নারকেল গাছের পাতায়রুগোজ স্পাইরালিং হোয়াইট ফ্লাই-এর বসত।
নারকেল গাছের পাতায়রুগোজ স্পাইরালিং হোয়াইট ফ্লাই-এর বসত।

হঠাৎ সাদা হয়ে যাচ্ছে গাছের পাতা, চাঞ্চল্য ছড়াল দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে

মাছির মতো দেখতে হলেও মাছির থেকে বেশ বড় এই কীটগুলি। পূর্ণাঙ্গ মাছির ডানায় এক জোড়া হালকা বাদামি বিন্দু থাকে।

হঠাৎ সাদা হয়ে যাচ্ছে নারকেল-সহ বিভিন্ন গাছের পাতা। সোমবার সন্ধ্যার পর তাতেই আতঙ্ক ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায়। দেখা যায় গাছের পাতার নীচে সাদা মোমের মতো পরত। অনেকে এর সঙ্গে করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে নানা গুজব ছড়াতে থাকেন। যদিও উদ্ভিদ ও কৃষিবিজ্ঞানীরা বলছেন, একটি একটি মামুলি কীটের আক্রমণ মাত্র।

কৃষিবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নারকেল বা অন্য কোনও গাছের পাতা হঠাৎ সাদা হয়ে যাওয়ায় আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। এটি রুগোজ স্পাইরালিং হোয়াইট ফ্লাই নামে একটি কীটের আক্রমণে ঘটে। কীটটির বিজ্ঞানসম্মত নাম অলিওরোডিকাস রুগিওপারকুলেটাস। ২০০৪ সালে মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন দেশে নারকেল গাছে এর প্রকোপ দেখা গিয়েছিল। ২০১৬ সালে ভারতে প্রথম তামিলনাড়ুতে এর আক্রমণ দেখা যায়। এর পর পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দকুমার ও মহিষাদলে এই কীটের দেখা মিলেছে। নারকেল ছাড়াও আম, জামরুল, সপেদা, কাঁঠাল-সহ ৩৫টি গাছে এই কীট বাসা বাঁধে।

মাছির মতো দেখতে হলেও মাছির থেকে বেশ বড় এই কীটগুলি। পূর্ণাঙ্গ মাছির ডানায় এক জোড়া হালকা বাদামি বিন্দু থাকে। পাতার নীচে স্ত্রী মাছিগুলি চক্রাকারে প্রায় ২০০টি ডিম পাড়ে। এর পর তুলোর মতো আঁঠাল আস্তরণ দিয়ে ডিমগুলিকে ঢেকে দেয়। ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ মাছিতে পরিণত হতে প্রায় ১ মাস সময় লাগে।

কৃষিবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই পোকার আক্রমণে গাছের ব্যাপক ক্ষতি হতে থাকে। এই কীটের নিম্ফ গাছের পাতার রস চুষে খেতে থাকে। যার ফলে পাতা শুকিয়ে যায়। তাছাড়া এই পোকার মুখ থেকে এক রকম মিষ্টি রস নিঃসরণ হয়। যাতে শুটি মোল্ড ছত্রাকের আক্রমণ ঘটে। এর ফলে পাতা কালো হয়ে যায়। রাতে এই কীটের আক্রমণে প্রভাবিত পাতায় আলো পড়লে চকচক করে। এই পোকার তৈরি তুলোর মতো আঁঠালো পদার্থটি আলোর খুব ভাল প্রতিফলন ঘটায়। ফলে পাতা সালোকসংশ্লেষ করতে পারে না এবং গাছটি ধীরে ধীরে শুকিয়ে মারা যায়।

রাসায়নিক কীটনাশকে এই পোকা বধ করা নিরাপদ নয় বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা। তাঁদের দাবি, রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করলে এই পোকা আরও ব্যাপক শক্তি নিয়ে ফিরে আসতে পারে। পরিবর্তে জৈব কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।

সেজন্য এনকারসিয়া নামে একটি বন্ধু পরজীবীকে ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। সেজন্য এনকার্সিয়ার ডিম সহ পাতা আক্রান্ত গাছে গুঁজে দিতে হবে। এছাড়া আইসেরিয়া ছত্রাক প্রতি লিটার জলে ৫ গ্রাম হিসাবে আঁঠা দিয়ে গুলে সন্ধ্যায় স্প্রে করতে হবে। ১৫ দিন পর ফের একবার স্প্রে করতে হবে।

কোনও গাছ মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হলে ১ শতাংশ সাবানগোলা জলে ১ শতাংশ নিম তেল মিশিয়ে পাতার নীচে স্প্রে করতে হবে। এক্ষেত্রেও ১৫ দিন পর ফের মিশ্রণ বানিয়ে স্প্রে করতে হবে।



বন্ধ করুন