বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা ভোট ২০২২: কোন কোন ফ্যাক্টরে বদলাতে পারে রাজনৈতিক হাওয়া?
উত্তর প্রদেশে নির্বাচনী সভায় যোগী আদিত্যনাথ। ছবি সৌজন্য- এএনআই (ANI )
উত্তর প্রদেশে নির্বাচনী সভায় যোগী আদিত্যনাথ। ছবি সৌজন্য- এএনআই (ANI )

উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা ভোট ২০২২: কোন কোন ফ্যাক্টরে বদলাতে পারে রাজনৈতিক হাওয়া?

  • রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রাজেশ সিং বলছেন, 'অখিলেশ বড়সড় চ্যালেঞ্জার (বিজেপির) হয়ে উঠতে পারেন। তবে তার জন্য তাঁকে অনেক বেশি খাটতে হবে। দেখতে হবে বুথগুলি।'

দামামা বেজে গিয়েছে গোবলয় রাজনীতির ব্লকবাস্টার মহারণের! উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ও ফলাফলের তারিখ ঘোষণা করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। উল্লেখ্য, গঙ্গাপাড়ের গোবলয় রাজনীতিতে উত্তরপ্রদেশের ভোট কার্যত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর, যার প্রভাব থাকে জাতীয় রাজনীতির আঙিনাতেও। ৪০৩ আসনের উত্তরপ্রদেশের ভোটের হাত ধরেই ২০২২ এর পর ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের পিচ প্রস্তুতিতে সব কয়টি রাজনৈতিক দল মনোনিবেশ করবে বলে মনে করছেন বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষক। উল্লেখ্য, ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন সাত দফায় চলার পর শেষ হবে ৭ মার্চ। এরপর ফল ঘোষণা ১০ মার্চ। তবে ১০ মার্চ শেষ হাসি কে হাসবে, তা নির্ভর করে রয়েছে উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক কয়েকটি ফ্যাক্টরে। আর এই ভোট ফ্যাক্টর নিয়েই বিশ্লেষকদের পর্যালোচনা উঠে আসছে।

উত্তরপ্রদেশের বুকে যে রাজনৈতিক ঘরানা সচরাচর দেখা গিয়েছে , তা হল জাতির ভিত্তিতে ভোটব্যাঙ্ক ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার। তবে ঘরানায় সামান্য বদল দেখা যায় ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে। যেই বার গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে যান নরেন্দ্র মোদী। উল্লেখ্য, বহু রাজনৈতিক অঙ্কে প্রভাব ফেলে উত্তরপ্রদেশের বুকে বারাণসী থেকে ভোটে সেবার দাঁড়িয়েছিলেন গুজরাতের ভূমিপুত্র। এমনই মত বহু বিশ্লেষকের। মোদী ছিলেন ভিন রাজ্যের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তবুও উত্তরপ্রদেশের মাটি থেকে তাঁর জয় ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা , রাজ্যের রাজনৈতিক ঘরানায় এক বড় বদল বলে মনে করেন বহু বিশেষজ্ঞ। মনে করা হয়, ২০১৪ সালে প্রথমবার জাতিভিত্তিক রাজনৈতিক অঙ্কের বাইরে বেরিয়ে এসে, উত্তরপ্রদেশ নেতা ভিত্তিক রাজনৈতিক সমর্থনের রাস্তায় হাঁটে। পাল্টাতে থাকে উত্তরপ্রদেশের 'ভোটিং বিহেভিয়ার'। উল্লেখ্য, ২০১৪ লোকসভা ভোটে প্রথমে মোদী প্রকাশ করেননি, যে তিনি অনগ্রসর শ্রেণির প্রতিনিধি। পরে তিনি বলেছিলেন,'আমি অনগ্রসর শ্রেণির প্রতিনিধি হতে পারি, তবে দেশকে অগ্রসর করব।' ২০১৪ এ বারাণসীর এই ভোটিং প্যাটার্ন বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষককে কিছুটা ভাবিয়েছিল। মনে করা হচ্ছে, মোদীর আমলে গুজরাতের অগ্রগতি এই ভোটিং ঘরানাকে অনেকটাই প্রভাবিত করেছিল সেবার। সঙ্গে যুক্ত হয় বিজেপির হিন্দুত্ব তাস। এরপর উত্তরপ্রদেশে ২০১৭ বিধানসভা ভোট, ২০১৯ লোকসভা ভোট হয়। বিজেপি কার্যত অপ্রতিরোধ্য হয়ে যায় গঙ্গাপাড়ের এই রাজ্যে। ২০১৯ সালে বিজেপি ৫০ শতাংশ আসনে দখল রেখেছিল।

