বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > Jalpaiguri Anandchandra commerce College: জলপাইগুড়ি কমার্স কলেজে অধ্যক্ষের ‘বার ডান্সার’ মন্তব্যে তদন্ত কমিটি গঠন
জলপাইগুড়ি আনন্দ চন্দ্র কমার্স কলেজ।

Jalpaiguri Anandchandra commerce College: জলপাইগুড়ি কমার্স কলেজে অধ্যক্ষের ‘বার ডান্সার’ মন্তব্যে তদন্ত কমিটি গঠন

  • ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত জুন মাসে। কলেজের অধ্যক্ষ ড. সিদ্ধার্থ সরকারের বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছিল। কলেজের অধ্যাপকদের অভিযোগ, মহিলা অধ্যাপকদের উদ্দেশ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য করে অধ্যক্ষ বলেছিলেন, ‘আমি চাকরি না দিলে তোমরা বার ডান্সার হতে।’

জলপাইগুড়ি আনন্দচন্দ্র কমার্স কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অধ্যাপক এবং অশিক্ষক কর্মীদের ‘বার ডান্সার’ বলার অভিযোগ উঠেছিল। তার জেরে কলেজে অচলাবস্থা তৈরি হয়। সেই জট কাটাতে এবার তৎপর হল রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতর। এই ঘটনার তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করল উচ্চ শিক্ষা দফতর। সূত্রের খবর, কমিটির সদস্যরা আগামী ১৪ এবং ১৫ সেপ্টেম্বর কলেজ পরিদর্শন করে অধ্যক্ষ অধ্যাপকদের সঙ্গে কথা বলবেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত জুন মাসে। কলেজের অধ্যক্ষ ড. সিদ্ধার্থ সরকারের বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছিল। কলেজের অধ্যাপকদের অভিযোগ, মহিলা অধ্যাপকদের উদ্দেশ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য করে অধ্যক্ষ বলেছিলেন, ‘আমি চাকরি না দিলে তোমরা বার ডান্সার হতে।’ একজন অধ্যক্ষের মুখে এরকম কুরুচিকর মন্তব্যের পরে সরব হয়ে ওঠেন কলেজের অধ্যাপকরা। তাদের আরও অভিযোগ, মহিলা অধ্যাপকদের ঘরে নজরদারি রাখার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়েছেন অধ্যক্ষ ড. সিদ্ধার্থ সরকার। শুধু তাই নয়, কলেজের অধ্যাপকদের কোনও সংগঠনে করতে দেননি অধ্যক্ষ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘কলেজে কোনও রকমের সংগঠন করা যাবে না। আমি কোনও সংগঠন মানি না।' এমনকি একজন দৃষ্টিহীন অধ্যাপককে বাইকে করে রাস্তায় ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছিলেন অধ্যক্ষ।

কলেজের কমার্সের অধ্যাপক সব্যসাচী বসুর অভিযোগ ছিল, ‘রাতে একজন মহিলা অধ্যাপককে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়। তাকে চাকরি থেকে বার করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এই অবস্থায় কলেজে কাজের কোনও পরিবেশ নেই। আমরা মানসিক অশান্তির মধ্যে রয়েছি। এখন এরকম থাকলে কীভাবে আমরা ছাত্রদের পড়াব।’ অধ্যাপকদের আরও অভিযোগ, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেলে তিনি সংশ্লিষ্ট অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ছাত্রদের লেলিয়ে দেন। 

এই অবস্থায় অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছিলেন অধ্যাপকরা। যদিও এই সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি অনুশাসন মেনে কলেজ পরিচালনা করছি। তাই আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে। আমি পুলিশ সুপার-সহ অন্যান্য আধিকারিকদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি।’ এমনকি আদালতে গিয়ে আইনি লড়াই করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।

ঘটনায় অস্বস্তি শুরু হয় তৃণমূলের অন্দরেও। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দলীয়ভাবে কলেজের পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়। এরপরেই উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে গত বুধবার রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়।

বন্ধ করুন