থীর ঠাণ্ডা মাথার মানুষের প্রয়োজন৷ তিনিও সরকারের পক্ষ থেকে আরও সহায়তার রূপরেখা তুলে ধরেন৷ সেইসঙ্গে বিদ্যুতের মূল্য স্থির করার বর্তমান প্রক্রিয়ায় দ্রুত রদবদলের মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের আশ্বাস দিচ্ছে জার্মান সরকার৷ ইউরোপীয় পর্যায়েও একই উদ্যোগ শুরু হয়েছে৷

গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জের ধরে বিদ্যুতসহ সব জ্বালানির মূল্যও লাগামহীন হারে বেড়ে চলায় জার্মানির সাধারণ মানুষ ও শিল্পবাণিজ্য জগত আতঙ্কে ভুগছে৷ অনেকে আসন্ন শীতের মাসগুলিতে বিদ্যুতের মাসুল ও ঘর গরম রাখার ব্যয় বহন করতে পারবেন কিনা, সে বিষয়ে সংশয়ে ভুগছেন৷ তাছাড়া জ্বালানি সংকটের একাধিক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নিয়েও দুশ্চিন্তা বাড়ছে৷ সরকার ঠিক সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশ আরও গভীর সংকটের মধ্যে ডুবে যাবে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে দিচ্ছেন৷

ক্ষমতায় আসার ঠিক পরেই ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার হামলা জার্মানির জোট সরকারের ঘোষিত লক্ষ্যগুলিকে কোণঠাসা করে দিয়েছে৷ অর্থমন্ত্রী লিন্ডনার বলেন, সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি জার্মানির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলি অবহেলা করলে চলবে না৷ বিশেষ করে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের উপর জোর দেন তিনি৷

প্রকাশ্যে ঐক্য প্রদর্শন সত্ত্বেও বেশ কিছু মৌলিক বিষয়ে শরিকদের মতপার্থক্য দূর করা কতটা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে সংশয় রয়ে গিয়েছে৷ যেমন জ্বালানি সংকটের ফলে যে সব কোম্পানি অস্বাভাবিক মাত্রায় মুনাফার মুখ দেখছে, তাদের উপর বাড়তি কর চাপাতে নারাজ উদারপন্থি এফডিপি দল৷ তবে বিনিয়োগের উপর ‘স্বয়ংক্রিয় মুনাফা'-য় রাশ টানতে রাজি হয়েছে এই দল৷

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনটি ডয়চে ভেলে থেকে নেওয়া হয়েছে। সেই প্রতিবেদনই তুলে ধরা হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার কোনও প্রতিনিধি এই প্রতিবেদন লেখেননি।)

বন্ধ করুন