২০১৭ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপি কোনও মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীকে সামনে রেখে ভোটের প্রচারে নামেনি। বরং মোদী সুনামিতে আস্থা রেখেছিলেন পদ্মশিবিরের চাণক্য অমিত শাহ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রাজেশ সিং বলছেন, জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মানুষের রাগ থাকে। তবে ভোট আসতে আসতে জাতীয় স্তরের নেতাদের দেখে তা প্রশমিতও হয় কখনও। তিনি বলছেন,'অখিলেশ বড়সড় চ্যালেঞ্জার (বিজেপির) হয়ে উঠতে পারেন। তবে তার জন্য তাঁকে অনেক বেশি খাটতে হবে। দেখতে হবে বুথগুলি।'

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সরকার বিরোধী হাওয়া ২০২২ উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে এখনও বড় ফ্যাক্টর। আর তা বিজেপি আঁচ পেয়েছে। ফলে এবারেও মোদীর জনপ্রিয়তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে রয়েছে ৪০৩ আসনের এই নির্বাচন। যে নির্বাচন অনেকটাই পাকা করে দিতে পারে ২০২৪ লোকসভা ভোটের হাওয়া। উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে ২০২২ ভোটে বহু রঙের রাজনৈতিক শিবির রয়েছে। যেখানে বিজেপির বর্ষীয়ান নেতারা মনে করছেন যে, জমি দখলে রাখা তাঁদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হবে না। অন্যদিকে, গোবলয়ের স্থানীয় দল হিসাবে মাটি দখলের ক্ষেত্রে সরকার-বিরোধী হাওয়াকে কাজে লাগাতে ব্যস্ত সমাজবাদী পার্টি। এদিকে, শেষবার বিধানসভা নির্বাচনে অখিলেশের হাত ধরলেও, 'বহেনজি' মায়াবতী এবার 'একলা চলো রে ' নীতীতে। তাঁকে এখনও পর্যন্ত এই ভোট মানচিত্রে সেভাবে প্রকট হতে দেখা যায়নি। এদিকে, কংগ্রেসের অভিজ্ঞতা বলছে, উত্তরপ্রদেশে তাদের জনসভায় যে জমায়েত হয়,তার প্রতিফলন সেভাবে তাঁদের ভোটব্যাঙ্কে পড়ে না। সামগ্রিক প্রেক্ষাপট থেকে যে ছবি উত্তরপ্রদেশের বুকে উঠে আসছে,তাতে যোগীগড়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে বিজেপি ও সমাজবাদী পার্টির। বিজেপির তরফে বিজয় পাঠক বলছেন, ' ২০১৯ সালে আমরা হ্যাটট্রিক করেছি। সঙ্গে ছিল বাড়বাড়ন্ত স্কোর। বিজেপি পোক্তভাবে এসেছে ৫০ শতাংশ ভোট নিয়ে। সেখানে আমাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি সমাজবাদী পার্টির ভোট শতাংশ ২৮ থেকে ৩০। মাঝের ফাঁকা জায়গা পূর্ণ করা সহজ হবে না। ' এদিকে, ইতিমধ্যেই সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব বলছেন, রাজ্যের পিছিয়ে পড়া মানুষ , অনগ্রসর শ্রেণির মানুষ ঠিক করে ফেলেছেন যে ,তাঁরা বিজেপিকে উৎখাত করবেন। তাঁর এই বক্তব্যে ভোটব্যাঙ্ক ঘিরে ইঙ্গিত স্পষ্ট।

উল্লেখ্য, ভোটের ইস্যুর নিরিখে উত্তরপ্রদেশে একাধিক ফ্য়াক্টরের যাতায়াত দেখা গিয়েছে এযাবৎকালে। তবে, জাতিভিত্তিক ভোট ইস্যু এক্ষেত্রে বড় ফ্যাক্টর। এছাড়াও সাম্প্রতিককালে কৃষক অসন্তোষ যোগীগড়ের ভোটে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। সেক্ষেত্রে কৃষি আইন ফ্যাক্টর প্রভাব ফেলতে পারে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে। উত্তরপ্রদেশের পূর্বাংশে মোদী ও যোগী ফ্যাক্টর বড় হয়ে দাঁড়াতে পারে। এদিকে, অখিলেশের মসনদ দখলের স্বপ্ন কতটা পূরণ হবে তা ঠিক করে দিতে পারে উত্তরপ্রদেশের বুন্দেলখন্ড এলাকা। উল্লেখ্য, এককালে ডাকাতদের দখলে থাকা এই এলাকা বর্তমানে উন্নয়নের প্রশ্ন সামনে রেখে ভোট দিতে আগ্রহী বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এছাড়াও সার্বিকভাবে উত্তরপ্রদেশের বুকে ধর্মীয় রূপরেখার ইস্যু ভোটে যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে তা বালই বাহুল্য।

 

বন্ধ করুন