বাড়ি > ময়দান > ‘শুটিয়ে লাল করে দেব, নোংরামি বার করে দেব', গার্সিয়ার মন্তব্য ঘিরে টুইটারে মোহন-ইস্ট সমর্থকদের লড়াই
লুইস গার্সিয়া। ছবি- টুইটার।
লুইস গার্সিয়া। ছবি- টুইটার।

‘শুটিয়ে লাল করে দেব, নোংরামি বার করে দেব', গার্সিয়ার মন্তব্য ঘিরে টুইটারে মোহন-ইস্ট সমর্থকদের লড়াই

  • এটিকের প্রথম মার্কি প্লেয়ারের ব্যক্তিগত মতামত নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় ঘটি-বাঙালের।

প্রথম মরশুমে এটিকের মার্কি প্লেয়ার ছিলেন লুইস গার্সিয়া। সেই নিরিখে তাঁর এখন মোহনবাগান সমর্থকদের কাছেও নায়কের মর্যাদা পাওয়া উচিত। তবে এটিকে-মোহনবাগানের এক হয়ে যাওয়া নিয়ে নিছক ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় মোহনবাগান সমর্থকদের রোষের মুখে লিভারপুল, বার্সেলসোনা, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে মাঠ মাতানো স্প্যানিশ ফুটবলার। বরং ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছেন এটিকের প্রাক্তন তারকা।

এটিকে-মোহনবাগান এক হয়ে যাওয়ার পর থেকেই ভিন্ন মতের দু'দল সমর্থকদের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় লড়াই চলছে নিরন্তর। একদল খুশি মোহনবাগানের জার্সির রং ও লোগোর ঐতিহ্য বজায় থাকায়। অন্যদলের মত, তিনবারের আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও এটিকে নিজেদের সত্ত্বা বিসর্জন দিল।

গার্সিয়া ঠিক এই ইঙ্গিতই করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তিনি দাবি করেন, গাঁটছড়া বাঁধার সময় এটিকের উচিত ছিল নিজেদের পরিচিতি বজায় রাখা। তিনি টুইটারে লেখেন, 'আমি ক্লাবের ঐতিহ্যকে সম্মান জানাই। তবে নিতান্ত আমার মত, এটিকেকে আরও একটু প্রাধান্য দেওয়া উচিত ছিল। যখন থেকে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ শুরু হয়েছে, এটিকেই সবথেকে সফল দল। তাকে এভাবে ছুঁড়ে ফেলা ঠিক নয়।’

গার্সিয়ার এমন মন্তব্যকে সমর্থন করতে দেখা যায় কিছু ভারতীয় ফুটবলপ্রমীদের, যাঁদের মধ্যে ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকরা রয়েছেন বেশি সংখ্যায়। আবার প্রাক্তন তারকার মন্তব্যের বিরোধিতায় নামেন একদল। বলে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না যে, এঁরা মোহনবাগান সমর্থক। গার্সিয়ার মন্তব্য ঘিরে আপাতত সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়ে গিয়েছে মোহন-ইস্ট সমর্থকদের দ্বন্দ্ব। বলা বাহুল্য, গার্সিয়া এখানে গৌণ। মুখ্য হয়ে উঠেছে ঘটি-বাঙালের কথার লড়াই। যদিও কেউ কেউ পরিসংখ্যান তুলে ধরে গার্সিয়াকে মোহনবাগানের মাহাত্ম্য বোঝানোর চেষ্টাও করেছেন।

চোখ রাখা যাক সোশ্যাল মিডিয়ায় গার্সিয়ার মন্তব্য নিয়ে মোহন-ইস্ট সমর্থকদের লড়াইয়ে।

ইন্ডিয়ান ফুটবল লাভার্স (ইস্টবেঙ্গল): ‘অনেক শতাব্দী প্রাচীন ক্লাব লিগের লোয়ার ডিভিশনে টিকে থাকতে সংগ্রাম চালাচ্ছে। নটিংহ্যামের মতো দলও একসময় ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়ন ছিল। এতেই প্রমাণ হয় যে, বর্তমান পরিস্থিতির কাছে ঐতিহ্য মূল্যহীন। যেহেতু এটিকের হাতে ৮০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে তাই নিজেদের জার্সির রং (লাল-সাদা) ও লোগো বজায় রাখা উচিত ছিল। সর্বোপরি এটিকে এই মুহূর্তে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন। মোহনবাগানের কোনও ভবিষ্যৎ নেই। ওরা ইতিহাস এবং ইতিহাস আঁকড়েই বাঁচতে চায়। (অন্য একটি টুইটে) ইস্টবেঙ্গল এর থেকে অনেক ভালো।’

ডি রায় (মোহনবাগান): ‘১৩১ বছরে ২৫০-র বেশি ট্রফি। ২০১৫ থেকে ২০২০ পর্যন্ত ভারতের অন্যতম ধারাবাহিক ফুটবল ক্লাব। দু'টো আই লিগ ট্রফি, একটা ফেড কাপ, একবার কলকাতা ফুটবল লিগ চ্যাম্পিয়ন, দু'বার আই লিগে ও একবার ফেড কাপে রানার্স (এই সময়ের মধ্যে)। আগে ফুটবলটা বোঝার চেষ্টা করুন, পরে *** মুখ খুলবেন। (শুটিয়ে লাল করে দেব, নোংরামি বার করে দেব)।’

শুভম (ইস্টবেঙ্গল): 'এটিকে সমর্থকদের কঠিন সত্যিটা মেনে নেওয়া উচিত যে, তারা খুব বেশিদিন টিকে থাকবে না। অনেক ঘটিরা অবশ্য এটিকের মানেই জানে না, অথচ গালাগাল দেয় আমাদের।'

দেবায়ন (মোহনবাগান): ‘মোহনবাগান শুধু ক্লাব নয়, ঘটি কমিউনিটির পরিচায়ক, যাদের মূল এদেশে হাজার হাজার বছর ধরে গাঁথা রয়েছে। ঠিক যেমনটা বার্সেলোনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কাতালুনিয়ার আবেগ।’

ইন্দ্র (ইস্টবেঙ্গল): 'কীসের ইতিহাস? যেখানে প্রতিষ্ঠা বর্ষ ১৮৮৯-এর অস্তিত্বই থাকল না লোগোয়। প্রতিষ্ঠা বর্ষ যখন নেই, ইতিহাসও নেই। এটা অর্থপিপাসুদের এক ধরণের সুবিধাবাদ।'

দীপ্তর্ষী (মোহনবাগান): 'এটা একটা গণতান্ত্রিক দেশ। সংযুক্তিকরণ হয়েছে সেই হিসেবেই। আমরা না হয় ভিখারি ক্লাব, আমরা না হয় বিক্রি হয়ে গিয়েছি। তা সত্ত্বেও আমরা এটিকের লোগো ও রং বদলে দিতে পেরেছি। এতে কি তোমাদের ফাটছে? এসো সেলাই করে দিই।'

বন্ধ করুন