বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ‘‌পাগল হয়ে যাচ্ছি এত টাকা টাকা শুনে’‌, মনোরঞ্জনের ফেসবুক পোস্টে বিতর্ক
মনোরঞ্জন ব্যাপারী, তৃণমূল বিধায়ক (ফেসবুক)
মনোরঞ্জন ব্যাপারী, তৃণমূল বিধায়ক (ফেসবুক)

‘‌পাগল হয়ে যাচ্ছি এত টাকা টাকা শুনে’‌, মনোরঞ্জনের ফেসবুক পোস্টে বিতর্ক

  • একুশের নির্বাচনের আগে থেকেই নানা ফেসবুক পোস্ট করেন তিনি। টোটো–চালক হিসাবেও তাঁকে দেখেছে বলাগড়ের মানুষজন।

আবার ফেসবুকে ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য করলেন বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। এই নিয়ে আবার শুরু হয়ে গেল রাজ্য–রাজনীতিতে চর্চা। কারণ এখানে নিজের অর্থকষ্টের কথা তুলে ধরতে গিয়ে আয়–ব্যয়ের হিসাব দিয়েছেন তিনি। আর তা নিয়েই যত চর্চা। একুশের নির্বাচনের আগে থেকেই নানা ফেসবুক পোস্ট করেন তিনি। টোটো–চালক হিসাবেও তাঁকে দেখেছে বলাগড়ের মানুষজন।

কী লিখেছেন তিনি ফেসবুক পোস্টে?‌ এদিন বলাগড়ের বিধায়ক লেখেন, ‘অসুবিধা হয়ে যাচ্ছে। যখন মানুষ আমাকে অন‍্য বিধায়কের মতো ভেবে চাঁদা নিতে দৌড়ে আসছে। মেয়ের বিয়ে দেব, টাকা দাও বলছে। কেউ এসে বলছে, কলেজে ভর্তির টাকা দাও। কেউ বলছে, ওষুধ কিনতে পারছি না, টাকা দাও। পাগল হয়ে যাচ্ছি এত টাকা টাকা শুনে।’ এখানে সবই ঠিক ছিল। কিন্তু ‘‌অন্য বিধায়কদের মতো’‌ শব্দচয়ন বিতর্ক তৈরি করেছে।

ফেসবুকে কী হিসেব দিয়েছেন বিধায়ক?‌ এখানে তিনি নিজের আয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। বিধায়ক হিসেবে তিনি মাসিক ভাতা পান ২৭ হাজার ৫০০ টাকা। তিনটি স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ায় সেখান থেকেও কিছু রোজগার হয় তাঁর। তিনি নিজের আয়ের উৎস ও টাকার অঙ্ক উল্লেখ করে লেখেন, ‘মাসে ৬টি বৈঠক হবে। চারটেতে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। না হলে টাকা কাটা যাবে। আর উপস্থিত থাকলে ষাট হাজার টাকা মিলবে। ৬০ আর ২৭, মোট মাইনে হবে সাতাশি হাজার পাঁচশো টাকা।’ বিধায়কের এতে চলছে না বলেই বার্তা দিতে চেয়েছেন। যা এখন ভাইরাল।

কেন এই টাকায় চলছে না বিধায়কের?‌ এই বিষয়ে তিনি লেখেন, ‘গাড়ির ভাড়া আর সারাদিনের যা তেল পোড়ে, সব মিলিয়ে হাজার দুই। গাড়িচালক নেয় মাসে ১২ হাজার টাকা। আর খাই খরচ ধরে নিন আরও তিন হাজার। সিকিউরিটি দু’জনের খাওয়ার জন‍্য ধরুন আরও ৬ হাজার। আমার সংসার খরচ ধরুন দিনে পাঁচশো। মাসে পনেরো হাজার। সব মিলিয়ে হয়ে যায় ৯৬ হাজার।’ তাহলে বাড়তি অর্থের প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। কিন্তু এমন প্রকাশ্য হিসেব আগে কোনও বিধায়ক দেননি।

এই পরিস্থিতিতে চা–টিফিনের খরচ চালাতে হয়। ডুমুরদহ ও জিরাটের দুই কার্যালয় সামলানোর দায়িত্ব যে দু’জনের, তাঁদেরও মাস গেলে ৬ হাজার টাকা করে দিতে হয়। তাহলে তাঁর খরচ দাঁড়াল এক লাখ ১২ হাজার থেকে এক লাখ ১৫ হাজার টাকার মতো। এই বাড়তি টাকা আসছে কোথা থেকে?‌ এই বিষয়ে তিনি লেখেন, ‘আমি আগে একটা চাকরি করতাম। যা ছেড়ে দিয়েছি। পিএফ বাবদ পেয়েছি চার লাখ টাকা। সেখান থেকে এনে বাড়তি খরচ করেছি। বইয়ের রয়্যালটি বাবদ বেশ কিছু টাকা আসে।’

বন্ধ করুন